somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

“আমার লেখক জীবন”-প্রারম্ভিকা

০৮ ই নভেম্বর, ২০১০ রাত ৩:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শুরুটা হয়েছিল প্রেমে পড়েছি ভেবে।কোন এক সুন্দরীকে দেখে মনে যে কম্পন সৃষ্টি হয়েছিল সেই কম্পনের ফলেই হয়তো শিরদাঁড়া বেয়ে তরঙ্গাকারে লেখিয়ে হরমোনটা লেখনীতে চলে এসেছিল।হাতে নিয়েছিলাম ডায়েরী,লিখব কিছু।কিন্তু ক্ষণিকের দর্শনের স্মৃতি ডায়েরীতে কতটুকুই বা লিখব।ভাবতে ভাবতে অন্ত্যমিল আকারের দু’একটা লাইন মাথায় চলে আসলো।ভাবলাম ভুলে যাবার আগেই লিখে রাখি।পরে আরও অনেক ভাবনা আচ্ছাদিত করে ফেলল।চন্দ্র,সুর্য,জোছনা,নীলিমা,গোধূলী,দিগন্তে দৌড়াদৌড়ি,পদ্মফুলে শিশিরবিন্দু কতকিছু যে চোখে ভাসছিল সেই স্মৃতি মনে পড়লে প্রেমে পড়ার ইচ্ছাটা আবার জেগে ওঠে।কিন্তু লিখব কী,ডায়েরীতে লেখা দুটো লাইনকে খুব নিঃসঙ্গ লাগছিলো।আর ভাবনাগুলোও এতটা এলোমেলো,এত দ্রুত একটাকে আরেকটা প্রতিস্থাপিত করে ফেলছিল যে আমার মনের অবস্থা হয়ে গেল হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা নীতির মত।যদি অপ্সরাকে ভাবো তবে ডায়েরীকে ভাবতে পারবেনা,আর যদি ডায়েরী নিয়ে পড়ে থাকো তবে ভাবনার রাজ্যে ঘুরাঘুরির আজকের জন্য এখানেই ছুটি।কি করি,কি করি,আজকেই প্রথম দিবাস্বপ্ন দেখতে শুরু করলাম,আর আজই যদি স্বপ্নের সুন্দরতম মুহূর্তটায় পৌঁছানোর আগেই ছুটির ঘণ্টা বাঁজে তবে আমার মনের অবস্থাটাতো হরিষে বিষাদ বাগধারা দিয়েও প্রকাশ করা যাবেনা।তাই এই মধুর সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে মনকে দাঁড়া করালাম নিজের মুখোমুখি।মন বলল,“ভেবে যাও তাকে,যাকে ভাবলে মনে হবে তুমি আজ পূর্ণ হয়েছো”।ভেবে দেখলাম মনের উপর জোর খাটানো উচিত না,আর আমার লেখালেখির কোন অভ্যাসও নেই।অতিরিক্ত বোঝাপড়া করতে গেলে যে সুন্দর দিনটি শেষ হতে পারতো ভুনা খিচুরী দিয়ে সেটার শেষে শুধু জগাখিচুরীই পাবো।কিছুক্ষণ তাকে ভেবেই গেলাম,ভেবেই গেলাম।হঠাৎ লক্ষ্য করলাম ভাবনার মানুষটার গলায় কণ্টকহার,এর মানে কি?সে যেন বলছে,“তোমার দেয়া হারটা সুন্দর,কিন্তু এর সাথের কাঁটাগুলো কতক্ষণ আমায় হারটা পরে থাকতে দিবে??” কিছুটা ভ্যাবাচেকা খেলাম।সে আমাকে ডায়েরীটা দেখিয়ে বলল,“আজতো আমাকে নিয়ে অনেক ভাবলে,কতকাল ভাবনি এমন আর ভবিষ্যতে ভাবলেও তা আজকের মত এতটা সুন্দর হবেনা।এই সুন্দর মুহূর্তগুলো যদি তুমি লিখে না রাখো তবে কতদিন তা স্মৃতিতে রাখতে পারবে?আর আমিও যদি তোমার প্রথম দিনের অনুভূতিগুলোকে খুঁজে না পাই তবে কীভাবে বুঝবো তোমার মনে যখন প্রথম ভালোবাসাটা উদয় হয়েছিল তখন কেমন করে তুমি আমায় ভালবেসেছিলে??” যাকে ঘিরে এত ভাবনা সেই যদি ভাবনার মধ্যে টর্ক সৃষ্টি করে তবে তো আর ডায়েরীর পাতায় গোটা গোটা করে লিখা দু’টি ছন্দময় লাইনে গড়া নিঃসঙ্গ গাংচিলটাকে উড়ে যেতে দিতে পারিনা।তাই আরো ছন্দ,আরো উপমায় তাকে সাজাতে লাগলাম চুপটি করে বসে থাকা বর্ণময় মাছরাঙার রুপে।বলাবাহুল্য,আনাড়ি লেখক হিসেবে ছন্দ খুঁজতে বহু কাঠখড় পোহাতে হলেও উপমার কিন্তু কোন কমতি ছিলনা।তাই আগে আসলে আগে বসবেন ভিত্তিতে এবং ছন্দের সাথে ম্যাচিং করে কিছু উপমা বাছাই করেই চলছিল স্বরলিপি তৈরীর কাজ।যখন মনে হলো,আর নয় এটুকুই যথেষ্ট তখন নিজের লেখার প্রথম পাঠক হিসেবে লেখাটা পড়লাম।পড়ে মনে হলো, “এটা কী লিখলাম,ছন্দ আছে,উপমা আছে।তাহলে এটা কবিতা নয়তো??যদি কবিতা হয়,তাহলে কী আমি কবি হয়ে গেছি??” ইউরেকা ইউরেকা আমি কবি,অতএব আমি প্রেমে পড়েছি নাকি ইউরেকা ইউরেকা আমি প্রেমে পড়েছি,অতএব আমি কবি?? এই প্রশ্নের উত্তর এখনো আমি পাইনি।যাই হোক যে কবিতাটি লিখেছিলাম প্রথম দিন,সেটাতো এখানে দেয়াই যায়,

................................................

...................................................

ধূর ছাই মনে পড়ছেনা।আবারো কি হাইজেনবার্গের নীতির আপেক্ষিক অনুপ্রবেশ ঘটলো??এখন আর এসব নিয়ে পোস্টমর্টেম করার সময় নেই।ডায়েরী,কলম,কবিতা তোমাদের সকলের আজ ছুটি।আমার প্রিয়তমা আসছে,তাকে আমার সান্নিধ্য পেতে দাও।ওগো তুমি চুপ করে কেন??তোমার চোখে জল কেন??তুমি আমার আজকের লেখাটি পড়ে দেখ,এটা শুধু তোমাকে নিয়েই লেখা।প্রথম দিন যেমন আমার লেখায় শুধু তুমিই ছিলে আজও ঠিক তেমনটিই লিখেছি।অনেক দেরি হয়ে গেলো।কিন্তু একটিবার পড়ে দেখ,সেই ভালোবাসা,সেই অনুভূতি এখনো রয়েছে,তোমাকে যে আজও আমি প্রথম দিনের মতই ভালবাসি।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×