কোন এক অজ্ঞাত কারনে লেভেল - ১,টার্ম -১ এ "স্ট্রাকচার্ড প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ" এর সেশনাল(প্র্যাক্টিকাল) কোর্স এ আমাদের টার্ম প্রজেক্ট থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছিল। সম্ভবত আমাদের হতাশার বোঝা না বাড়ানোর জন্য স্যারদের এই উদ্যোগ ছিল। এই কোর্সের থিওরি পার্ট টা ছিল এক কথায় জঘন্য। এর পেছনে কোর্স টিচার এর অবশ্য মুখ্য অবদান ছিল। একটা ইন্টারেস্টিং জিনিস কে সম্ভাব্য সকল উপায়ে কিভাবে জঘন্য করা যায় তার একটা ডেমন্সট্রেশন পুরা টার্ম জুড়ে চলেছে। যাই হোক, সে অন্য কথা। লেভেল - ১, টার্ম - ২ তে উঠে শুনলাম এবার গত কোর্স এর বড় ভাই "অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ" এর সেশনাল এ আমাদের একটা টার্ম প্রজেক্ট করতে হবে, জাভা ল্যাংগুয়েজ এ। প্রতি প্রজেক্ট এ ২ জন করে, বিবেচনা সাপেক্ষে ৩ জন করে থাকবে। আমার প্রথম প্রজেক্টের পার্টনার হল শাবাব বা এভাবেও বলা যেতে পারে যে শাবাব এর প্রথম প্রজেক্ট এর পার্টনার হলাম আমি
প্রথম কাজ হল "কি প্রজেক্ট করব"। বড়ই চিন্তার বিষয় । কন্টেস্ট এর সুবাদে তখন সবে মাত্র "সি/সি+" ল্যাংগুয়েজ এ হাত আসা শুরু হয়েছে, জাভা যে কি জিনিস, গায়ে মাখে না চুলে দেয় তার মাথা মুন্ডু কিছুই বুঝি না। জিনিস টা দিয়ে কি কি করা যায় তাও জানি না। শাবাব এর মাথায় অবশ্য এর মধে একটা যুগান্তকারী আইডিয়া চলে এসেছে। মিসকল দিয়ে কিভাবে পুরা মাগনা এস এম এস করা যায় সেটার একটা আইডিয়া বের করে ফেলল ও। আমিও শুনে মুগ্ধ, এবং জিনিসটার ব্যাবসায়িক দিক চিন্তা করে তো মুগ্ধতা আরো বেড়ে গেল। শাবাব কে ব্যবসায়িক দিক টা বোঝানোর পরে ও বলল ," তুই সি এস ই তে পড়তেসিস কেন ?? তোর তো বি বি এ পড়া উচিত
দেখতে দেখতে মিড টার্ম এর ছুটি চলে এল। এখন ও জাভা কি জিনিস তা জানা হয়ে উঠে নাই। আমাদের সুপারভাইজার এর কথায় জাভার কমপ্লিট রেফারেন্স পড়া শুরু করলাম মিডটার্ম এ। প্রথম ১০ টা চাপ্টার ২ জন ই বেশ জোশের সাথে পড়ে ফেললাম, এর পরের টপিক 'মাল্টিথ্রেডিং' পড়ার পরে ২ জন ই আবিষ্কার করলাম যে একদম কিছুই বুঝি নাই(লেভেল -৪,টার্ম-১ এর আগ পর্যন্ত ২ জনের একি অবস্থা ছিল, জাভার এই দরকারি জিনিস টা বুঝতাম না। সেজন্য জাভা ভয় ও পাইতাম )। পড়াশুনার পাশাপাশি আমরা আমাদের আইডিয়া ইমপ্লিমেন্ট করার জন্য কি ব্যবহার করা লাগবে সেটা গরু খোজার মত করে ইন্টারনেট এ খুজলাম, বড় ভাই যারা মোবাইল নিয়ে কাজ করেছে তাদের কাছেও জিজ্ঞেস করলাম। কিন্তু গরু আর খুজে পাওয়া গেল না। এক পর্যায় এ দুই জন ই উপলব্ধি করলাম যে যা চিন্তা করেছি সেটা করা সম্ভব না। আমাদের প্রপোজড প্রজেক্ট শুরু হবার আগেই "ফেইলড"।
এর মধে ৮/৯ সপ্তাহের মত কেটে গেছে। অনেকেই অনেক কাজ করে ফেলেছে। নাফির রুম এ গিয়ে আমি আমরা ওদের "ষোল গুটি" গেম টার কাজ দেখি। তখন ও আমাদের কাজ একদম "শূণ্য"। স্যার কে জানানোর পরে স্যার বলল এখন নতূন প্রজেক্ট এর চিন্তা করার জন্য, স্যার অবশ্য নিজেই একটা ঠিক করে দিলেন "ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার"। ভিডিও ক্যাপচার করার জন্য ল্যাব থেকে একটা ওয়েবক্যাম ও ইস্যু করে দেয়া হল। আমরা আবার ও লেগে পড়লাম কাজে।
কোন একটা কারনে আমাদের ২ জনের মধ্যেই জাভা ভীতি জিনিস টা কাজ করত। কিভাবে কি করব কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। আরো সমস্যা ছিল, আমার বাসা ঊত্তরা , শাবাব এর বাসা টিকাটুলি। ঢাকা শহরের ২ প্রান্তে বাস করি ২ জন। একসাথে কাজ করাও একটা ঝামেলা। আর শাবাব একটু সিরিয়াস টাইপ এর , আর আমার মধ্যে সামান্য ফাকি দেয়ার ভাব আসে। এই সিরিয়াসনেস এর জন্যই শাবাব ২ বার ছুটির দিনে সাত সমুদ্র তের নদী পার হয়ে বাসায় চলে এসেছিল। অবশ্য এই সাত সমুদ্র তের নদী পার হয়ে গত ৪ বছর ধরে উত্তরা থেকে বুয়েট এ ক্লাস করছি। ফাকিবাজি স্বভাবের জন্য বা আলসেমির জন্য যে কারনেই হোক কাজ করতে ওর বাসায় যাওয়া হয়ে ঊঠে নাই। শাবাব সবসময় প্রজেক্ট নিয়ে সিরিয়াস + টেন্সড হয়ে থাকত, নিজের টেনশনও করত, আমারটাও করত
ভিডিও ক্যাপচারিং এর কাজ অবশ্য করা হয় নাই। ওয়েবক্যামটা ভিডিও চ্যাট করার কাজেই বেশি ব্যবহার হয়েছিল। ইন্টারেস্টিং ব্যাপার এই যে, আমাদের পিসি তে করা কোড কোন এক কারনে স্যার এর রুম এ যে পিসি ছিল সেটা তে চলত না, হাতে কোড যেটাই ছিল কোন দিন ও স্যার কে আপডেট দেখাতে পারিনি। রোজ এ বলতে হত, "স্যার বাসায় তো ঠিক মত চলেছে, এখন যে কেন চলছে না...."। শুনে স্যার বলতেন, "আই বিলিভ হিউম্যান বিয়িং, তোমাদের কথা বিশ্বাস করলাম"। স্যার এর অধীনে যারা ছিলাম, এর মধে সাইফুল বাদে বাকী কারোর অবস্থাই ভাল ছিল না। সাইফুল রেগুলার কাজ করে করে আপডেট দেখাত , আর রেগুলার ওর প্রজেক্ট এ স্যার নতূন নতূন ফিচার যোগ করতেন। সাইফুল শেষ পর্যন্ত যা কাজ করেছিল সেটা ওর যা করার কথা ছিল তার চেয়ে অনেক বেশি করেছিল। ছেলেটা খুব ই সিন্সিয়ার। যাই হোক আমাদের কথায় ফেরত আসি।
আমরা কোড টা একটা ভিডিও এর উপর টেস্ট করলাম। ভিডিও টা ছিল কালজয়ী গেম "এজ অফ এম্পায়ারস - ২" এর ইন্ট্রো। কাজ করল ভালই। এরপরে অন্য আরেকটা ভিডিও দিয়ে টেস্ট করতে গিয়ে আবিষ্কার করলাম যে কোন এক অদ্ভুত কারনে ভিডিও ফাইলটাই ওপেন করতে পারছে না। এবং ওই এক ভিডিও ফাইল ছাড়া আর কোন ভিডিও ফাইল নিয়ে কাজ করতে পারছে না
আমাদের ১৪ তম সপ্তাহে প্রজেক্ট সাবমিট করার কথা, তবে স্যার এর কোন এক ব্যাস্ততার কারনে আমাদের সাবমিশন ডেট পিছাইতে পিছাইতে আরো ৩ সপ্তাহ পিছায়ে গেল। শেষ পর্যন্ত সাবমিট করলাম, কানা মামা দিয়ে টেস্ট করে দেখাইলাম। কোড যেটা ছিল সেটার পুরাপুরি এখনো বুঝি না, তখন স্যার কে বুঝানোর জন্য আমি আর শাবাব একটা মোটামুটি ভুজুং দাড় করিয়েছিলাম, আমাদের জ্ঞানগর্ভ ব্যাখা শুনে স্যার মোটামুটি খুশি। আমরাও শেষ পর্যন্ত জমা দিতে পারার আনন্দে আটখানা
প্রথম টার্ম প্রজেক্ট এর অভিজ্ঞতা খুব একটা বেশি সুখকর না। এরপরে আমি আর শাবাব সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা ২ জন আর কোন দিন ও একসাথে কাজ করব না। ২ জনের সিরিয়াসনেস+বাসার দূরত্ব একটু কনফ্লিক্ট করে, তাছাড়া ২ জন ই জাভা তে ছিলাম চরম কাচা, এরকম বিভন্ন কারনে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম যে পরের টার্ম গুলাতে একলা কাজ করা লাগলে তাও করব, কিন্তু একসাথে ২ জন আর কাজ করব না। এই সিদ্ধান্ত কিন্তু কোন ঝগড়া করে নেয়া না, একদম এ নিজেদের ভালর জন্য নেয়া, এর জন্য আমাদের বন্ধুত্বে কোন ভাটা পড়ে নাই। তবে প্রজেক্ট শেষে যাই কাজ করেছি সেটার জন্য পুরান ঢাকা তে বিরানী খেতে ভুলি নাই। এক্ষেত্রেও পার্টনার ছিল শাবাব
আমার অবশ্য লেভেল - ৪,টার্ম - ১ এর আগ পর্যন্ত কোন টার্ম প্রজেক্ট এর পারফরমেন্স খুব একটা সুবিধার না। কন্টেস্ট টা যতখানি ইন্টারেস্টিং ছিল, টার্ম প্রজেক্ট এ ততখানি ইন্টারেস্ট পেতাম না, সেজন্যই মনে হয় এই অবস্থা। কন্টেস্ট এর কথা পরে কোন এক সময় লিখব।
পুনশ্চঃ শাবাব আর আমি প্রজেক্ট এ একসাথে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিলেও আমাদের বিরানী খাবার পার্টনারশিপ কিন্তুঅনেক দিন ছিল

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


