একটু পড়ার নেশায় হাতের কাছে যা পাই,তাই পড়ি।। বিশেষ করে পত্রিকা বা বই আর এটা হতে পারে বাংলা বা ইংরেজী।।বাংলা ম্যাগাজিন বা পত্রিকা এখানে প্রায় পাওয়াই যায় না।। সপ্তাহের শুক্রবারে যাও কয়টা আসে তাও পাওয়া যায়,বাঙ্গালী অধ্যুষিত কয়েকটি এলাকায়।। তাই খবরা-খবর জানার একমাত্র মাধ্যম নেট।।
তাও মিডিয়ার কল্যানে যা পাই তাহলো নিজ নিজ রাজনৈতিক দর্শন অনুযায়ী খবর।। একদলের খবর দেখে মনে হয় আমরা মালয়েশিয়াকে পিছনে ফেলতে যাচ্ছি।। তো আরেকদলের খবরে একবারেই ভিন্ন দৃশ্য।।বোধহয় পিছনে যাবার আর পথ নেই।।কষ্ট হয় আসল অবস্থা খুজে বের করতে।। হয়তো প্রশ্ন উঠতে পারে সত্যির পিছনে এত মগ্ন কেন? হতেই হবে কারন আমার প্রিয়জনরা যে হেথায় বসবাস করে,তাই।।যাক এসব কথা বাদ দিয়ে এবার আসল কথায় আসি।।
সেদিন নেটে পত্রিকা পড়তে পড়তে হঠাৎ একটি খবরে দৃষ্টি আটকে গেল।। CIAর একটি রিপোর্ট।।টাইটেল ‘The Preparation of a Middle East post Isreli Era’ যা আরো ১৬টি দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সহযোগীতায় প্রকাশ হয়েছলো।। উৎস থাকলেও তারিখ খুজে পেলাম না।
রিপোর্টটিতে যা ছিল (সত্য-মিথ্যা,বা বাস্তব-অবাস্তব জানি না) তাই আমি শেয়ার করছি।।এখন পাঠকরা যা খুশী তা ভেবে নিতে পারেন শুধু আমাকে এব্যাপারে প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকলেই খুশী হবো।। কারন আমি শুধু অনুবাদক,সব দোষ প্রকাশকের।।রিপোর্ট অনুযায়ী ইসরাইল দেশটির অস্তিত্ব ঝুকির মাঝে পড়ে যেতে পারে ২০২৫সালের মাঝেই।।না,ইরানের বোমায় বা প্রতিবেশী দেশগুলির আক্রমনে নয় বরং তার নিজস্ব অভিবাসন এবং এই অভিবাসীদের জন্যই।। কারন যে বিপুল পরিমানে অন্যান্য দেশের ইহুদীরা একটু “শান্তি এবং আশ্রয়ের” জন্য এদেশে এসেছিলো দখলীকৃত ফিলিস্তীনের সে এলাকাগুলি তাদের সেই প্রত্যাশিত নিরাপত্বা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।।কারন ফিলিস্তিনীদের চোড়াগোপ্তা হামলা এবং গতযুদ্ধ।।
ফলশ্রুতিতে আফ্রিকা থেকে আসা বিশাল জনগোষ্টির মাঝে প্রায় ৫লক্ষ লোক ইতিমধ্যেই তাদের নিজ নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করেছে।। তালিকায় আছে,প্রায় ১মিলিয়ন রাশিয়ান অভিবাসী,প্রায় সমসংখ্যক ইউরোপীয়ান অভিবাসী (বিশেষ করে পূর্ব ইউরোপের)তাদের নেটিভ দেশেই আগামী ১০বছরের মাঝে ফিরে যাবার কথা ভাবছে।।
রিপোর্টে আরো উল্লেখ করা হয় যে,জন্মহার ইহুদীদের চেয়ে ফিলিস্তিনিদের অনেক বেশী তদ্রুপ মৃত্যুহারও।।আরো বলা হয় যে,ইসরাইল সরকারের গতযুদ্ধে এবং পরবর্তি পর্যায়ে যে পরিমাম হিংসাত্মক কর্মকান্ড তথা ঘরবাড়ি ধ্বংশ,শিশু এবং নারীহত্যার পরিমান,গাজা উপত্যকায় ব্লকেড,হাসপাতাল এমনকি আন্তর্জাতিক সংস্থাসমুহের কার্যালয়ে বোম্বিং সবই করা হয়েছে আন্তর্জাতিক আইনের কোন তোয়াক্কা না করে।
ফলশ্রুতিতে অনেক দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি তাদের এই রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন বদলের আভাস দিচ্ছে।।বিশেষ করে আমেরিকান ও ইউরোপীয়ান জনসমর্থন হ্রাসের ব্যাপারটাও উঠে এসেছে।। এব্যাপারে রিপোর্টটিতে উল্লেখ করা হয়,প্রায় হাফ মিলিয়ন ইসরাইলী যারা যৌথভাবে আমেরিকান পাসপোর্টেরও অধিকারী, তাদের মাঝে ইউরোপের নাগরিকত্ব লাভের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়া।। এটা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে ভবিষ্যত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের আশংকায়।। গত ৬০বছরেও ইহুদী রাষ্ট্রে যা সম্ভব হয় নি,তা হবে।। রিপোর্টটি আমেরিকান কংগ্রেসম্যানদের মাঝেও বিতরন করা হয় বলে প্রকাশ।।
অনেক পর্যবেক্ষক আরো অবাক হয়ে যান যখন বিভিন্ন উৎস প্রকাশ করে যে,ইসরাইলের একনিষ্ঠ সমর্থক এবং আমেরিকান ইহুদী ডঃ হেনরী কিসিঞ্জারও রিপোর্টটির বস্তবতা স্বীকার করে নেন এই বলে যে, “Israel will actually not exit after 2025”। বর্তমানে ‘The New York Post’এ বর্তমানে কর্মরত তার প্রাক্তন সহকারীর বক্তব্যেও এর সমর্থন পাওয়া যায়।।যদিও তিনি প্রতিবাদ করেছেন ডঃ কিসিঞ্জারের এই বক্তব্য অনেক ইহুদীকে মানসিকভাবে আহত করেছে বলে।।
প্রাক্তন মোসাদ প্রধান Mayor Dagan ২০১৪র এপ্রিলের এক বিবৃতিতে বলেন, ঠিক এই মুহুর্তে আমরা শেষ না হলেও বলতে পারি আমাদের ভবিষ্যৎ উজ্জল না।।
এই ছিলো মোটামুটি রিপোর্টটির সারাংশ।। সবটা পড়ার পর বর্তমান বিশ্বে তাকিয়ে আমারও রিপোর্ট টিকে বিশ্বস করতে মন চাইছে না।। কারন যেখানে ইসরাইলকে সব ধরনের বিপদ থেকে মুক্ত রাখার জন্যই “নূতন মধ্যপ্রাচ্যের রোডম্যাপ” আঁকা হয়েছে সেখানে এধরনের রিপোর্ট!! দ্বন্ধে ফেলতেতো আর মিডিয়ার জুড়ি নেই।। গোয়েবলসীয় প্রচারতো এখন বেড়েছে বই কমে নি।।বিরোধীদের প্রোপাগান্ডাও তো হতে পারে।। আজকালতো বাস্তব যুদ্ধের আগে শুরু হয় প্রচার যুদ্ধ।।এতে যেই অগ্রগামী জয়ও তার।। উদাহরনও দেয়া যাবে অনেক।। কিন্তু লেখাটি অহেতুক বড় হয়ে যাবে বলে বরত রইলাম।। তবুও ভাবছি।। আর সাথে আপনারাও ভাবতে থাকুন।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

