এখন বাজে রাত ১;১০, অবশ্য সিওর না, আমার রুমের ঘড়ি গুলা নিজে নিজেই স্লো হয়ে যায় কিভাবে জানি। আজকে শুনলাম টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা ১ সপ্তাহ পিছিয়ে গেছে। এবার পরীক্ষা টা না পিছাক তাই চাচ্ছিলাম, এমন না যে সব কিছু কোপাইয়ে পড়ে শেষ......কিন্তু আশায় গুড়ে বালি।স্কুল এর বন্ধুরা সব বেড়াতে যাবার প্ল্যান করছিল,রিসেন্টলি সেটা বাতিল হয়ে গেল, নাহলে এই এক সপ্তাহ কাজে লাগানো যেত। ঊল্টা মৌলি আপুর এনগেজমেন্ট টা পরীক্ষার মধ্যে পড়ে যাবে।ড্যাম............
বুয়েট এ অবশ্য এটা নতুন কোন ঘটনা না। লেভেল - ১, টার্ম - ১ থেকেই দেখছি যে টার্ম ফাইনাল পরীক্ষার অপর নাম আন্দোলন। এ আন্দোলন অবশ্য আমার মতো যাদের পরীক্ষার আগে মনে হয় যে "শিট, এখনো তো বই ই কিনা হয় নাই", তাদের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। নিয়ম অনুযায়ী ২ সপ্তাহ প্রিপারেটরি লিভ (পিএল) এর পরে পরীক্ষা শুরু হবার কথা।কিন্তু পুরা টার্ম এর ক্লাস টেস্ট, কুইজ এর দুষ্ট চক্র, অনলাইন+অফলাইন অ্যাসাইনমেন্টে, টার্ম প্রজেক্ট এর হতাশা, পুরান ঢাকার বিরানি প্রভৃতি হজম করতে করতে কোথায় দিয়ে যে ১ সপ্তাহ চলে যায় একদম ই বোঝা যায় না। অবশ্য কঠিন হজম শক্তির কিছু পাবলিক আছে যারা কিনা পিএল এর প্রথম দিন থেকেই পড়ার টেবিল এ ঝড় তুলে ফেলে।এক্সসেপশন ইজ নট এক্সাম্পল। যাই হোক।এরকম এক ক্রান্তিলগ্নে এগিয়ে আসে জনকয়েক ছাত্র।"সূচ হয়ে ঢুকে ফাল হয়ে বের হওয়া" বলে যে একটা প্রবাদ আছে সেটার উদাহরন হচ্ছে এই মিছিল। প্রথম কিছুদিন মিছিল টা সূচ আকারের থাকলেও অচিরেই তা ফাল হয়ে যায়। এক পর্যায়ে পড়ার টেবিল এ যারা ঝড় তুলছিল তারাও ঝড় বন্ধ করে মিছিল এ চলে আসে।
পরীক্ষা পিছানোর সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটে লেভেল - ২, টার্ম -১ এ পড়ার সময়। ২০০৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের খেলা দেখার জন্য পরীক্ষা পিছানোর দাবিতে বুয়েট এ কঠিন মারামারি , ভাংচুর হল( বাংলাদেশ যদি খেলতে পারত তাহলে মনে হয় ওই বছর বুয়েট বন্ধ করার দাবি উঠত..)। পরীক্ষা এক ধাক্কায় ৬ মাস পিছিয়ে গেল। তখন আমি প্রোগ্রামিং কন্টেস্ট করতাম, প্র্যাক্টিস এর জন্য বেশ ভাল একটা টাইম পেয়ে মহা খুশি, সামনে এ সি এম আই সি পি সি রিজিওনাল কন্টেস্ট, এন এস ইউ তে, মোটামুটি কনফার্ম ছিলাম যে পরীক্ষা টা কন্টেস্ট এর পরেই হবে। কিন্তু যেটা ঘটল সেটা চিন্তাও করি নাই যে ঘটবে...কন্টেস্ট এর দিন ই প্রথম পরীক্ষাটা পড়ল ওয়াও

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


