দেশ স্বাধীন হল সবাই সব কিছু ফিরে পেল। পাখি নীড় বাঁধার স্বপ্ন সত্য হল। মুক্তির কাঙ্গাঁলী মানুষ অবশেষে নিঃশ্বাস নিল জোরে। মায়ের আঁচল থেকে রক্ত ভেঁজা গন্ধ সাময়ীকের জন্য শুকলো। নির্যাতিত মেয়েটির দরিয়ায় বিলীন হল। স্বামী হারা বধূঁর কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারি হল। সময়ে কাল ক্ষেপনে।
জলের স্রোতের ধারায় চিরন্তন নিয়মে সব কিছু পালটে - যার যার মত গড়ে উঠল। দেশের মাটি ছুঁয়ে শপথ করে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিল জননীর পায়ে। তোমার আদেশ পালন করতে সেই ৪৮ থেকে ৭১ পর্যন্ত রক্ত ঝরানো হল দেশ মাত্তিকার বুকে। তবু তোমার সন্তানেরা স্বস্তি পেলনা স্বাধীনতার ৩৭ বছর পরও ! মা - তোমার বুক থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত ঝরে।
একটি পরিবার
তারই একটি পরিবার তোমাদের সামনে তুলে ধরছি -
মুক্তিযোদ্ধা " মোঃ তাজুল ইসলাম " - তিনি ছিলেন তৎকালীন সময়ে বীর সৈনিক। বীর শ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান এর দলে একজন সহযোদ্ধা। যার কামানের গোলা বারুদের আঘাতে তথা শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, মৌলভী বাজারের পাক-বাহিনীরা নিচ্ছিন্ন হল। শত্রু মুক্ত হল - তার পরও! পরগাছার মত শিকড়গুলো আমাদের মাঝে রয়ে গেছে। তার জন্য আজ আমাদের সোনার বীর সন্তানদের এমন অধঃপতন। আজ সমাজ ও দেশ জাতির চোখে অবহেলিত, নির্যাতিত। দেশের সরকার যতবার বদল হয়। সরকার মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের দায়িত্বের প্রতি নজর দেননি। তাদেরকে অনেক আশার বাণী শোনায় - কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সামান্যতম সাহায্য করে। সমাজের বিবেকবান মানুষ খোঁজ করে দেখে না তাদের দূরাবস্তা। সরকারের দেয়া প্রতিশ্রুতি কোন মহলের কাছে যেন দায়দ্ব।
মুক্তিযোদ্ধা "তাজু" এমন এক কঠিন বাস্তবের সম্মুখীন হলেন - যুদ্ধের শেষে বাড়ী ফেরার পর। দেখলেন বাবা খুবই অসুস্থ! তিনি তার সমস্ত জায়গাজমি বিক্রি করে বাবার চিকিৎসার টাকা যোগার করলেন। কিন্তু তারপরও বাবার জীবন রক্ষা করতে পারলেন না। তারপর নিস্ব হয়ে কঠিন বাস্তবের সম্মুখীন হলেন। এখন বর্তমানে তিনি শ্রীমঙ্গলে অবস্তিত হোসেনাবাদ নামক চা বাগানে চৌকিদাড়ি করেন দৈনিক মাত্র ৩৫ টাকা মজুরিতে। যা এ যুগে অবিশ্বাস্যজনক। মনে প্রশ্ন জাগে তার পরিবারের ছয় সদস্য সৃষ্টি কর্তার কছে কি এমন দোষ করেছিল ? যে তিন বেলা ভাত তাদের মুখে উঠেনা।
বর্তমানে তার তিন ছেলে বাবাকে ছেড়ে নিজ নিজ সংসার নিয়ে ব্যস্ত। এক মেয়ে স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাবার বোঝা হয়ে দাড়িয়েছে। আরেক মেয়ে সংসারের দূরাবস্তার কারনে মেধাবী হ্ওয়া সত্ত্বেও অনার্স ভর্তি হ্ওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। অন্যদিকে যৌতুকের অভাবে মেয়ের সুন্দর সংসার দেখার স্বপ্ন বিলিন হয়ে যাচ্ছে বাবার।
হাজারও কষ্টের মাঝে তাজুল ইসলাম দু'ই মেয়েকে নিয়ে দিন যাপন করছে। তাদের প্রতি কেউ সাহায্যে হাত বা সহানুভূতি দেখায়নি। তাদের কষ্ট দেখে বর্তমান সমাজের মানুষের মনের কড়া নড়েনি। এতই দুঃখ - যন্ত্রনা সহ্য করে মানুষের কাছে কিছু চাওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। কার কাছে তাদের দুঃখ দু'অবস্থার কথা বলবে। কাউকে শুনানোর মত বা বলার মত মানুষ এ সমাজে নেই।
আমরা শুধু দেশ মাত্তিকার শত্রুদের নিয়ে ব্যস্ত। দেশের জন্য যারা লড়েছে [ জীবন দিয়েছে ] তাদের কথা কেউ মনেও রাখেনি। মনে রেখেছে শুধু সমাজের শত্রুদের। যারা দেশ মাত্তিকার বুক থেকে ক্ষুন চুষে নিচ্ছে অবিরত তারাই নাকি দেশের জন্যে লড়েছে।
এখন এখন বাস করে ইটের তৈরি রাজপ্রসাদে আর তাদের গাড়িতে উড়ে স্বাধীন বাংলার লাল সবুজের পতাকা। তা হলে কি? কলংকিত হলনা আমার বাংলা মা। [সারা জীবন শুধু কি তারা দিয়েই যাবে বিনিময়ে তারা কি পেল বাংলা মায়ের বীর সন্তানেরা। এটাই জাতির কাছে . . . . . . . .?]
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


