গেল রবিবার,৮ই মার্চে হয়ে গেল জাতিসংঘ স্বীকৃত আন্তর্জাতিক নারী দিবস।।মহা উৎসাহের সাথে পালিত হলো নারীদের রাজনৈতিক,সামাজিক,অর্থনৈতিক অধিকার আদায়ের সাফল্যের দিন হিসাবে।। প্রায় প্রতিটি দেশেই।।প্রতিটি বছরই পালিত হয় দিবসটি,নারী স্বাধীনতা,অধিকার আদায়ের সাফল্য এবং প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে।। এমন কি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতেও।।প্রতি বছরের বছরের তুলনায় এবারও তার ব্যতিক্রম হয় নি।।
ভেবেছিলাম দিবসটি উপলক্ষ্যে কিছু লিখবো,সেদিনটিতেই।। কিন্তু সময় ও সুযোগ হয়ে উঠে নি।। কাল-পরশু ছুটি,তাই আজ বসলাম।। পাঠকদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।।একটু ঘুড়িয়ে বলি যদি, দিবসটি নারীদের পাওয়ার নয়,বরং তাদের সংগ্রাম সম-অধিকার তথা বেতনের বৈশম্য আর রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের পথে এগিয়ে যাওয়ার।।এখানে উল্লেখ্য,যদিও আমাদের দেশসহ পার্শ্ববর্তি কয়েকটি দেশসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশে নারীরা রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করলেও তাদের বিরাট একটা অংশ (বলাই বাহুল্য,একমাত্র তারা ছাড়া)এখনো নির্যাতিতা,বঞ্চিতা।।কোন প্রকার অধিকারতো দুরের কথা,নিজ গৃহেই তারা তারা দেবদাসী!!বিভিন্ন ভাবে তারা অত্যাচারের শিকার হচ্ছে। তালাকের নামে,অনার কিলিংএর (বিশেষ করে ভারত,পাকিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে) নামে,মিথ্যে বদনামের নামে।।গালাগালি আর মারধরের কথা উল্লেখ আর করলাম না।। এ ব্যাপারে পাঠকদের শুধু এটুকুই বলতে চাই,আজ আমরা ভাই,পিতা ও স্বামী।।ঘরের বাহিরে ঠিক আমরা “যা” করছি(সবাইকে এক পাল্লায় তুলছি না,তবে অধিকাংশই)ঠিক সেই কাজটিই যদি আমাদের বোন,মেয়ে বা স্ত্রী করতে যায়?? প্রতিক্রিয়া কি হবে??এখানেই নারীদের প্রতি আমাদের যত সন্মান ও শ্রদ্ধা!!
এতকিছুর পরও আমরা দেখি এইদিনটির অনুকুলে সারাবিশ্বেই প্রায় নারীরা তো বটেই,পুরুষদেরও অনেক কথা বলতে দেখা যায়।।কিন্তু লক্ষ্যে পৌছানো কি সম্ভব??যেখানে স্ত্রী কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেই আমাদের দেশেই অনেক পিতাসহ আত্মীয়-আত্মীয়াদের মুখ কালো হয়ে যায়।।
উল্লেখ্য সারাবিশ্বে শুধু চীন,রাশিয়া আর কিউবা ছাড়া আর কোন দেশেই দিনটিকে নারীদের ছুটি দেয়া হয় নি।।উল্লেখিত দেশগুলি ছাড়া যত সভা-সমাবেশ,লংমার্চ হয়েছে অফিস ছুটির পর নয়তো বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে।।
এপ্রসঙ্গে বিশ্বের তিন প্রধান নারী ব্যক্তিত্ব হিলারী ক্লিনটন,মেলিন্দা গেট্স এবং চেলসিয়া ক্লিনটন এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন যে,মেয়েরা এখনো নেতৃত্বের ব্যাপারে পুরুষদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছে।।১৯৯৫ সালের বেজিং সম্মেলনে ঘোষিত কর্মসূচীর প্রেক্ষীতে “নো সিলিং”এর রিপোর্টে এটা প্রকাশিত হয়।। যেখানে তৎকালীন আমেরিকান ফার্ষ্টলেডী ঘোষনা করেছিলেন,মানবাধীকারকে নারীদের অধিকার এবং নারীদের অধিকারই মানবাধীকার হিসাবে গন্য করা হোক।।কিন্তু আজ ২০বছর পরও নিউইয়র্ক টাইমসের জরীপে দেখা যাচ্ছে,৩০%ভাগেরও কম নারী মন্ত্রীত্বে আসতে পারছে।। ৫%ভাগের মত আছে আফ্রিকা এবং ল্যাটিন আমেরিকায়।। তাও শিক্ষা,স্বাস্থ্য,সমাজকল্যানের মত লো প্রোফাইলে।। বাদ পড়ে যাচ্ছে অর্থ,প্রতিরক্ষার মত হাই প্রোফাইল থেকে।।একদম যে নেই তা বলছি না।। আছে তবে ১৮৯টি দেশের মধ্যে মাত্র ২৪টি দেশে।।জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের বক্তব্য অনুসারে ৫টি দেশের সংসদে কোন নারী সদস্য নেই এবং ৮টি দেশের মন্ত্রীসভায় নেই কোন নারী সদস্য।।ব্যাসায়ীক ক্ষেত্রে মাত্র ৫%ভাগ CEO হিসাবে আছে,৫০০ কম্পানীর মাঝে।।তবে আশার কথা এই যে,এক্ষেত্রে পর্তুগাল ও নরওয়ের নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে।।
এতকিছুর পরও যথাযথ ভাবে বলতে গেলে বলতে হয় সিরিয়া,ইরাক, এবং আফ্রিকায় নির্যাতিতা হচ্ছে নারীরাই বেশী।। বন্দী হচ্ছে,নিহত হচ্ছে,ক্ষেত্রবিশেষে বাধ্য হচ্ছে বিবাহে।তবে পুরুষ হিসাবে বলছি,যে পর্য্ত আমাদের মন-মানসিকতার পরিবর্তন না আসবে সে পর্যন্ত নারীদের সব অধিকার অর্জনে একটা বিরাট প্রতিবন্ধকতা থেকেই যাবে।। কারন আমরা নারীদের দেখি “পন্যদ্রব্য”বা (লজ্জার হলেও) ভোগের দৃষ্টিতে।। যার প্রমান হিসাবে বলবো বিভিন্ন পন্যের প্রচার এবং প্রসারকল্পে নারীমডেলদের প্রাধান্যে।।দেখি লাস ভেগাস,হংকংসহ বিভিন্ন দেশের জুয়া এবং মদের আসরে,আর দেখি সরকারের তত্বাবধানে পতিতালয়ে।।এখানে International Democratic Women Foundation এর ঘোষিত লক্ষ্য এবং আদর্শ একেবারেই লংঘিত।।আছে কি??

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




