somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লাভ ইন দ্য টাইম অব কলেরা সিনেমাটি দেখার পর

১৩ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৪:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কখনো কোনো বই পড়তে গিয়ে লাইনের পর লাইন এগিয়ে, পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা উল্টিয়ে কেবলই নিজের জীবনের গোপন ক্রন্দন, বেদনা ও বিষণ্ণতার কথাই যখন মনে হতে থাকে যখন কোনো সিনেমা দেখতে দেখতে গোপনে ক্রন্দন জাগে, এবং সেই ক্রন্দনের আনন্দ গভীরভাবে উপলদ্ধ হতে থাকে তখন সেই বই বা সিনেমাটিকে বিশেষ ভাবতেই ভাল লাগে। গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের লাভ ইন দ্য টাইম অব কলেরা পড়তে গিয়ে একবার এই উপলদ্ধি আমাকে প্রচণ্ড তাড়িত ও প্লাবিত করে তুলেছিল। পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা এগিয়ে যেতে যেতে একটি শব্দের পুনরাবৃত্তি করেছি, মাস্টার। মাস্টার। যাদুবাস্তবতা, বাস্তবতা, অধিবাস্তবতা নয়, আমি মার্কেসে খুঁজে পেয়েছি গল্পের খুব পরিচিত ও পুরাতন এক অনুষঙ্গ। গল্পের বয়ন, ক্রাফট এবং শক্তিশালী গল্পটা। ভাষান্তরিত হলেও অনুধাবন করি, ভাষাও তার সমধিক যাদুকরী। মাস্টার লেখকের এই দুটি বৈশিষ্ট্য তার এতই আয়ত্ত যে তার এই অসাধারণ ও সহজাত এই ক্ষমতার নাম আমরা যাদুবাস্তবতা বলে চিহ্নিত করতে চাই।
মার্কেস অনুবাদেও ভীষণ আনন্দদায়ক বোধকরি এই গল্পের শক্তির কারণে। আবার ভাষা তো একই সঙ্গে অনুবাদ অযোগ্য, ভাষাভঙ্গি অনুবাদ অসম্ভব। তবু একটি বা দুইটি ভাষার অনুবাদের বেড়া ডিঙিয়েও মার্কেস উপাদেয়ই থাকে। চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হলেও সেই একই অনুবাদ বা রূপান্তরের নতুন এক বেড়া দাঁড়িয়ে যায়। তবু চলচ্চিত্র হয়েছে জেনে নতুনভাবে মার্কেসকে পাঠ করার সুযোগ হলো ভেবে পুনর্বার আপ্লুত হয়েছি। সাহিত্য থেকে রূপান্তরিত চলচ্চিত্র দেখতে দেখতে তুলনা চলে আসে স্বাভাবিকভাবে। কিন্তু মার্কেস এমনই এক ব্যাপার কখন চলচ্চিত্র ও অনুবাদের ভাষার দেয়াল টপকে তার গল্প আপনার জীবনে চলে এসেছে তা আপনি বুঝতেও পারবেন না। লাভ ইন দ্য টাইম অব কলেরা সিনেমাটি দেখতে গিয়ে আমার তাই হলো। সিনেমাটি দেখতে দেখতে গোপনে বার বার আমার ব্যক্তিগত ক্রন্দনের সঙ্গে মিশে গেল ফ্লোরেন্তিনো আরিজার ক্রন্দন।
প্রেম এমন এক অসুখ রূপে ফারমিনাকে আক্রান্ত করেছিল যার তুলনা চলে শুধু কলেরা নামের ব্যাধির সঙ্গেই। টেলিগ্রাফ অফিসের কর্মচারি ফ্লোরেন্তিনো একদিন ফারমিনা দোজাকে দেখে তৎক্ষণাত তার প্রেমে পড়ে যায়। তার বেঁচে থাকার অর্থভেদ হয় তৎক্ষণাত। এক সময় ফারমিনাও তার প্রতি আকৃষ্ট হয়। তারা ঠিক করে বিয়ে করবে। কিন্তু ফারমিনার বাবা মেয়ের বিয়ে বিষয়ে নিজের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দেন। ফ্লোরেন্তিনোর হাত থেকে ফারমিনাকে বাঁচাতে তিনি পরিবার নিয়ে স্থানন্তরিত হন। প্রেমিক প্রেমিকার যোগাযোগ থাকে। কিন্তু বছর গড়িয়ে আবার যখন তাদের দেখা হয় তখন ফারমিনা অনুধাবন করে যাদু কেটে গেছে। ফ্লোরেন্তিনো ছিল স্রেফ একটা ইলিউশন। ঘটনাক্রমে ফারমিনার সঙ্গে এক ডাক্তারের বিয়ে হয়। সংসার হয়, সন্তান হয়। আর ফ্লোরেন্তিনো রোগগ্রস্ত প্রেমিকের মতো তাড়িত হতে থাকে ৫০ বছরের অধিক সময় ধরে। একের পর এক নারীর সঙ্গে রহস্যময় সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। আবার নিজের কাছে ফিরে আসে, কেননা সেখানে ফারমিনা ছাড়া আর কেউ নেই। ফারমিনার স্বামীর মৃত্যু হলে তার কাছে যায় ফ্লোরেন্তিনো। তার দীর্ঘ অপেক্ষার কথা বলে। তাকে গ্রহণ করতে বলে। এবারও তার ভাগ্যে জোটে প্রত্যাখ্যান। একের পর এক চিঠি লিখে সে তাকে রাজি করায়। তাদের দেখা হতে থাকে, কথা হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ছোট একটা জাহাজে করে তারা ভ্রমণে বের হয়। ফারমিনার সঙ্গে বিছানায় ফ্লোরেন্তিনো মিথ্যা করে বলে, তার জন্য এই দীর্ঘ বচরগুলোতে সে নিজেকে কুমার রেখেছে। তার উপলদ্ধি হয়, আসলে মৃত্যু নয়, জীবনই অনন্ত, অনিঃশেষ।
মার্কেসের গল্পের পরতে পরতে থাকে কূটাভাস, কূটানুসঙ্গ। অনেক পরের অনুসঙ্গে চকিত রেফারেন্স। প্রত্যেক পৃষ্ঠায় থাকে আপ্তবোধ। মার্কেস গল্পের বহুমাত্রিক এক বলয়ে পাঠককে আটকে ফেলেন। যার বর্ণনা করা প্রায় অসম্ভব। প্রেম কী? এ প্রশ্নের উত্তর যদি কেউ জানতে চান তবে আমি বলবো একটি অসুখ, কলেরা। আর যদি কেউ প্রেম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান তবে তাকে বলবো লাভ ইন দ্য টাইম অব কলেরা উপন্যাসটি পড়ুন। আর যদি সংক্ষেপে জানতে চান তবে বলবো লাভ ইন দ্য টাইম অব কলেরা চলচ্চিত্রটি দেখুন।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই এপ্রিল, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১৪
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×