৩৯ বছর পর কতটা সোনার হয়েছো তুমি
বাংলাদেশ?
আমিনুদ্দী, তোমার কাদাকে সোনা করে দেবে বলে
কত স্যাকরা প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেল
আর ভোটের বাক্স ভর্তি করে নিয়ে গেল
এখন বল, আমিনুদ্দী তুমি কেমন আছ?
সেলিনা বু, এক উর্দু ভাষীর হাতে ছিঁড়ে যাওয়া
তোমার কাপড়
আর কাপড়ে মিশে থাকা লালা দেখেও
চোখের পানি লুকিয়ে ছিলে, ভেবে ছিলে
সবার মোটা কাপড় হবে।
কোথায় তুমি, সব হারানো সেলিনা বু?
ইতিহাসের কথাই আজি সত্যি হল
অবশেষে প্রমাণ হল যুদ্ধ ক্ষেত্রেও সবাই আমরা
মজুর ছিলাম
'৭১ এর ভাস্কর্যগুলোর শান বাঁধানো বেদীতে
এখন রাত্রিবেলা ঘুমিয়ে থাকে ক্ষুধার্ত সব মানুষ
তাঁদের কাপড় ছেঁড়াই আছে।
সুপ্রিম কোর্ট-হাই কোর্টে আইন-আইন বলে হরিপদ সেন
বার লাইব্রেরীতে গলা ফাটালো
কিন্তু ব্রিটিশদের রেখে যাওয়া বেআইনের বইগুলোতে
ভারত কেটে পাকিস্তান
পাকিস্তান কেটে বাংলাদেশ বসিয়ে
ছাপা হল শেষ-মেষ।
হরিপদ সেন তোমার ভাইকে বিলের পাশে
ক্রসফায়ার বলে ফেলে আসলো
তোমার সুপ্রিম কোর্টের চোখ বাঁধা আইন
কিছুই দেখল না
হরিপদ সেন বলতো এবার, কেমন আছো?
জব্বার মিয়া সারা জীবন পরের ক্ষেতে লাঙ্গল চষে
পরের গোলা ভরে গেলো
নিজের একটা ক্ষেত হবে, নতুন চাষের যন্ত্র হবে
সেই আশাতে যুদ্ধে গেল
যুদ্ধক্ষেত্রেও মজুর হল
আজও তুমি লাঙ্গল হাতে গরুর পিছে
আজও তুমি ভূমিদাস আর পরাধীনই রয়ে গেলে
এবার বলো জব্বার মিয়া তোমার ছেলে কি
আর একটা জব্বার মিয়া হবে?
আমিনুদ্দী, তোমার ছেলে আর একটা আমিনুদ্দী?
তাহলে এসো নতুন ধানে স্বপ্ন ছড়াই
আইনের চোখের কপড় খুলে নিয়ে যাই বিলের ধারে
ক্রসফায়ারের মৃত লাশের বিচার করুক
তাহলে এসো পুঞ্জিভুত বঞ্চনাতে আগুন জ্বালি
শোষিতের বুকে-বুকে
তাহলে এসো শপথ নিই আগামি যুদ্ধের।।
-আহমদ আশীস
যারা তথাকথিত স্বাধীনতা আর তথাকথিত পুজিবাদের(!) বুলি আউড়ায় তাঁদের উদ্দেশ্যে বলছি, এই কবিতাটি পড়ুন, দেখুন স্বাধীনতা(!) ও পুজিবাদ(!) কিভাবে অর্জন হলো? আমিনুদ্দী, সেলিনা বু, হরিপদ সেন আর জব্বার মিয়ার কাছে পুজিবাদের কি আশীর্বাদ(!)। হায়রে পুজিবাদের বুলি(!)!!!!!
পড়ে মতামত জানাবেন আশা করি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


