এক)
আজ দখিনা বাতাসে খুলে গেছে
মনের যত দুয়ার ছিল বন্ধ।
আজ যেদিকে তাকাই নাচছে শুধু
খেয়ালী কবির ছন্দ।
আজ মন বলে তাই, হারিয়ে যাই
দিক না জানা দিকে পাল উড়াই
গুছিয়ে মনের সকল দ্বন্ধ।
বাতাস বলে এসে কানে কানে
এই তো এখানে জীবনের কলতানে
মরা অতীতকে ভুলে গিয়ে চলো
মন সাজাই নতুন দিগন্তে।
পাখি বলে, চলো বন্ধু হারিয়ে যাই নীল দিগন্তে।
মনের কথা বলি পাখা মেলে উড়ে শূন্যে।
যা থাকে থাক পড়ে,
মন নিয়ে চলো যাই হারিয়ে
যেখানে জীবন মানেই শুধু আনন্দ।
২৮-১১-২০১৪
দুই)
সকালের সোনা রোদের কাছে
শিশিরভেজা ঘাসের কাছে
মনের কথাটি বলি আমি
এক তারার সুরে সুরে।
বিকেলের শ্যামল বনে
মিষ্টি রোদের নাচন দেখে
বাউল মন আমার হারিয়ে যায়
একতারার সুরে সুরে।
এই একতারা আমার দেশের কথা বলে
এই একতারা আমার প্রাণের কথা বলে।
একতারা আর দুতারা মিলে
ভাটিয়ালী সুর তোলে।
এই ভাটিয়ালীর সুরে
আমার মন ভেসে যায়, প্রাণ ভেসে যায়
নদীর কূলে কূলে।
এই পদ্মা-মেঘনা-যমুনা-তিস্তার তীরে
আমি স্বপ্ন বুনেছি দেশকে ভালোবেসে।
যেখানে দোয়েল শ্যামার শীষে
জীবন জাগে মৃত প্রাণে।
যেখানে ভালোবাসায় মন হারায়
দিগন্তের ওপাড়ে।
সেই সীমাহীন দিগন্তে আমি
লিখে রেখেছি একটি নাম।
বাংলাদেশ তার নাম।
সকালের শিশিরভেজা ঘাসে
সোনা রোদের নৃত্যের তালে
প্রতিদিন সুর উঠে তাই
বাংলাদেশের নামে।
০৫-১২-২০১৪
তিন)
চোখের জলে বুক ভেসে যায়
মনের কান্না কেউ দেখে না।
কান্না-হাসির এই দুনিয়ায়
দুঃখীর সাথী কেউ হয় না।
সুদিনের বন্ধু যে জন
দুর্দিনে সে কেউ না।
হায়রে রঙ্গরসের দুনিয়া
তোর লীলা বুঝি না।
পথের ধারে লুটায় যে মানুষ
সেই উড়ায় রঙিন ফানুস।
তোর এই খেলার মর্ম বুঝি না।
যে জন ছিল প্রাণের বন্ধু
সেই হইল পরম শত্রু।
মনের দামে কিনেছিলাম যে মন
তার কারণেই হইল আমার সর্ব বিসর্জন।
হায়রে অবাক দুনিয়া
তোর এমন খেলার মর্ম বুঝিনা।
মালি হয়ে যে জন
গাছের চারা করে রোপন
সেই আবার আপন হাতে
সেই চারা উপড়ে ফেলে
ঘটায় প্রাণের বিসর্জন।
তুই নাকি প্রেমিক পৃথিবী ?
এমন মালিরে কিছু বলিস না
তোর এমন প্রেমের মর্ম বুঝিনা।
১০-১২-২০১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



