somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার "আপু" ভাবনা

০৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভাইয়াকে হারিয়েছি যখন তখন আমার এটা বলার ক্ষমতা ছিলনা
"ভাইয়া তুই কোথায় যাচ্ছিস?আমার সাথে একটু খেলবিনা?আমরা মারামারি করব,ঝগড়া করব,ঝগড়া শেষে তুই আমাকে লজেন্স কিনে দিবি।দু'জন একসাথে মায়ের কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ব।মা তোকে একটা ভালো জামা বা খেলনা কিনে দিলে আমি নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিব,তুই এসে বলবি,এই শার্ট টা আমার গুল্টু ভাইয়াকেই ভালো মানায়"

তোর ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা।সবই মায়ের কাছ থেকে শোনা।তুই নাকি খুব সুন্দর ছিলি,আমার মত এত কালো ছিলিনা,নাকটা এত বোঁচা ছিলনা।আসলে সব হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলোই মনে হয় সুন্দর।

এই হলো আমার ভাইয়া ভাবনা,যার কোন স্মৃতিই নেই আমার কাছে।

ছোটবেলাটা কাঁটিয়েছি একা একা।মনে আছে এমন কোন খেলা নেই যা একা খেলতে পারতাম না।দাবা খেলার দুইটা চাল-ই আমি দিতাম,ক্যারাম খেলতাম চারদিকে ঘুরে ঘুরে।এমনকি দেয়ালে বল মেরে ফিরে আসা বলে ব্যাট চালিয়ে ক্রিকেট খেলতাম।দিনগুলো কিভাবে যেন কেঁটে যেত।বন্ধুরা বলত তোর যে ভাই-বোন নেই খারাপ লাগেনা?বলতাম ধুর কিসের খারাপ।আমার কোন বোন দরকার নাই,মেয়ে মানুষ সারাদিন পুতুল খেলে বিরক্তিকর।অবশ্য ভাইয়া বেঁচে থাকলে ভালো হত,ওর সাথে খেলতে পারতাম।কিন্তু এটাও কোন সমস্যা না,আমি এখন একাই সব খেলতে পারি।আর ভাই-বোন থাকলেতো আমার আদরও কমে যেত।

যখন বড় হলাম দুঃখ বুঝতে শিখলাম,তখন দেখলাম একা একা আর দুঃখ সইতে পারিনা।ভাইয়াটা থাকলে ভালো হত।কিন্তু তা তো হবার নয়।হঠাৎ করে একটা আপুর অভাব অনুভব করতে লাগলাম।

আসলে বিধাতা মানুষকে এমনভাবে তৈরি করেছেন যে শুধু জৈবিক কারণে না,অনেকটা মানসিক কারণেও দুইটা বিপরীত লিঙ্গের মানুষ একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হয়।এজন্যই ছেলেরা মাকে বেশি,আর মেয়েরা বাবকে বেশি ভালবাসে।ভাই বোনকে বেশি,বোন ভাইকে বেশি ভালবাসে।হয়ত এ কারণেই কখনও কাউকে দেখে মনে হয়নি উনি আমার ভাই হতে পারেন।হয়তোবা অন্য কারো মাঝে আমার ভাইয়ার বিকল্প খুঁজতে চাইনি,এটাও হতে পারে।কিন্তু কোন সিনিয়র আপু যদি আমার একটু কাছে আসে,তখনি মনে হয় উনিতো আমারও আপু হতে পারতেন।তিনি হয়তো মনে করেন জুনিয়র ছেলে নাম ধরে ডাকার চেয়ে ভাইয়া ডাকি।এই ভাইয়া ডাকটা যে আমার মাঝে কতটুকু শিহরণ সৃষ্টি করে তা হয়ত কেবল আমিই বুঝব।আমি যে কতটা আবেগ নিয়ে কতটা আগ্রহ নিয়ে তাকে আপু ডাকি সেটা তার মনের গোচর কখনই হবেনা।

আমার কিছু বন্ধুদের দেখি বোনদের সাথে ঝগড়া করে।আমি বলি কিরে বোনের সাথে ঝগড়া করিস কেন?আমার যদি একটা বোন থাকতো আমি সারাদিন ওর সাথে কথা বলতাম,ও কে কখনোই আমার অভাব বুঝতে দিতাম না।বন্ধুরা বলে এসব তুই বুঝবিনা দুই দিন কথা না বলে থাকব,দেখবি আপুই ক্ষতিপূরণ নিয়ে আসবে।আমি যদি ঝগড়া ভেঙ্গে দিই,আমার ফায়দা কি?
যখন শুনি তখন আমার মাথার উপর দিয়ে যায় এসব কথা।কিন্তু রাতে যখন খুব একাকিত্বের যন্ত্রণায় কাঁদি,তখন মনে হয় আমি কোন ক্ষতিপূরণ চাইনা।শুধু তোমাকে চাই আপু।মনের অজান্তেই কোন অজানা একজনকে আপু সাজাই,তাকে দুঃখ বলি,তার দুঃখের কথা শুনি।

বর্তমান যুগে আপু বানানো খুব সহজ।কাউকে যদি বলি আমার কোন বোন নেই,আমার খুব খারাপ লাগে।তাহলেই হয়তো সে আমার মাঝে ভাইয়ের ছায়া খুঁজে পায়।কিন্তু প্রতিটা সম্পর্কের মত এর মাঝেও একটা সীমাবদ্ধতা থাকে।আবার খালাতো,মামাতো এমন অনেক ধরণের বোন থাকে।খালাতো,মামাতো শব্দগুলোই যেন সম্পর্কগুলোর সীমাবদ্ধতা বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট।আর এই সীমাবদ্ধতা হচ্ছে স্বতঃস্ফুর্ততার অভাব।কোন আপুর সাথে কথা বলতে গেলে মনে হয়,আপু কি এখন ব্যাস্ত?এখন যদি কথা বলি আপু কি রাগ করবে?আবার আপুর সাথে ঝগড়াও করা যায়না,মনে হয় আমিতো আর আপন ভাই না,আপুতো কখনো আমার অভিমান ভাঙ্গাতে আসবেনা।আবার আপুর সাথে যদি কোন দূরত্ব সৃষ্টি হয়,তখন নিজেকে দোষারোপ দিতে থাকি।মনে হয় আমার কোন ব্যবহারে আপু রাগ করেছে।জানি এসবই আমার সংকীর্ণতা।আমার সবগুলো আপু আমাকে খুব ভালবাসে।তারপরও এমন একটা আপুর জন্য আমার মন কাঁদে যার উপস্থিতি কখনোই আমাকে বুঝতে দিবেনা আমার বোন নেই,আমি রাগলে যে রাগ ভাঙ্গাতে আসবে।২দিন আমার সাথে রাগ করে তৃতীয়দিন আমাকে এসে বলবে,"নারে ভাই,তোর উপর রাগ করে কি থাকতে পারি?"
যে আমার মন খারাপ করাটা বুঝবে।যে বলবে "ভাইয়া,তোর আপুর মনটা আজ খারাপ,দেতো ভাই,তোর আপুর মনটা ভালো করে"
চাওয়াগুলো হয়ত খুব বেশিনা,আবার হয়তোবা খুব বেশি।

মাঝে মাঝে মাকে জিজ্ঞেস করি,"তোমার যে মেয়ে নেই খারাপ লাগেনা?"
মা বলে,"তুই থাকতে আমার খারাপ লাগা কিসের?"
মায়েরা কখনো মিথ্যা বলেনা।আমি জানি মায়ের কাছে ছেলে-মেয়ে কিছুনা,সন্তানই আসল।তিনি হয়তো তার হারিয়ে যাওয়া ছেলের জন্য ডুকরে কাঁদেন,কিন্তু একটা মেয়ের জন্য কখনোই না
কেন যে মায়ের মত হতে পারিনা??যা পাইনি,তার জন্য এত কান্না কোথা থেকে আসে??

সর্বশেষঃ আমি আমার প্রতিটা আপুকে ভালবাসি,খুব ভালবাসি,যাকে একদিনের জন্য আপু ডেকেছি তাকেও।এই ভালবাসা বোঝানোর ক্ষমতা আমার নেই।


আপু,কাছে এসেই বুঝে নাওনা কতটা ভালবাসি??
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:১৮
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×