কোরবানীর ঈদে ৯দিনের ছুটির সাথে বাৎসরিক ছুটি ৩০দিন মিলিয়ে চলে গেলাম দেশে।তারপরও যথেষ্ঠ না হওয়াতে আরো ১৫দিন বেশী থাকলাম। টিকেটের তারিখ বদলের জন্য গুনতে হলো নগদ সাড়ে সাত হাজার। আর বাড়তি ১৫দিন তো বেতনই পাবো না। তবু প্রিয়জনদের সান্নিধ্যের জন্য এটা (আমার মত অনেক প্রবাসীদের কাছে)কিছুই না। শুধু একটা প্রশ্ন প্রবাসীদের এই টিকেট বদলের জরিমানাটা কি না নেওয়া যায় না বা কমানো যায় না?অন্ততঃ মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে। কারন সবার ভাগ্যে বছর বছর যাওয়া বা নির্দিষ্ট তারিখে ফেরত আসাও সম্ভব হয় না। আমি এমন অনেককেও দেখেছি বেতনের স্বল্পতার কারনে ৫/৬ বছরে যেতে পারে না আর কোম্পানীগুলির আইনে ২ বেশী হলে ৩ মাসের বেশী ছুটি পাওয়া যায় না।তাও আবার তাদেরকে টিকেটের রিটার্ন তারিখ দেখাতে হয়।যদিও বেশীর ভাগ লোকই ৪ থেকে থেকে ৫ মাসের আগে আসে না বা আমারই মত প্রিয়জনরা আসতে দেয় না। সেখানে এই বাড়তি টাকাটা কিন্তু তাদের জন্য বোঝা হয়ে যায়। সরকারের একটু সদয় দৃষ্টি কামনা করছি।আবার এর একটা বাড়তি সুফলও আছে,তা হলো প্রবাসীরা তাহলে অন্য এয়ার লাইন্সের চেয়ে বাংলাদেশ বিমানকেই প্রফার করবে বেশী।সাথে সময় মত ফ্লাইট সিডিউল এবং টিকেটের মূল্য একটু কম হলে তো সোনায়-সোহাগা।বিশেষ করে যেখানে কাতার,আমিরাত,ফ্লাই-দুবাই ইত্যাদি এয়ারলাইন্সের ফেয়ার তুলনা মূলক ভাবে বেশ কম।
সেই চির পুরাতন ঢাকাকে নূতন করে দেখলাম। প্রতিবছরই যেমন দেখি। কমন জনগনের ভীর,পথ চলতে ঢাক্কা খাওয়া।রিক্সা আর গাড়ীর জ্যাম। টিংটিং আর হর্নের “কান মাতানো” আওয়াজ। হোন্ডাবাজদের কেরীকাটা বা ড্রিবলিং সবই প্রতিবছরই বেড়ে চলেছে।র খানা-খন্দর কথা না বলাই ভাল। ফ্লাইওভারের খোড়াখুড়ির সাথে পল্লা দিয়ে চলছে বিভিন্নসব সরকারী কাজ। টিএন্ডটি গর্ত করলোতো পাশাপাশি শুরু হলো ওয়াসা বা রাস্তা মেরামতের কাজ।ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতায় খিলগাঁও থেকে ধানমন্ডি যেতে আমার একঘন্টা লেগেছে।ভাবছি মেয়েটা প্রতিদিন কিভাবে শুধু পড়ার জন্য হাসিমুখে এই কষ্টাটাকে মেনে নিচ্ছে? তারপরও সবাই মেনে নিচ্ছে ভবিষ্যতের আশায়। একদিন না একদিন তো এসবই শেষ হবে।
সেই পরিচিত মসজিদের সহর ঢাকাকে এখন গাড়ী আর হোন্ডার শহর বলাই যায়। বছর বছর যার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এমনকি লেটেষ্ট মডেলও।দেখে মনে হলো দেশ আর সেই চেনা গরীব নেই। বড় বড় ইমারত,বিল্ডার্সদের কেরামতি পুরোই বদলে ফেলছে ঢাকাকে।ভাবে মনে হলো দেশে এখন তিনটির স্থানে দু’টি শ্রেনী থাকবে,উচ্চবিত্ত আর নিম্নবিত্ত। উধাও হয়ে যাবে বা গেছে মধ্যবিত্ত। একবার গিয়েছিলাম কয়েক পুরানো বন্ধু মিলে যেখানে জীবনের সোনালী দিনগুলি কাটিয়েছি,উদ্দাম,উচ্ছলতায়।কি দেখলাম?? বিকেল বা একটু বৃষ্টি হলেই যে সব মাঠে আমরা নেমে পড়লাম ফুটবলে আজ সেখানে অমুক সংঘ,তমুক সংস্থা, বিভিন্ন ক্লাবের নামে দখল হয়ে গেছে। যাও বাকী তা জঙ্গল আর আগাছায় ভরা। যে নারকেল গাছটিকে ঘিরে আমাদের রাতের আড্ডা জমতো (কফি হাউসের মত),যে যেখানেই থাকতাম আর যাই করতাম সন্ধ্যের ঠিক পরেই এখানে হাজিরা দিতেই হতো।এলাকার বাহিরেরও অনেকে থাকতো,রাজনৈতিক মতামত ভেদে। আর আজ?উত্তর আপনাদের জানা।
বিশেষ একজন ব্লগার যার সাথে পরিচয় এই ব্লগের মাধ্যমেই। তার সাথে দেখা করলাম। মুগ্ধ হলাম তার আতিথেয়তায়। কত সহজেই না আপন করে নিলো,সহৃদয়তার সাথে,ঠক অনুজের মত।বলেছিলাম একদিন যাবো পজন্ম চত্তরে। বা ব্লগারদের আড্ডায়। জমিয়ে তুলবো আলোচনা।কিন্তু আমার সময় হলে তর হয় না আবার তার হলে আমার হয় না। এই করে শেষে উৎসাহই হারিয়ে ফেললাম। যাওয়া হলো না। খুব ইচ্ছে ছিলো যদের সাথে লিখছি,যরা উৎসাহ-উদ্দিপনা দিয়েছে তাদের দেখার,কথা বলার। হলো না কিছুই। এমনকি সার আগ মুহুর্তে পর্যন্ত তার সাথে দেখা হলো না। আমি ক্ষমাপ্রার্থী তার কাছে।।
খুব সংক্ষেপে লিখলাম আমার দেশের অভিজ্ঞতা। বড় করলে অনেকে পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।আর একটা বিষয় যা উল্লেখ না করলেই নয়,হরতাল। একসময় দেখেছি কোনদল হরতাল ডাকলে কাক-পক্ষীও উড়তে ভয় পেতো,আর আজ হরতালে সব চলে(বাধা না পেলে)। আর বিরোধী দল কোন প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারছে না। আপনাদের দৃষ্টিতে কি বলে জানি না??? আমার চোখে পঙ্গু। কারন কঠিন বিরোধীদল না হলে সরকার বদল সম্ভব না।। আর যা বর্তমান বিরোধীদলের পক্ষে সম্ভব না।।
আরেকটি প্রবাদবাক্যের কথা মনে পড়ে গেল,একসরকার না হলে দেশের উন্নতি সম্ভব না। হয়তো এটি ধ্রুব।।
আরো অনেক কথা লেখার ছিলো পারি নি সমালোচনার জন্য। যোগ্য সমালোচোলনাকে আমি সন্মান করি।।কিন্তু………………….।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



