somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাবেয়া রাহীম
কস্তুরী খুঁজে ফিরে তার সুবাস..হায় মৃগ, যদি জানত গন্ধ কার! পাখিও খুঁজে ফিরে শিস--হায়, যদি সে জানত! সুর থাকে ভেতরে, অন্তরে.। চুপটি করে এই তো এখনো ডাকে, ব্যকুল হয়ে - ডাকে আর ডাকে ।।

আমেরিকার ডায়েরি (অদিতি পর্ব-১)

০১ লা আগস্ট, ২০১৬ সকাল ৭:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বড় দুটি পাখা মেলে আকশযানটি যখন অ্যাটলান্টিক মহাসাগরের উপরে ভেসে থাকে, তাঁর পেটের ভেতরে বসে থাকা আমার শরীরে কেমন যেন একটা শির শিরে অনুভুতি অনুভব হয়। তবে সেই সাড়ে তিন ঘন্টা সময় আমি চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টায় থাকি। সে যাইহোক বিমান ভীতি আমার সব সময়ের ছিল। তাই হয়ত ভীতি কাটানোর জন্যই নিজের দেশ ছেড়ে দশ হাজার মাইল দুরের ভিন একটি দেশে থিতু হতে হয়েছে। নিজ দেশের মাটির মায়া মাঝে মাঝে খুব বেশী কাছে টানে। তাই ছুটে যেতে হয় প্রিয় জন্মভুমিতে। সে কারনেই এই আকশযানে চড়া। তবে নিজ জন্মভুমির মাটির গন্ধ আলো বাতাস সব কিছুই অন্য রকম ভাল লাগায় মুগ্ধ করে রাখে সবসময়। যাত্রা পথের নানা ঝঞ্ঝাট সামাল দিয়ে বিমানটির চাকা যখন বাংলাদেশের মাটি স্পর্শ করে চোখে পানি চলে আসে। মনে হয় মায়ের কোলে ফিরে এলাম সারাদিনের খেলা শেষে।

বেশ কয়েক মাস ধরে মাঝরাতে ঘুম ভাঙাটা এখন যেন রুটিন হয়ে গেছে। অস্বস্তি লাগে খুব। তারপরেও এই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে আমাকে প্রায় প্রতিদিনই পড়তে হচ্ছে। ঘুম ভাঙ্গার পর পর বুঝতে পারি, এই ঘুম সহজে আসবেনা, তখনই বিছানা ছেড়ে উঠে আসি।
তিন তলার উপর আমার এই ফ্ল্যাটের মোটা কাঁচের ঘেরা বারান্দায় দাঁড়ালেই মন ভালো হয়ে যায়। মাঝরাতে ম্যানহাটানের আলোকোজ্জ্বল বাতি গুলো অপূর্ব সুন্দর দ্যুতি ছড়িয়ে জল জল করে, কোথাও তেমন রাতের ঘুটঘুটে অন্ধকার দেখা যায় না।

হ্যাঁ মন ভালো হয়। তারমানে মন খারাপ নিয়েই আমার ঘুম ভাঙ্গে। মন খারাপের নানাবিধ কারন। ঘুম ভাঙ্গার পর খুব চায়ের পিপাসা পায়। চায়ের তেষ্টা মেটাতে সোজা কিচেনে চলে যাই। আমার চা বানানো টাও অন্য রকম। হাড়িতে পানি গরম করে তার ভেতর চা পাতা দিয়ে ফুটিয়ে ছাকনি দিয়ে ছেকে নেওয়া তেমন করে আমি আবার চা পান করি না। চায়ের জন্য আমি খুব সহজ পন্থা বেছে নিয়েছি। ইলেকট্রিক কেটলিতে পানি ফুটে উঠার পর এক ধরনের বিশেষ ধরনের ছাকনি পাওয়া যায় যেটা কাচের কেটলির ভেতর থাকে (এটা সাধারনত চীন দেশের মানুষ কে আমি ব্যবিহার করতে দেখেছি। তাদের কাছ থেকেই শেখা), ছাকনিতে চা পাতা দিয়ে ফুটন্ত পানি ঢেলে দেই। চায়ের গাড় সতেজ লিকার বের হয়ে অসাধারন গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে চায়ের তৃষ্ণা আরও পেয়ে বসে। রাতের নিস্তব্ধতায় ইলেক্ট্রিক কেটলিতে ফুটন্ত এই পানির গুড় গুড় শব্দটাও কেমন যেন অন্যরকম ভাল লাগে।
এই এখন মাঝরাতে অর্ণব কে ফোন করতে খুব ইচ্ছে হয়। ওর ভরাট কণ্ঠটা আজো কানে বাজে। যে সম্পর্ক রাখতে চায় না, তাকে মাঝরাতে ফোন করা হাস্যকর ব্যাপার। তাই ইচ্ছেটাকে মনের ভেতর কবর দিয়ে চায়ের কাপ হাতে নিয়ে আমি বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াই।

চায়ের কাপ হাতে নিয়ে ভাবনার অতলে ডুবে যাই। ভাবি এই যে হঠাৎ ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো এরকম কি অর্ণবেরও হয়? তখন সে কি করে? আমার মতই চা বানায়? নাকি বই পড়ে? রাত জেগে বই পড়া তার খুব পছন্দের ছিল, এখনো কি আছে এই অভ্যাসটি? কি যেন, আছে হয়ত! অর্ণবের সাথে সম্পর্কের ব্যর্থতাগুলো খুব ভাবায়। আচমকা ভেসে উঠে অর্ণবের সহজ সরল মুখটা। তাকে ভেবে মন খারাপ হয় অনেক রাত নির্ঘুম কাটে। কিন্তু যখন বুঝতে পারি সেও নিজেকে একাকীত্বের শৃঙ্খলে বেঁধে নিয়েছে তখন সুক্ষ মমত্ব বোধ মনের গভিরে জেগে উঠে । মায়াটা বড় অদ্ভুত একটা জিনিস, চাইলেই কাটিয়ে উঠা যায়না, এর রেশ ঠিকই থেকে যায়। যাই হোক আজকে এতো সব কথা কেন ভাবছি ? একবার একটা মানুষকে চিনলে তাকে তো ভুলে যাওয়া সম্ভব না হঠাত বুকের ভেতর কেঁপে উঠে অর্ণব এর জন্য।

(চলুক)



সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:৪৯
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বলুন - "হ্যালো আল্লাহ্‌, আমি এখনো বেঁচে আছি!"

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

আপনার কাছে মনে হচ্ছে, আল্লাহ্‌ আপনার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
তিনি আপনার দোয়া কবুল করছেন না।
আপনার কাছের মানুষকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন।
আপনার কোন চাকরী নাই। রিজিক ছোট হয়ে এসেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

উচ্চবংশীয় ছাগল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৯



এককালে কেবল ঘড়িতেই বাজতো টিক টিক- টিক টিক;
বারবেলায় এসে দেখছি টিক টিক বলে কিছু নেই আর ঠিক ঠিক!
বরং 'টিকটক'- এ আকণ্ঠ বুদ হয়ে আছে আবালবৃদ্ধবনিতা!
মানুষের লম্ফঝম্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

×