somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উল্লুকা..পান্ডা..

০৫ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১০:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি যখন শৈশব পেরিয়ে কৈশর ছুই ছুই..তখন একটা মারাত্তক বোকামো করে ছিলাম। আমাদের পাশের বাসার এক বড় বোন ছিলেন। উনি সহ উনাদের পরিবারের সবাই আমাকে খুব আদর করতেন। আমি প্রতিদিন দু ’একবার ঐ বাসায় না গেলে আমার বলতে গেলে ঘুম আসতো না। অবসরে ঐ বড় বোনের সঙ্গে বসে বসে লুডু খেলতাম আর পিচ্চিদের সাথে ফাজলামো করতাম…তবে একটা বিষয়ে খুব অবাক হতাম..আমি যে যে সময়ে ওদের বাসায় যেতাম সে সময়ে তাদের এক নিকট আত্বীয়া মেয়ে তাদের বাসায় আসতো..তবে মেয়েটির বাসা যে খুব একটা দুরে ছিলো তা, ‍কিস্তু নয়। আমাদের মহল্লাতেই বাসা ভাড়া করে তারা থাকতো..আমি মেয়েটির সঙ্গে প্রায় প্রতিদিনই লুডু খেলতাম..এবং ওর সঙ্গে খেলে প্রচুর আনন্দ পেতাম…কারন আমি আবার লুডু খেলায় চাল দিতে সব সময় চুরি করতাম..‍কিস্তু পাশের বাসার বড় আপুর সঙ্গে খেললে চুরি করাটা সম্ভব হতো না। আর ঐ মেয়েটির সঙ্গে অসংখ্যবার চুরি করলেও সে দেখেও না দেখার ভান করতো..আমাকে কিছুই বলতো না….শুধু কেমন করে যেন আমার দিকে তাকাতো। তবে লক্ষনীয় বিষয় হলো আমি এবং আপু যখন খেলতে বসি তখন যদি হটাৎই ঐ মেয়েটি এসে পড়তো..তখন আপু খেলার মধ্য থেকে উঠে পড়তেন….বলতেন তোরা খেল..আমি ভিতর থেকে আসছি, এই বলে যে উনি যেতেন…

ঐ মেয়েটি যতক্ষন আমার সাথে খেলতো ততক্ষন উনি আমার সাথে খেলতেন না…শুধু মাঝে মাঝে এসে ঐ মেয়েকে বলতেন …লূলূ কি ঝান্ডা…? মেয়েটি পুনঃপুনঃ বলতো…উল্লুকা পান্ডা..উল্লুকা পান্ডা…? আমি এই কথার মাথামুন্ডু কিছুই বুঝতাম না। তথন আপু ঐ মেয়েকে উদ্ধেশ্য করে বলতেন সাহস করো..ছক্কা তুলো…দেখবে জিতে গেছো। তখন আমি বলতাম সে জীবনেও আমার সাথে পারবে না…? কথা শুনে মেয়েটি কেমন রহস্য করে হাসতো। উত্তরে আপু বলতেন পারবে..পারবে…আমি আছি না। এখন মনে মনে আফসুস করি…হায়রে পোড়া কপাল ..আপু কোন খেলাটা শেখাচ্ছেন সেটা যদি তখন বুঝতাম তাহলে এতদিনে ‍চোদ্দ কুটি মানুষের মধ্যে থেকে এক জনের অংশীদার হয়ে যেতাম। তো একদিন ওদের বাসার সদর দরজা না খুলে জানালার পর্দাটা আলতো ভাবে সরিয়ে ভিতরে দেখলাম কেউ আছে কিনা, কারন এই সময়ে এই ঘরের কর্তা ব্যক্তি অর্থাৎ আপুর বাবা ঘরে থাকেন। উনাকে আমি খুব ভয় পেতাম। জানালা দিয়ে দেখলাম উনি আছেন কিনা..? না, উনি নেই..তবে ভিতরে দেখলাম আপু আর ঐ মেয়েটি কি যেন বলাবলি করতেছে…আমি পর্দাটা ঠিক করে ভিতরে আসতে যাবো এমন সময় অস্পষ্ট যেন কানে লাগলো আমার নাম ধরে ওরা কি যেন বলতেছে…কৌতুহল বসত্‌ আমি ভিতরে প্রবেশ না করে আবার জানালা দিয়ে ওদের অস্পষ্ট কথা শুনার চেষ্টা করলাম। আপু তাকে বলতেছেন…আমি যে ভাবে বললাম তুই ঠিক সে ভাবে করবি..এত ভয় পেলে কি হয়…মেয়েটি বলল না আপা আমি এসব বলতে পারবো না..মেয়েটি আমার নাম ধরে বলল তারচেয়ে সহজ বুদ্ধি হলো তুমি আমাকে একটা চিঠি লিখে দাও…আমি যে ভাবেই হোক ওকে চিটিটা দেবো। তাদের এসব কথা শুনে কিনা কি ভেবে হুট করে দরজা খুলে মনের অজান্তো- আচমকাই বলে ফেললাম…আমি তোমাদের সব কথা শুনে ফেলেছি…তুমি আমাকে চিঠি দেবে এই কথা আমি খালাম্মাকে বলে দেবো … আমার কথা শুনে আপু এবং ঐ মেয়েটি মনে হলো বরফের মত জমাট হয়ে নির্বাক হয়ে গেলো…?

আমার দিকে শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকলো…হটাৎই যেন আমার মতিভ্রম হলো..একি..করলাম আমি..আমি কি এতোই বোকা.. মাছ না হয় উল্টে খেতে জানতাম না কিন্তু মাছ ধরা শিখাটা উচিত ছিল। আমি লজ্জায় ওদের দিকে আর তাকাতে পারলাম না..একদৌড়ে বাসায় চলে এলাম। বাসায় এসে সারারাত ঘুমুতে পারলাম না..বিবেকের দংশনে বার বার দংশিত হতে লাগলাম।

তারপর অনেকদিন যাবৎ ওদের বাসায় আর যাইনি…এরপর বহুদিন কেটে গেলো..মেয়েটির সঙ্গে কোন দেখা সাক্ষাত হল না। আজ এই পুরা‍নো কথা ব্লগা‍নোর ক‍ারণ, গত পরশু ‍দনি কেনাকাটা করতে গিয়ে ঐ মেয়েটির সঙ্গে আচমকাই দেখা হয়ে গেল। তখন ওর সাথে ছিল তার স্বামী। আমাকে দেখে সে পুরানো দিনের কথা মনে করে কি যে হাসি হাসলো…আমিও সেদিনের বোকামোর কথা ভেবে হাসতে লাগলাম। আমি হাসতে হাসতে বললাম…লুলু কি ঝান্ডা…? সেও হাসতে হাসতে পুনঃপুনঃ বলল…উল্লুকা পান্ডা…উল্লুকা পান্ডা…..
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×