আমি যখন শৈশব পেরিয়ে কৈশর ছুই ছুই..তখন একটা মারাত্তক বোকামো করে ছিলাম। আমাদের পাশের বাসার এক বড় বোন ছিলেন। উনি সহ উনাদের পরিবারের সবাই আমাকে খুব আদর করতেন। আমি প্রতিদিন দু ’একবার ঐ বাসায় না গেলে আমার বলতে গেলে ঘুম আসতো না। অবসরে ঐ বড় বোনের সঙ্গে বসে বসে লুডু খেলতাম আর পিচ্চিদের সাথে ফাজলামো করতাম…তবে একটা বিষয়ে খুব অবাক হতাম..আমি যে যে সময়ে ওদের বাসায় যেতাম সে সময়ে তাদের এক নিকট আত্বীয়া মেয়ে তাদের বাসায় আসতো..তবে মেয়েটির বাসা যে খুব একটা দুরে ছিলো তা, কিস্তু নয়। আমাদের মহল্লাতেই বাসা ভাড়া করে তারা থাকতো..আমি মেয়েটির সঙ্গে প্রায় প্রতিদিনই লুডু খেলতাম..এবং ওর সঙ্গে খেলে প্রচুর আনন্দ পেতাম…কারন আমি আবার লুডু খেলায় চাল দিতে সব সময় চুরি করতাম..কিস্তু পাশের বাসার বড় আপুর সঙ্গে খেললে চুরি করাটা সম্ভব হতো না। আর ঐ মেয়েটির সঙ্গে অসংখ্যবার চুরি করলেও সে দেখেও না দেখার ভান করতো..আমাকে কিছুই বলতো না….শুধু কেমন করে যেন আমার দিকে তাকাতো। তবে লক্ষনীয় বিষয় হলো আমি এবং আপু যখন খেলতে বসি তখন যদি হটাৎই ঐ মেয়েটি এসে পড়তো..তখন আপু খেলার মধ্য থেকে উঠে পড়তেন….বলতেন তোরা খেল..আমি ভিতর থেকে আসছি, এই বলে যে উনি যেতেন…
ঐ মেয়েটি যতক্ষন আমার সাথে খেলতো ততক্ষন উনি আমার সাথে খেলতেন না…শুধু মাঝে মাঝে এসে ঐ মেয়েকে বলতেন …লূলূ কি ঝান্ডা…? মেয়েটি পুনঃপুনঃ বলতো…উল্লুকা পান্ডা..উল্লুকা পান্ডা…? আমি এই কথার মাথামুন্ডু কিছুই বুঝতাম না। তথন আপু ঐ মেয়েকে উদ্ধেশ্য করে বলতেন সাহস করো..ছক্কা তুলো…দেখবে জিতে গেছো। তখন আমি বলতাম সে জীবনেও আমার সাথে পারবে না…? কথা শুনে মেয়েটি কেমন রহস্য করে হাসতো। উত্তরে আপু বলতেন পারবে..পারবে…আমি আছি না। এখন মনে মনে আফসুস করি…হায়রে পোড়া কপাল ..আপু কোন খেলাটা শেখাচ্ছেন সেটা যদি তখন বুঝতাম তাহলে এতদিনে চোদ্দ কুটি মানুষের মধ্যে থেকে এক জনের অংশীদার হয়ে যেতাম। তো একদিন ওদের বাসার সদর দরজা না খুলে জানালার পর্দাটা আলতো ভাবে সরিয়ে ভিতরে দেখলাম কেউ আছে কিনা, কারন এই সময়ে এই ঘরের কর্তা ব্যক্তি অর্থাৎ আপুর বাবা ঘরে থাকেন। উনাকে আমি খুব ভয় পেতাম। জানালা দিয়ে দেখলাম উনি আছেন কিনা..? না, উনি নেই..তবে ভিতরে দেখলাম আপু আর ঐ মেয়েটি কি যেন বলাবলি করতেছে…আমি পর্দাটা ঠিক করে ভিতরে আসতে যাবো এমন সময় অস্পষ্ট যেন কানে লাগলো আমার নাম ধরে ওরা কি যেন বলতেছে…কৌতুহল বসত্ আমি ভিতরে প্রবেশ না করে আবার জানালা দিয়ে ওদের অস্পষ্ট কথা শুনার চেষ্টা করলাম। আপু তাকে বলতেছেন…আমি যে ভাবে বললাম তুই ঠিক সে ভাবে করবি..এত ভয় পেলে কি হয়…মেয়েটি বলল না আপা আমি এসব বলতে পারবো না..মেয়েটি আমার নাম ধরে বলল তারচেয়ে সহজ বুদ্ধি হলো তুমি আমাকে একটা চিঠি লিখে দাও…আমি যে ভাবেই হোক ওকে চিটিটা দেবো। তাদের এসব কথা শুনে কিনা কি ভেবে হুট করে দরজা খুলে মনের অজান্তো- আচমকাই বলে ফেললাম…আমি তোমাদের সব কথা শুনে ফেলেছি…তুমি আমাকে চিঠি দেবে এই কথা আমি খালাম্মাকে বলে দেবো … আমার কথা শুনে আপু এবং ঐ মেয়েটি মনে হলো বরফের মত জমাট হয়ে নির্বাক হয়ে গেলো…?
আমার দিকে শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকলো…হটাৎই যেন আমার মতিভ্রম হলো..একি..করলাম আমি..আমি কি এতোই বোকা.. মাছ না হয় উল্টে খেতে জানতাম না কিন্তু মাছ ধরা শিখাটা উচিত ছিল। আমি লজ্জায় ওদের দিকে আর তাকাতে পারলাম না..একদৌড়ে বাসায় চলে এলাম। বাসায় এসে সারারাত ঘুমুতে পারলাম না..বিবেকের দংশনে বার বার দংশিত হতে লাগলাম।
তারপর অনেকদিন যাবৎ ওদের বাসায় আর যাইনি…এরপর বহুদিন কেটে গেলো..মেয়েটির সঙ্গে কোন দেখা সাক্ষাত হল না। আজ এই পুরানো কথা ব্লগানোর কারণ, গত পরশু দনি কেনাকাটা করতে গিয়ে ঐ মেয়েটির সঙ্গে আচমকাই দেখা হয়ে গেল। তখন ওর সাথে ছিল তার স্বামী। আমাকে দেখে সে পুরানো দিনের কথা মনে করে কি যে হাসি হাসলো…আমিও সেদিনের বোকামোর কথা ভেবে হাসতে লাগলাম। আমি হাসতে হাসতে বললাম…লুলু কি ঝান্ডা…? সেও হাসতে হাসতে পুনঃপুনঃ বলল…উল্লুকা পান্ডা…উল্লুকা পান্ডা…..

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


