দৃশ্য ১ - মাসুম চেহারার কিছু যুবক ছেলে হন্ত দন্ত হয়ে রাতে তাদের স্থানীয় নেতার বাসায় গেলো। নেতার বসার ঘরে বসে তালু তে তালু ঘসছে। নেতা বিরক্ত মুখে বসার ঘরে ঢুকলেন হাতে সিগারেট আর মদের গ্লাস নিয়ে। কিরে এতো রাতে তোরা কি চাস? কেও কোন উত্তর দিচ্ছেনা, নীরবতা ভেঙ্গে একজন মীন মীন করে বললো, লিডার একটা ভেজাল হয়ে গেছে। নেতা বললেন, কথা জোরে বল হারাম জাদা, কি ভেজাল হইসে। আরেকজন তখন বললো, লিডার পত্রিকায় ছবি উঠে গেছে আমাদের।
: পত্রিকায় ছবি উঠেছে এইটা বলতে তোরা এই মাঝ রাতে আমারে বিরক্ত করতে আসছস? হারামজাদার দল, বের হ!
: না লীডার, আজকে বিশ্বজিৎ নামের এক পোলারে আমরা কোপাইয়া মাইরা ফেলসি। সেইটা আবার সাংবাদিক রা ছবি তুলে পেপারে তুলে দিসে। কুত্তার বাচ্চার সাহস কতো লিডার দেখছেন?
: হুম...সাংবাদিক-দের আর কাজ কি...আমাদের পিছে লেগে থেকেই তো ওরা পেট চালায়... তা যাইহোক ছবি যে উঠসে সেইখানে চেহারা বুঝা যায়?
:বুঝা যায় লীডার
: হুম... তা কোপাইলি কেন? ও কি আমাদের এন্টি ছিলো নাকি...
: জানিনা লিডার...রাস্তায় বইসা ছিলাম আমরা, একটা ছেলে যাচ্ছিলো সামনে দিয়ে, ভোলা ভালা চেহারা...দেইখা বুঝা যায়না ব্যাটা কতো বড়ো সন্ত্রাসি...বিএনপির সন্ত্রাসি কেমন হয় বুঝেনই তো...তখন কে জানি পাশ থেকে বলে উঠলো মার শালারে...এইটা বিএনপির দালাল...এইটা শুইনা মাথা ঠাণ্ডা রাখতে পারলাম না...যে যার মতো, রড-চাপাতি দিয়া কুপানি শুরু করলাম...শুয়োরের বাচ্চার সাহস কতো দৌড় দিয়া এক দোকানে ঢুকছিলো... ঐখানে গিয়া ভইরা দিসি...কুত্তার বাচ্চা রাজনীতি করস? দেখ কেমন লাগে...
: সন্দেহ কইরা একটা মানুষ মাইরা ফেললি? হুম...বিএনপি করে যেহেতু...মাইরা খুব একটা ভুল করস নাই...কিন্তু এখন তো তোদের নিয়া টেনশনে পড়ে গেলাম...আচ্ছা এক কাজ কর তোরা যে যার মতো গা ঢাকা দে...বাকিটা আমি দেখতেসি
দৃশ্য ২ - সেই এলাকার এম.পি কে প্রধান মন্ত্রি ফোন দিলেন।
: কবির, কি রকম ছেলে পেলে নিয়ে রাজনীতি করো বুঝিনা, দিন দুপুরে ক্যমেরার সামনে মানুষ মেরে ফেলে যেইসঅব গাধা, ওদের কে দলে রাখো কেন? কিছু শিখোনাই এখনো? শুনলাম ঐ ছেলে নাকি নিরীহ, কোন রাজনীতি করেনা...
: জী, আপা কি বলবো আপনাকে বুঝতে পারছিনা। ওরাই তো কইদিন আগে শিবির-জামাত-বিএনপির বিরুদ্ধে মিছিল করলো, ওরা আসলে ত্যাগি নেতাকর্মী। বয়স কম তো...মাথা গরম করে একটামাত্র মানুষ মেরে ফেলছে, তাও হিন্দু, কেউ তেমন মাথা ঘামাবেনা। আপা আপনি যদি একটু না দেখেন, মাসুম বাচ্চা গুলো বিপদে পরে যাবে।
: কবির তুমি এটা কি বল্লা, এখন আমি ওদের বিরুদ্ধে কিছু না বললে , জনগন, মিডিয়া এটা নিয়ে কথা তুলবে। বরং একটা কাজ করো তুমি, ওদের কে লুকিয়ে রাখো...আমি এইদিকে ওদের ধরার জন্য প্রশাসন-কে বলবো... আর নিরপরাদ ২/৩ টারে ধরে পরে জেলে ঢুকিয়ে দিলেই হবে। শোন কবির, এইসব ছোট খাট ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামিয়ে লাভ আছে? যুদ্ধাপরাধীদের বিচাএ করতে হবে, ঐসব নিয়ে ভাবো, কাজে দিবে। আর কি জানি ছেলের নামে? বিশ্বজিৎ না ফিশ্বজিৎ ... ওর পরিবার কে ১০ হাযার টাকার একটা খতিপূরন দেওয়া ব্যবস্থা করো...আচ্ছা ১০ হাযার কম হয়ে যায়...১৫ হাযার দিও...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


