somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেশ প্রেম প্রকাশের লাগাম টানুন, উদ্ধার তৎপরতার সক্ষমতা বাড়ান

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৩:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একবার-দু'বার নয়। বারবার প্রমান হয়েছে। অসংখ্যবার প্রমান হয়েছে। কিন্তু আমরা অক্ষমতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করিনা। আমরা দুর্ঘটনা কবলিত বিপদগ্রস্থ মানুষদের জীবন্ত উদ্ধারে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর কথা ভাবিনা।
দুর্ঘটনা পরবর্তি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলাই যে আমরা মোটেও পারদর্শী নই, তা কেবল রানাপ্লাজায় নয়, পদ্মার বুকে পিনাকী ০৬ লঞ্চ ডুবির ঘটনায় প্রমান হয়েছে। লঞ্চডুবি, আগুণ লাগা, ভুমিকম্প বা ভবনধস, রেলদুর্ঘটনা, সড়ক দুর্ঘটনাসহ কোন বিপর্যয় বা দুর্ঘটনায় আমরা চালাতে পারিনা আশানুরুপ উদ্ধার তৎপরতা। কারণ আমাদের ফায়ার সার্ভিসকে যুগপোযোগী হিসাবে গড়ে তোলা হয়নি। অথচ দেশপ্রেম প্রকাশের নামে আমরা দেদারসে খরচ করে গেছি রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা। কেবল রাষ্ট্র নয়, বেসরকারি পর্যায়েও চলে দেশপ্রেম প্রকাশের প্রতিযোগিতা। চলে ৭১ এর চেতনাকে পুজিঁ করে এক শ্রেণীর সুবিধাবাদী রাজনীতিকদের জমজমাট ব্যবসা।
ছোট্ট একটি উদাহরণ দেই। আমরা গ্রিনিজবুক অব রেকর্ড গড়তে সর্বোচ্চ মানবপতাকা বানিয়ে ছিলাম ১৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর। ওই বছর সর্বাধিক কন্ঠে জাতীয় সঙ্গিত পরিবেশন করে আমরা ভেঙে ছিলাম ভারতের রেকর্ড। কিন্তু পরের বছর পাকিস্থান আমাদের মানবপতাকার সর্বোচ্চ রেকর্ড ভেঙে ফেলে। প্রশ্ন হলো এই দুটি রেকর্ড গড়তে কত টাকা খরচ করেছে রাষ্ট্র? এটি নিয়ে কোন তর্ক-বিতর্কে যেতে চাইনা। তবে সহজ কথা হলো, ভারত বা চীন যদি মনে করে মানব সম্পদ ব্যবহার করে যত ধরণের রেকর্ড গড়া যায়, তত ধরণের রেকর্ড তারা প্রতিদিনই করতে পারে। এটি নিয়ে আমরা যতই লাফালাফি করিনা কেনো, ওদের ওপরে রেকর্ড গড়া সম্ভব না। তাছাড়া সর্বোচ্চ মানবপতাকা বানালে বা সর্বাধিক কন্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গাইলে কি প্রমান হবে আমরা দেশ প্রেমিক।
কেউ কি বিশ্বের কোন রাষ্ট্রের নাম বলতে পারেন, যারা নিজের দেশকে ভালবাসেন তা বোঝাতে "গলাবাজি" করেন, নানা অানুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে তা প্রমানের চেষ্টা চালান। আমি নিশ্চিত, এ উদাহরণ কেবল বাংলাদেশে সম্ভব।
মূল প্রসঙ্গে আসি। শাহাজাহানপুরের জিহাদকে আমরা জীবিত উদ্ধার করতে পারলাম না। জনগণের ট্যাক্স ও ভ্যাটের টাকায় যাদের বেতন হয়, তারা পরিস্কার বলে দিলেন, সেখানে কোন শিশু নেই। ভাবতে অবাক লাগে একজন মন্ত্রী কিভাবে বিষয়টিকে গুজব বলে উড়িয়ে দিলেন! তাঁর নিজের সন্তান ওই পাইপের মধ্যে আটকে থাকলে তিনি কি তা গুজব বলে চালাতে পারতেন?
বাস্তবতা হলো, আমাদের কাছে এমন কোন প্রযুক্তি নেই, যেটি ব্যবহার করে আমরা ঘটনাস্থলের কেন্দ্রবিন্দুতে পৌছাতে পারি, তথ্য উপাত্ত পেতে পারি। অথবা বলা যায়, প্রযুক্তি থাকলেও ব্যবহার জানার মত দক্ষকর্মী বাহিনী নেই সরকারের। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ২৬ ডিসেম্বর রাতে শুনলাম ফায়ার ব্রিগেডের পাঠানো জুস খেয়েছে শিশুটি। অথচ সকালে জানানো হলো ঘটনাটি গুজব!
এই গুজব যখন আকাশে-বাতাসে ঘুরছে, তখন নিজেদের জ্ঞানবুদ্ধি দিয়ে তৈরি করা খাচার সাহায্যে মৃত জিহাদকে উদ্ধার করলো কয়েকজন যুবক। এটি কি রাষ্ট্রের কর্তা ব্যক্তিদের জন্য চরম লজ্বা নয়!
স্পেক্ট্রাম ভবন ধস, রানা প্লাজা ধস এবং বিভিন্ন সময়ে নৌযান দুর্ঘটনার পর উদ্ধার কাজে সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলো ফুটে উঠেছে অসংখ্যবার। আমার মত সবাই হয়তো ঘটনার পর দু-পাঁচ দিন আলোচনা করবেন, লেখালেখি করেবেন এবং একপর্যায় আমাদের এই অক্ষমতার বিষয়টি ভুলেও যাবেন।
আসুন আমরা দেশপ্রেম প্রকাশের নামে লাখ লাখ কোটি কোটি টাকা ব্যায় না করে উদ্ধার তৎপরতার সক্ষমতা বাড়ায়। আমাদের ফায়ার ব্রিগেড বাহিনীকে দক্ষ করে তুলি। আমরা তো আমাদের দেশকে ভালবাসি। আমরা আমাদের ৭১ নিয়ে গর্ববোধ করি, যুদ্ধে নিহত-আহত সকল মুক্তিযোদ্ধাকে শ্রদ্ধা ভোরে লালন করি বুকের ভেতর। এ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক বা সন্দেহ প্রকাশের কিছু নেই। এই দেশে বসবাসরত প্রতিটি নাগরিক রাষ্ট্রের মঙ্গল চাই। কে মুক্তিযোদ্ধা, কে রাজাকার, কে আই এস এর চর, কে ভারতের দালাল, কে কার বিয়াই, এ নিয়ে বাকবিতন্ড ছাড়ুন, দেশপ্রেমের নামে উৎসব-আনন্দের বাজেট কমিয়ে ফেলুন। ফায়ার সার্ভিসকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলুন।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১১:৩২
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×