somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাতীয় ছাত্রদল শাবিপ্রবি শাখার ১০ম কাউন্সিল

০২ রা ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১২:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


#বিশ্বব্যাংক, ওগঋ, অউই’র নির্দেশে প্রণীত বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (টএঈ)’র ২০ বছর মেয়াদী গণবিরোধী কৌশলপত্র বাতিলের দাবিতে
দুর্বার ছাত্র আন্দোলন গড়ে তুলুন।
#ছাত্র সমাজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে দমনের লক্ষ্যে প্রতিটি শিক্ষাঙ্গনে ক্যাম্পাস পুলিশ গঠনের চক্রান্ত প্রতিহত করুন।
#বিশ্বব্যাপী চলমান পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলনকে সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলনের ধারায় বেগবান করুন।


প্রিয় ছাত্র-ছাত্রী বন্ধুগণ,
বিপ্লবী অভিনন্দন গ্রহণ করুন। “এ লড়াই জাতীয় মুক্তি, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার” প্রত্যয় নিয়ে ১৯৭৩ সালের ২৩ আগস্ট মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠা লাভ করে বিপ্লবী ধারার ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রদল। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জাতীয় ছাত্রদল ছাত্র সমাজের প্রাণের দাবি একটি গণমুখী বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়নসহ ন্যায়সংগত সকল দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। আন্দোলন সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় জাতীয় ছাত্রদল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১০ম কাউন্সিল। আমরা এমন এক সময় কাউন্সিল করতে যাচ্ছি যখন বিশ্ব ব্যাপী শিক্ষাকে পণ্যে পরিণত করা হয়েছে। সাম্রাজ্যবাদী নীতি নির্দেশে নয়া উপনিবেশিক দেশগুলোতে দালাল সরকারগুলো নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে। এরই অংশ হিসেবে আমাদের দেশে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিভিন্ন কৌশলপত্র, ধাপে ধাপে ছাত্র বেতন বৃদ্ধি, ছাত্র রাজনীতি বন্ধের চেষ্টা, বিভিন্ন রশিদের মাধ্যমে নানা রকম ফি আদায়, নাইট শিফট চালু, শিক্ষাখাতকে পিপিপি (চঁনষরপ চৎরাধঃব চধৎঃহবৎংযরঢ়)’র আওতাভুক্তকরণ, ক্যাম্পাসে স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন প্রভৃতি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বিরোধী আন্দোলন গড়ে উঠছে। সা¤প্রতিককালে আমরা দেখতে পাই চিলিতে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তনের দাবিতে হাজারো শিক্ষার্থীর বিক্ষোভ, ব্রিটেনে টিউশন ফি তিনগুণ বৃদ্ধির প্রতিবাদে ছাত্র সমাজের বিক্ষোভ, গ্রীসে ছাত্র-গণআন্দোলনসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন সংগ্রাম তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।
সংগ্রামী সাথীরা,
সাম্রাজ্যবাদ সামন্তবাদ বিরোধী লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে ভারত-পাকিস্তান বিভক্ত ও পরবর্তীতে বাংলাদেশ সৃষ্টি না হওয়ায় আমাদের দেশের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় আধা-সামন্ততান্ত্রিক নয়া উপনিবেশিক অবস্থা বিদ্যমান। ফলে বৃটিশ পরবর্তী শিক্ষা ব্যবস্থায় নানারূপ সংস্কার বা ঘষামাজা করা হলেও বৃটিশ ঔপনিবেশিকদের যে লক্ষ্য ছিল আজকের শিক্ষা ব্যবস্থাতেও তা প্রতীয়মান। বৃটিশ আমলের শাসকেরা তাদের শাসন ও শোষণকে অব্যাহত রাখতে ১৮৩৫ সালে জন ম্যাকলের নেতৃত্বে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার নামে প্রবর্তন করেছিল কেরানী তৈরির শিক্ষানীতি। এ শিক্ষানীতিকে অনুসরণ করে সাম্রাজ্যবাদের দালাল সরকারগুলো পরবর্তীতে কিছু সংস্কারের মধ্য দিয়ে আরো অনেকগুলো শিক্ষা কমিশন গঠন করে যা গণবিরোধী বিবেচিত হওয়ায় দুর্বার ছাত্র আন্দোলনের মুখে বাতিল হয়। বর্তমান শিক্ষানীতি (জাতীয় শিক্ষানীতি ’১০) যা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন তা ঐ সকল বাতিলকৃত শিক্ষানীতি থেকে ভিন্ন কিছু নয়। এ শিক্ষানীতিতে শিক্ষা সংকোচন ও বাণিজ্যিকীকরণের দিকটি অত্যন্ত নগ্নভাবে ফুটে উঠেছে। বর্তমান শিক্ষানীতিতে বাণিজ্যিকীকরণ ও সরকারি ব্যয় হ্রাস করার লক্ষ্যে ছাত্রদের টিউশন ফি বৃদ্ধিসহ নতুন নতুন খাত সৃষ্টি করে অর্থ আদায়ের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, মেডিকেল কলেজ ইত্যাদির সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ভর্তুকি প্রত্যাহার করার মাধ্যমে পাবলিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারি শিক্ষা ব্যয় সংকোচনের প্রস্তাব করা হয়েছে। নিুবিত্ত, নিুমধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের ব্যাংক থেকে সুদে ঋণ নিয়ে পড়াশুনা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে ঐ সকল পরিবারের সন্তানের ঋণের দায় নিয়ে শিক্ষাজীবনে প্রবেশ করবে আর বের হবে মোটা অংকের ঋণের বোঝা নিয়ে। এভাবে শিক্ষা ঋণের মাধ্যমে শিক্ষাখাতে সাম্রাজ্যবাদী লগ্নীপুঁজি বিনিয়োগের ক্ষেত্র আরো বি¯তৃত হবে। এখানে আরো উল্লেখ আছে যে, একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষা গ্রহণ নির্ভর করবে তার অভিভাবকের অর্থ প্রদানের সামর্থের উপর। মোট কথা “টাকা যার শিক্ষা তার” এটাই বর্তমান শিক্ষানীতির সারকথা। গণমুখী, বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা নয় বরং সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থের দিক বিবেচনা করে তাদের পুঁজি ও পণ্যের বিশ্বস্ত পাহারাদার তৈরির লক্ষ্যেই বর্তমান শিক্ষানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা।
সাথী ও বন্ধুগণ,
শিক্ষাকে বাণিজ্যিক করার প্রক্রিয়াকে জোরদার করতে সাম্রাজ্যবাদী বিশ্ব সংস্থা বিশ্বব্যাংক, ওগঋ ও অউই’র নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ২০ বছর মেয়াদী (২০০৬-২৬) কৌশলপত্র প্রণয়ন করেছে। এই কৌশলপত্রকে মোট চারটি মেয়াদে বাস্তবায়িত করার পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, এই সময়ের মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হতে সরকারি ভর্তুকি প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আভ্যন্তরীণ আয়ের খাত বৃদ্ধি করা হবে। বর্তমানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, কৌশলপত্র বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ধাপে ধাপে বেতন-ফি বৃদ্ধি করা হচ্ছে এবং তৈরি করা হচ্ছে আয়ের নতুন নতুন ক্ষেত্র (নাইট শিফট, বিভাগীয় উন্নয়ন ফি ইত্যাদি)। শিক্ষাকে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পরিণত করার এই কৌশলপত্রের বাস্তবায়নকে দ্রুততর করতে এদেশের দালাল সরকারগুলো শিক্ষাকে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ (চচচ)’র আওতাভুক্ত করার প্রক্রিয়া চালু করেছে। এর ফলে প্রাইভেট করপোরেশনগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পুঁজি বিনিয়োগ করে শিক্ষাকে মুনাফার ক্ষেত্রে পরিণত করছে। এতে করে ছাত্র বেতন নির্ধারণ, সিলেবাস তৈরি, গবেষণার বিষয় নির্ধারণসহ প্রভৃতি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে অর্থায়নকারী করপোরেশনগুলো। এভাবেই সাম্রাজ্যবাদের কমিশন ভোগী দেশীয় এজেন্টরা শিক্ষাকে মুনাফা লাভের ক্ষেত্রে পরিণত করে চলেছে।
সংগ্রামী সাথীরা,
উচ্চ শিক্ষাকে বাণিজ্যিক রূপ দানের লক্ষ্যে সাম্রাজ্যবাদের প্রেসক্রিপসনে এদেশের দালাল সরকারগুলো শিল্প পুলিশের আদলে প্রক্টরের নেতৃত্বে ক্যাম্পাস পুলিশ গঠন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ক্যাম্পাস পুলিশ গঠনের কারণ হিসেবে সামনে আনছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিরাজমান অস্থিরতাকে যা ভিত্তিহীন। পূর্বের ও সা¤প্রতিককালের কিছু ঘটনা লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, যখনই ছাত্র সমাজ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করতে মাঠে নেমেছে তখনই রাষ্ট্রীয় লাঠিয়াল পুলিশ, আর্মি, র‌্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনী আন্দোলনকে দমনের জন্য ছাত্র সমাজের উপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে। সাম্রাজ্যবাদের দালাল সরকারগুলোর কাছে এটা অজানা নয় যে, শিক্ষাকে বাণিজ্যিক রূপ দিতে গেলে ছাত্র সমাজ অধিকার সচেতন হয়ে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বে। আর এই আন্দোলনকে দমন করার পূর্ব প্রস্তুতি হচ্ছে ক্যাম্পাস পুলিশ। সা¤প্রতিককালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭ (৪) ধারা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি নির্যাতন এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। যদিও শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ কোন অংশেই কমেনি। এছাড়াও ২০১০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের বর্বর নির্যাতনসহ অতীতের অনেক ঘটনাই ক্যাম্পাসে পুলিশের ভূমিকার সাক্ষ্য বহন করে।
সংগ্রামী বন্ধুগণ,
শাবিতে জাতীয় ছাত্রদল ১৯৯২ সালে আত্মপ্রকাশ করে। আত্মপ্রকাশ হওয়ার পর থেকেই শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে এবং শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের অংশ হিসেবে বেতন-ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে। ২০০০ সালে শাবিতে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে তীব্র সংকট দেখা দেয়। ইউজিসি শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। জাতীয় ছাত্রদল আবাসন সংকট সমাধানে নতুন হল নির্মাণ এবং হল নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে মেস ভাড়া, অবিলম্বে শিক্ষক নিয়োগ, একাডেমিক বিল্ডিং নির্মাণসহ ৪ দফা দাবিতে পরীক্ষা বর্জন ও ধর্মঘটের ডাক দেয়। শাবি প্রশাসনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে ৯৯তম একাডেমিক কাউন্সিল ও ১৪০তম সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের পারিতোষিক বিলের খরচ মেটানোর নামে ড্রপ কোর্সের ফি ক্রেডিট প্রতি ৫০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা অর্থাৎ ৫ গুণ এবং ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষে সেশন ফি ২৫-৩০% বৃদ্ধি করে। এর প্রতিবাদে পরদিনই জাতীয় ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল অবরোধ করলে প্রশাসন সিদ্ধান্ত স্থগিত করে। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আবাসিক হল নির্মাণ, একাডেমিক ভবন নির্মাণ, ইজঞঈ ভাড়া বাসের পরিবর্তে নতুন বাস ক্রয়, পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, পরীক্ষা ব্যবস্থায় মান্নোয়ন পদ্ধতি চালু, এক মাসের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ, প্রত্যেক বিভাগে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, লাইব্রেরিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বই সরবরাহ, ছাত্র সংসদ চালুসহ ১০ দফা দাবিতে প্রায় ৩ হাজার ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বাক্ষর সম্বলিত স্মারকলিপি ভিসি বরাবর প্রদান করা হয়। এ আন্দোলনের ধারাবাহিকতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫৫তম সিন্ডিকেটে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক গ্রেডিং নীতিমালা সংক্রান্ত গৃহীত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ও এতদসম্পর্কীয় ৫ দফা দাবিতে জাতীয় ছাত্রদল অপরাপর সাং¯ৃ‹তিক, রাজনৈতিক সংগঠন ও ছাত্র সমাজকে সাথে নিয়ে ৩ দিনের আল্টিমেটাম প্রদানের মাধ্যমে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত স্থগিত করাতে বাধ্য করে। ছাত্র সমাজের ন্যায্য দাবির প্রেক্ষিতে আন্দোলন করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীন দলের লেজুড়বৃত্তিকারী ছাত্র সংগঠনের সন্ত্রাসী ও ক্যাডারদের এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের রোষানলে পড়তে হয়েছে। তবুও জাতীয় ছাত্রদলের সংগ্রামী নেতৃত্বকে তারা দমিয়ে রাখতে পারেনি। জাতীয় ছাত্রদল কখনো প্রশাসনের স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তের সাথে আপোষ করেনি। আগামী দিনেও জাতীয় ছাত্রদল ন্যায়সংগত দাবি ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ছাত্র সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে।
সাথী ও বন্ধুগণ,
পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থা ২০০৮ সাল থেকে যে সংকটে পতিত হয় তা আজ আরও গভীর সংকট ও মন্দায় নিমজ্জিত। যার ফলশ্র“তিতে ঐসব দেশগুলোতে শ্রম ও প্ুঁজির দ্বন্দ্ব আজ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর কালের সবচেয়ে তীব্র। পুঁজিবাদ তার সংকট থেকে পরিত্রাণ পেতে ঐসব দেশের শ্রমিক শ্রেণীর অর্জিত অধিকারগুলো যথা- পেনশন ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, কল্যাণ ভাতা ইত্যাদি কাটছাঁট করে শ্রমিক জনতাকে কৃচ্ছ্রতা সাধনের নামে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে। যার ফলে ঐসব দেশের শ্রমিক জনতা আজ একচেটিয়া পুঁজির প্রতিনিধি বৃহৎ বহুজাতিক সংস্থা ব্যাংক, বীমা ও ইনস্যুরেন্স ইত্যাদির স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং তাদেরই কেন্দ্র নিউইয়র্কের বাণিজ্যিক এলাকা ওয়ালস্ট্রিট দখলের আওয়াজ নিয়ে সামনে আসছে যা ক্রমেই পৃথিবীর দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। যা সরাসরি শ্রেণী যুদ্ধের আওয়াজ। আমাদের মত নয়া উপনিবেশিক দেশের মানুষের সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে সংগ্রাম আমরা প্রতিনিয়ত করছি, সেই সব সংগ্রামের সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদী দেশের জনগণের যে সংগ্রাম তা একই সাধারণ শত্র“র বিরুদ্ধে তথা বহুজাতিক সংস্থা তথা একচেটিয়া পুঁজির প্রতিনিধি। যে জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের লড়াইয়ে তারা সংহতি জানাতে বাধ্য। আমাদের মত নয়া উপনিবেশিক দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করে সাম্রাজ্যবাদ ঐসব দেশে একটি কৃত্রিম স্বচ্ছলতার ঘোর তৈরি করে রাখতে পেরেছিল আজ আর সে অবস্থা নেই। আজ পুঁজির বিশ্বায়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের বিশ্বায়ন ক্রমেই সামনে আসছে। অন্যদিকে সাম্রাজ্যবাদ তাদের অতি উৎপাদন জনিত সংকট মুক্তির অপর কৌশল হিসেবে আমাদের মত নয়া উপনিবেশিক আধা-সামন্তবাদী দেশে বিভিন্ন প্রকার অসম চুক্তির মাধ্যমে ঐসব দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করে সংকট মুক্তির চেষ্টা করছে। যার ফলশ্র“তিতে সাম্রাজ্যবাদের সাথে নয়া উপনিবেশিক দেশের জনগণের দ্বন্দ্ব সামনে আসছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ এদেশে তার সামরিক, অর্থনৈতিক উপস্থিতিকে জোরধার করার প্রচেষ্টা হিসেবে টিফা, সোফা, হানা ইত্যাদি চুক্তি করেছে বা করার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদ সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধের নামে সারা পৃথিবীতে সন্ত্রাস ছড়িয়ে একের পর এক দেশে তার অনুগত দালালদের বসানোর পরিকল্পনা করছে। লিবিয়ায় ন্যাটো জোটের সর্বশেষ আক্রমণ ও দখল এবং গাদ্দাফির হত্যা ইত্যাদি সাম্রাজ্যবাদের সাথে জনগণের দ্বন্দ্বকে তীব্র করবে। অপর দিকে বাজার ও প্রভাব বলয় নিয়ে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্বও আজ তীব্র এবং তা ক্রমেই যুদ্ধের বিপদকে সামনে আনছে। যার ফলে সারা দুনিয়া জুড়ে বিপ্লবী পরিস্থিতি বিকশিত হচ্ছে।
সংগ্রামী বন্ধুগণ,
শ্রেণী বিভক্ত সমাজে শিক্ষা ক্ষেত্রেও শ্রেণী বৈষম্য বিদ্যমান। কোন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা তার সমাজ ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। বাংলাদেশ নয়া উপনিবেশিক আধা-সামন্ততান্ত্রিক দেশ হওয়ায় এর শিক্ষাব্যবস্থাও রয়ে গেছে অবৈজ্ঞানিক, অগণতান্ত্রিক ও উৎপাদন বিমুখ। যে কারণে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেও একজন শিক্ষার্থীকে বেকার থাকতে হচ্ছে। কাজের দাবিতে আজকে তারা আত্মাহুতি দিতে বাধ্য হচ্ছে। তাই নয়া উপনিবেশিক রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থে সামরিক-বেসামরিক, আমলা-মুৎসুদ্দি, দেশী ও বিদেশী এনজিওদের তত্ত্বাবধানে নির্বাচনের মাধ্যমে গণমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন সাম্রাজবাদ ও তার এদেশীয় দালাল শাসক শোষক শ্রেণীর বিরুদ্ধে চলমান জাতীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের সাথে শিক্ষার সংগ্রামকে একীভূত করা। তাই আজ প্রয়োজন প্রগতিশীল একদল তরুণ সংগ্রামী ছাত্র নেতৃত্ব যারা এ ধরনের আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলবে ও প্রতিরোধ করবে সাম্রাজ্যবাদী নীতি নির্দেশের শিক্ষানীতি। তাই সকলের প্রতি আহবান আসুন জাতীয় ছাত্রদলের পতাকা তলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী ২০ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে জাতীয় ছাত্রদল শাবিপ্রবি শাখার ১০ম কাউন্সিল সফল করি।

অভিনন্দনসহ
প্রদীপ দত্ত
আহবায়ক
১০ম কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটি
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×