
সেদিন আকাশে মেঘ ছিলোনা। উদভ্রান্ত জোছনাও ছিলোনা। কিন্তু আকাশভরা উত্তাল নক্ষত্র ছিলো। শুক্লাষষ্ঠীর সে রাতে তনয় মজুমদারের বিয়ে হচ্ছিল ব্রজমোহন কমিউনিটি সেন্টারে। আমার জোড়াচোখ উপস্থিত না থাকলেও অদৃশ্যমনা মনচোখ উপস্থিত চিলো। বহুরঙা আলোর ঝরনা ভরা সে মঞ্চে আমার পা’ পড়েনি তবুও আমার বিচরণ ছিলো পাথর ধূলোর সেই ধূসর সমুদ্রবনে।
মানবজমিনের আশ্চর্য বন্ধনের নাম “বিয়ে”। অনেক অচেনার, অভাবনার নতুন পথ কিংবা অনেক চেনার যুগলযাত্রাও বলা যায়। মাথার সিঁথিতে সিঁদূর পড়ে, হাতে শঙ্খবন্ধনী নিয়ে যে নতুন যাত্রাটা শুরু হয় সেটা নিছক কোন খেলার জন্য নয়। আজীবন পাশে থাকার অন্ধ-বিশ্বাসের খেলা। বিয়ে শুধু সাময়িক আনন্দই দেয়না বরং একটা দায়ভারের দারুণ/নিদারুণ ভবিষ্যতও বাতলে দেয়। বাতলে দেয়া পথ তৈরি করে সামনের খুনসুটি আর মানবীয় দানবীয় দিনরাত।
সে রাতে কমলগঞ্জ নিবাসী অরুপ রতনের একমাত্র মেয়ে ‘সুগন্ধা রাই’ এর সাথে তনয়ের শুভ পরিণয় হলো। সে নক্ষত্ররাতে আমি জলহীন আত্রাখালী নদী’র ব্রীজের উপর অনেকক্ষণ অব্দি পায়চারী করেছিলাম। উত্তরাকাশের নিদারুণ নীলম তারাগুলো একটানা মধ্যকর্ণের আঙ্গিনায় সানাই বাজিয়ে যাচ্ছিলো। আমি সেই সুরে উচ্ছল পদযুদ্ধে উড়ছিলাম।
সে রাতে একরাশ অদ্ভুতানন্দ নিয়ে নিজের সাথে নিজেই খেলতে-খেলতে আকাশের পথ পাড়ি দিয়েছিলাম। শূণ্য হবার তিক্ত প্রয়াসের ক্রমবর্ধমান জীবনে আমার অনুপস্থিতি হয়তো ততটুকু ম্লান করবেনা এই চেনা জগৎকে, যতটুকু উপস্থিতিতে হয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১০:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




