১ম মামাত বোনের বিয়ের আগের দিন। মামাত,খালাত ও ফুফাত ভাইবোন সবাই এক সঙ্গে মধ্যাহ্ন ভোজ সারছি। আর পরিবেশন করছেন আমার আম্মু। এমন সময় আম্মু হটাৎ আমার দুর সর্ম্পকের এক ফুফাতো বোনকে দেখিয়ে বলল, ওকে চিনিস..? ও হলো সুমি। আমি একটু লাজুক প্রকৃতির ছিলাম। তাই তার দিকে না তাকিয়ে বললাম, তাই..। ভোজন পর্ব শেষে সুমি আমার খালাকে লক্ষ্য করে আমাকে উদ্ধেশ্য করে বলল যে, তার দিকে তাকিয়ে আমার লাভ নেই, সে কোন রোবটের কাছে বিয়ে বসবে না।( উল্লেখ্য : তখন আমি CG Animation(Figure) পড়ালেখা করতেছি।) যখন আম্মুর সামনে আমাকে কথাটা বলছে তখন লজ্জায় আমার অবস্থা কাহিল।
আসলে বিষয়টা সামান্য হলেও হৃদয়ের কোথাও যেন রক্তকরণ টের পেলাম। এক ধরনের শুন্যতাবোধ আমার ভিতর জমা হতে লাগলো। কেবলি মনে হতে লাগলো, যা পড়ছি যা শিখছি সবিই ভুল, ফিগার এনিমেটরের জীবনে কখনো ভালবাসা, জড়তা,
অনুভুতি কিছুই থাকে না, সবিই মেকি নকল অনুভুতিশুন্য। সেদিন রাতে ভাল করে ঘুমাতে পারিনি, বার বার ঘুম ভেঙ্গে যায়। ঘুম ভাঙলেই চিৎকার দিতে ইচ্ছে, আমি CG F কিন্তু বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণীর রোবট...?
বছর খানিক পরে ? খালাত বোনের বিয়ে। বিয়ের অনুষ্টানের মধ্যে এক কোনে আমি পত্রিকা পড়ছি। দুর থেকে সুমি আমাকে দেখে খালাকে জিজ্ঞেস করলো, ছেলেটি কে..? খালা পরিচয় বললেন। এরপর সে আমার সামনে এসে আমাকে না চেনার ভান করে বলল, “ পত্রিকাটি দেখতে পারি”। আমি বললাম, দেখুন না আমার পাশে দাড়িয়ে..বলে আবার পড়ায় মনোযোগ দিলাম। আমার কখা শুনে ও হাসতে হাসতে বলল,“ না মানে পড়তে পারি কিনা জানতে চাচ্ছি”। আমি বললাম, পড়তে পারবেন..খুব সহজ ভাষায় লিখেছে। আমার উত্তর শুনে ও বোকার মত হাসতে লাগলো। এ সময় আমি ওর ভাব জমানোটা দীর্ঘায়িত না করে পত্রিকাটা ওর হাতে দিয়ে কনের রুমে এসে খালার সঙ্গে কথা বলতে লাগলাম। মিনিট দশেক পর সুমিও কনের রুমে এসে আমাকে জিজ্ঞেস করলো, আসলে আপনাকে তো চিনতে পারি নাই..আপনি কনের কি .?। আমি দুষ্টুমি করে বললাম, কনে আমার ভাবী, আমি বরের বাড়ী থেকে গায়ে হলুদ অনুষ্টানে এসেছি। আমার কথা শুনে খালা ও খালাত বোন হেসে উঠলো। এসময় খালা বলল, তোকে বলি নাই ও ...। এমন কথায় ও লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে ফেলল। আমিও মরার উপর খড়ার ঘা দিয়ে ও কে শুনিয়ে শূনিয়ে খালাকে বললাম, যারা রোবটের কাছে বিয়ে বসতে চায় না তাদেরকে আমি পরিচয় দেই না। কিছু বুঝতে না পেরে কনে আমার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকে। পরে যখন ঘটনাটা তাকে জানালাম। ও বলল মেয়েদের তো ভালোই পটাতে পারেন। একটু থেমে বললাম, আসলে রোবটদের শরীরে ভালবাসার সবটুই অনুভুতিই আছে, তারা ভালবাসতে পারে, অনুভুব করতে পারে, শেয়ার করেত পারে আনন্দ বেদনার মিশ্রিত অনুভুতি।
***তারপরও শুধু ভালবাসলেই হয় না, ভালবাসার মানুষকে কাছে পাওয়া চাই..একথা বুঝা উচিত ছিল রোবট ক্রিয়েটারদের।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


