১লা মহান মে দিবস। এই দিনে প্রায় সকল অফিস আদালত বন্ধ থাকলেও হোটেলগুলো ঠিকই খোলা থাকে। তাই ১লা মে ছুটিসহ বিভিন্ন দাবিতে ১মে'১১ তারিখে সারা দেশে কর্মবিরতি পালন করে হোটেল শ্রমিকরা। শ্রমিকদের এই নিয়মতান্ত্রিক কর্মবিরতিতে পুলিশ এবং হোটেল মালিকের গুন্ডা বাহিনী হামলা করে। এতে করে অনেক শ্রমিক আহত হন। পরবর্তিতে আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদের নামে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়।

"
দুনিয়ার মজদুর এক হও
হোটেল সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগাম পরিষদের আহবান।
মহান মে দিবসের শপথ নিন, হোটেল সেক্টওে সরকার ষোষিত নি¤œতম মজুরি ও শ্রম আইনবাস্তবায়নের দাবিতে-
১মে দেশব্যাপী ২৪ ঘন্টা কর্মবিরতি পালন করুন।
সংগামী সাথী,
আপনারা জানেন, হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিকদের দীর্ঘ আন্দোলন সংগামে সরকার বাধ্য হয়ে ২৪ নভেম্বর ২০০৯ হোটেল সেক্টরের শ্রমিকদেও জন্য গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে নি¤œতম মজুরি ঘোষণা করে। যা একজন শ্রমিকের ৮ ঘন্টা কাজের মজুরি।
সরকার ঘোষিত নি¤œতম মজুরি নি¤œরূপঃ
গ্রেড কাজ ও পদের বিবরণ মূল মজুরি ঘর ভাড়া চিকিৎসা ভাতা যাতায়াত ভাতা মোট মজুরি বোনাস
গ্রেড-১ঃ উচ্চতর দক্ষ (প্রধান পাচক(বাবুর্চি), বাবুর্চি বাংলা এবং বাবুর্চি চাইনিজ) বিভাগীয় শহর ৯,৩০০; জেলা শহর ৮,৯০০; থানা ৮,৫০০
গ্রেড-২ঃ দক্ষ (মিষ্টি স্পেশাল কারিগর, নাস্তা কারিগর, কাবাব কারিগর, রুটি কারিগর, গ্রিল কাবাব কারিগর, ফালুদা/লাচ্ছি কারিগর, মিষ্টি কারিগর, রুটি/পরটা কারিগর, দই কারিগর, সরমা কারিগর এবং চা, কফি, হ্যান্ডি কারিগর) বিভাগীয় শহর ৪,৯৫০; জেলা শহর ৩,৮৬০; থানা ২,৮৩০
গ্রেড-৩ঃ আধা দক্ষ (সকল প্রকার সহকারি কারিগর, টেবিল বয় এবং বাবুর্চি সহকারি (পুরুষ/মহিলা)) বিভাগীয় শহর ৩,২০০; জেলা শহর ২,৬০০; থানা ২,০২০
গ্রেড-৪ অদক্ষ (পার্শেল বয়, ডিস ওয়াশ বয়, গ্লাস বয়, টেবিল বয়, ক্লিনার/ঝাড়–দার, কারিগর বয় এবং অন্যান্য সাহায্যকারি) বিভাগীয় শহর ২,৭৭৫; জেলা শহর ২,১৮০; থানা ১,৭৫০
এছাড়াও, শিক্ষানবিশ শ্রমিকগন মাসে ১,৬০০ টাকা প্রশিক্ষণ ভাতা পাবেন এবং প্রশিক্ষন শেষে তারা ৪ নং গ্রেডের শ্রমিক হিসেবে নিযুক্ত হবেন। প্রশিক্ষণের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৬ মাস।
এ মজুরি বর্তমান দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে মাসে দশ দিনও চলা যায় না, ফলে শ্রমিকেরা অর্ধহারে অনাহারে মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। এই শিল্পের মালিকরা দেশের শ্রম আইন ২০০৬ এর (৫) (৬) ধারা অনুযায়ী নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্বিস বইসহ শ্রম আইনের কোন ধারাই কার্যকরি করে না। এমনকি শ্রমিক শ্রেণীর রক্তে রঞ্জিত মহান মে দিবসের ছুটির দিনেও ১৩/১৪ ঘন্টা কাজ করতে বাধ্য করে। বাংলাদেম হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারী শ্রমিক ইউনিয়নসহ দেশের অধিকাংম রেজিস্টার্ড শ্রমিক ইউনয়িন ইউএনও, জেলা প্রশাসক, শ্রম পরিচালকসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের শ্রম ও জনশক্তি মন্ত্রনালয়কে নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়নের জন্য স্মারকলিপি প্রদান করেও কোন ফলাফল পাওয়া যায়নি। হাড় ভাঙা পরিশ্রম করে খেয়ে না খেয়ে শ্রমিকেরা হোটেল শিল্পে উৎপাদন অব্যাহত রেখে মালিকদের আরাম আয়েশের সম্পদ বৃদ্ধি করলেও তার শ্রমিকদেরকে মানুষ হিসেবে গণ্য করে না। সরকার ও মালিকদের স্বর্থের সেবা করে চলেছে । এমতাবস্থায় শ্রমিকদেও বাছার স্বার্থেই আন্দোলনের বিকল্প কোন পথ খোলা নেই। তাই আসুন, মহান মে দিবসের সংগ্রামের পথ ধওে ১লা মে’১১ ২৪ ঘন্টার কর্মবিরতি পালন করি। নিম্নতম মজুরি ও শ্রমআইন বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখি।
সংগ্রমী অভিনন্দনসহ-
রফিকুল ইসলাম
সমন্বয়ক
আব্দুল খালেক
যুগ্ম সমন্বয়ক
হোটেল সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগাম পরিষদ "

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


