somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন মা ও একজন বাবা

১১ ই মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৩:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


একজন সন্তানের জীবনে নাকি মা ও বাবার সমান প্রয়োজনীয়তা রয়েছে । কেন এই কথাটা জ্ঞানীরা বলে গিয়েছেন এটা আমি মাঝে মাঝে বুঝতে পারি না । হ্যাঁ , এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে ভ্রূণ তৈরীর জন্য শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন দরকার এবং এটা একক কোন নারী ও পুরুষের শরীরে থাকে না । তাই নারী এবং পুরুষ দুজন মিলে সন্তান জন্মের প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে থাকেন । কিন্তু তার পর বাবার কি প্রয়োজন ? সন্তান জন্ম দানের অর্থ সংস্থানের জন্য ? নাকি সন্তানের লেখাপড়া, কাপড় চোপড় ও ডাক্তারের খরচ যোগানের জন্য ?
এবার আসুন দেখি সন্তান জন্মদানের খরচের জন্য আসলেই বাবার দরকার আছে কিনা ? এক কথায় না , বাবার দরকার নাই । কারণ সন্তান জন্ম নেওয়ার সময় মেয়েরা তার নিজের মা বাবার কাছেই বেশির ভাগ সময় থাকে ( যাদের মা বাবা একেবারে গ্রামে থাকে বা অন্য দেশে থাকে তাদের কথা আমি বলছি না ) । মেয়েরা নিজের মায়ের কাছে থাকে এটা বেশিরভাগ সময় শখ করে নয় উপায়হীন হয়ে । শ্বশুর বাড়িতে নিজের মা যেভাবে যত্ন করেন সেটা পাওয়া সম্ভব হয় না । আর যদি স্বামী স্ত্রী দুজন থাকেন সেখানে স্ত্রীর নিজের যত্ন ও স্বামীর কাপড় ধোয়া , খারার রেডি করা , ঘর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা , ঘর গোছানো , অতিথি সেবা ইত্যাদি সংসারে যেসব কাজ থাকে সবই নিজে নিজে করা লাগে । যেহেতু গর্ভকালীন সময়ে নারীদের শরীরে অনেক পরিবর্তন আসে তাই এসময়ে সবাই কম বেশি অসুস্থ থাকে এবং তাকে অন্যের সাহায্য নেওয়ার প্রয়োজন হয় ।
এতক্ষণে নিশ্চয় প্রমাণ হল সন্তান জন্মদানের অর্থ সংস্থানের জন্য বাবার প্রয়োজন নেই ।
নারীরা কি শুধু নিজের বাবা মায়ের সম্পত্তির ভাগ থেকেই অর্থ সংস্থান করতে পারে নাকি অর্থ আয় করার যোগ্যতা ও নারীর আছে ? সবাই বলবেন , নারীরা ও এখন শিক্ষিত হচ্ছে এবং চাকরি ও ব্যবসায় পরিচালনা ও করছে । যাদের শিক্ষা নাই তারা গৃহকর্মী বা গার্মেন্টস শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে । তারমানে এটাই প্রমাণ হল সন্তানের যাবতীয় খরচ যোগানের ক্ষমতা নারীর একারই আছে তাই সন্তানের বাবার কোন প্রয়োজন নাই ।
এতক্ষণের আলোচনা থেকে আমাকে নিশ্চয়ই আপনাদের পুরুষ বিদ্বেষী মনে হচ্ছে । কিন্তু আমি মোটেও পুরুষ বিদ্বেষী নই । আর আমি মনে করি কোন মেয়েই আসলে পুরুষ বিদ্বেষী নয় । উপরে যে কথাগুলো আমি বলেছি এসব কথা কোন মেয়ে শুধুমাত্র ক্ষোভ থেকেই বলে থাকে । গর্ভকালীন সময়ে কোন মেয়ে যখন তার মায়ের কাছে এসে থাকে তার স্বামী মনে করে তার স্ত্রীকে সময় দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই । স্ত্রী তার মায়ের কাছে যত্নে আছে । স্ত্রী এখন আর তাকে বিনোদন দিতে পারে না । স্ত্রীর বেঢপ শরীর তার ভাল লাগে না । স্ত্রীর হবু সন্তান নিয়ে নানান স্বপ্নের কথা শুনতে ভাল লাগে না ।
একজন নারী গর্ভধারণের দিন থেকেই মা । তার জীবনের সব সুখ সুবিধা , স্বপ্ন ক্যারিয়ার সব উৎসর্গিত হয় সন্তানের মঙ্গলের জন্য । আর যিনি বাবা হবেন তার জীবনের কোন পরিবর্তনটা আসে কেউ কি বলতে পারবেন । তিনি বাবা হবেন বলে নিজের কোন সুখ সুবিধা তার সন্তানের জন্য ত্যাগ করেন ? তার বিনোদনের মাত্রা বরং বেড়ে যায় । ঘরে স্ত্রী থাকে না বলে অধিক রাত পর্যন্ত ঘরের বাইরে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া চলে , রাত জেগে টিভি দেখা , অনলাইনে সময় কাটানো চলে । বিয়ের দাওয়াত অন্যান্য দাওয়াত কোনটাই তার জীবন থেকে মিস যায় না । এসব পুরুষেরা কখনোই মনে করে না তার গর্ভবতী স্ত্রীর পাশে একটু বসি, সন্তান নিয়ে আলোচনা করি ।স্ত্রীর শরীরে খারাপ লাগলে কিছু না শুধুমাত্র হাতটা ধরে একটু বসি । হবু মা যখন ভয়ঙ্কার স্বপ্ন দেখে ঘুম থেকে জেগে ওঠে তখন তার ইচ্ছে করে স্বামীর বুকে মাথা রেখে সান্ত্বনা খুঁজতে । কিন্তু কোথায় স্বামী ? তিনিতো স্ত্রীর সাথে ঘুমাতে পছন্দ করেন না । কতজন হবু বাবা বলতে পারবেন তার স্ত্রী কত দিনের গর্ভবতী ? তার সন্তান জন্ম নেওয়ার সম্ভাব্য তারিখ কোনটা ? এসব কিছুই যদি না বলতে পারেন , সন্তান জন্মদানের এই সময়ে যদি হবু বাবা কে কাছে না পাওয়া যায় তবে এই পুরুষ নারীর জীবনে থাকলেই বা কি আর না থাকলেই বা কি ? এই পুরুষ সন্তানের বাবা হবেন কবে , যখন বাচ্চাকে স্কুলে দেওয়া হবে তখন ?এ দেশে স্কুলে সন্তান ভর্তি করতে বাবার প্রয়োজন হয় । কিন্তু সন্তানকে স্কুলে আনা নেওয়া , স্কুলের হোম টাস্ক করানো এসব কিন্তু মা’ই করে থাকেন । তার মানে বাবা হওয়া মানে সার্টিফিকেটে একটা পুরুষবাচক নাম ? আর দাদা দাদি হওয়া মানে কি ? গর্ভকালীন সময়ে ছেলের বউয়ের খবর কোনদিন না নেওয়া কিন্তু যখন সন্তান জন্ম দেওয়া হয়ে যাবে তখন এসে দাবী করা এটা আমাদের বংশধর - এর নাম আমরা ঠিক করে দিবো , এ কিভাবে ঘুমাবে খাটে নাকি দোলনায় আমরা ঠিক করবো । আমাদের বংশের বাচ্চা ডায়াপার পরবে কি পরবে না এটা আমরা ঠিক করবো । দাদা দাদীর দায়িত্ব তাহলে বংশধর জন্ম নেওয়ার পর থেকে শুরু ? আর মায়েরা শুধু সন্তানের প্রতি কতগুলো দায়িত্বই পালন করতে থাকবে কিন্তু কোন অধিকার মা পাবে না, এটাই কি আপনাদের সমাজের নিয়ম ? অনেক কষ্ট সহ্য করে অনেক কিছু উৎসর্গ করেই তবে একজন নারী হবেন মা । আর বাবা স্ত্রীকে একফোঁটা বীর্য দিবেন এজন্য তিনি বাবা । অথবা তিনি কখনোই বাবা নন শুধুই একজন জন্মদাতা ।

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৩:৪৭
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ অদৃশ্য পাতায় লেখা ছিল যে

লিখেছেন সামিয়া, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২১



আমি একটা বায়িং হাউসে চাকরি করতাম। তখন জীবনটা খুব সাধারণ ছিল। সকালবেলা অফিস, সারাদিন কাজের চাপ, সন্ধ্যায় বাসায় ফেরা। ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা ছিল না। বিয়ে নিয়ে তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকট ও বিএনপি কি একে অপরের পরিপূরক?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৩৭


গ্যাস নাই ,বিদ্যুৎ নাই। নিত্যদিনের নানা সংকটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠছে। এভাবে মানুষ বিএনপিকে কতদিন সহ্য করবে? মানুষ সহ্য করতে করতে যখন ধর্যের বাধ সহ্যের বাধ ভেঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ সরকারের কাছে সোলার এনার্জি বিক্রি করা কতটা লাভজনক?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৭



যারা আগামী ৬ মাসের মধ্যে বাড়ির ছাদে সোলার সিস্টেম ইন্সটল করবেন, তাঁদেরকে বাংলাদেশ সরকার প্রত্যেক ইউনিট ইলেক্ট্রিসিটির জন্যে ১০.৫০ টাকা করে দিবে। রুফটপে সোলার এনার্জি প্ল্যান্ট বসিয়ে লাভ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্পর্ক ও আত্মহত্যা

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৪৭



কাউকে আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে বিয়ে করা অথবা আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে অথবা ব্ল্যাকমেইল করে গুরুতর মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতনের মাধ্যমে কাউকে বিয়েতে বাধ্য করা। - বিশ্বের যে কোনো দেশের আইনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২ লাখ কর্মীর খবর ভুয়া - তবে ২৫ টা সাদা হাতি আসছে!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০২



স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছিলেন, মালয়েশিয়া সেপ্টেম্বর মাস থেকে ধাপে ধাপে ২ লাখ কর্মী নেবে ।

আগামী ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ কর্মী নেবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×