আমি খুব সাধারণ একটা ছেলে । এসেছি খুব সাধারণ একটা পরিবার থেকে । তাই আমার ছেলেবেলা খুব একটা অসাধারণ কিছু নয় । তবে আমার কাছে এই সাধারণ ছেলেবেলায় খুব অসাধারণ মনে হয় । কেননা সেই হারিয়ে যাওয়া সময়টা আমি খুব মিস করি ।ফেলে আসা দিনগুলি , স্যরি রঙিন দিনগুলি আজ ও মাঝে মাঝে চকের সামনে ভেসে উঠে।
আমি খুব ছোটবেলায় হবিগঞ্জ শহরে চলে আসি । সম্ভবত তখন আমার বয়স ৫-৬ বছর। তাই গ্রামের বাড়িতে কাঠানো সময়টা খুব একটা মনে পরে না ।
আমরা যে বাসায় থাকতাম সেখানে ছোট্ট একটা বাগানের মত ছিল । ছিল কিছু ফুল গাছ । গাছগুলিতে প্রচুর ফড়িং আর প্রজাপতি বসত । আমি আর আমার বন্ধুরা ফড়িং ধরতাম । তারপর সেগুলিকে সুতা দিয়ে বেধে দিতাম । ফড়িংগুলি উড়ে যাবার চেষ্টা করত , আমরা তখন সুতা ছেড়ে দিতাম । এইগুলি অনেকটা ঘুড়ি উড়ার মত উড়ত । তবে খুব একটা উড়তে পারত না । এই কাজটায় বেশ মজা পেতাম । ক্লান্ত হলে ফড়িংগুলি ছেড়ে দিতাম । আমরা ক্লান্ত হলে , ফড়িং গুলি নয় । কাজটা অমানবিক , কিন্তু তখন ছোট্ট ছিলাম ; তাই অতশত বুঝতাম না ।
ছেলেবেলায় আরেকটা মজার কাজ করতাম । যদিও তখন ব্যাপারটা বুঝতাম না । এখন ওই ঘটনা মনে পড়লে ব্যাপক হাসি পায় । পাড়ার কিছু উঠতি বড় ভাইয়ারা হাতে একটা খাম কিংবা কোনো উপহার ধরিয়ে দিত । বলত তোদের ঐ আপু কিংবা দিদিকে দিয়ে আয়। আমি ওখুব আগ্রহ নিয়ে কাজটা করতাম । কারন কাজটা দিলে কখনো লজেন্স বা চিপস দিত ভাইয়ারা । খাওয়ার লোভেই মূলত কাজটা করতাম ।
এখন আমার একটা বোকামির ঘটনা বলি । আমি তখন ক্লাস 2তে পড়ি । আমাদের স্কুলে তখন বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলছে । আমি ভালো দৌড়তে পারি না , পারি না ভালো লাফ দিতে , তাই ঐগুলিতে অংশ নেই নাই । আমি খুব একটা লম্বা ও না , অংশ নেয়া হয় নাই তাই বিস্কুট দৌড় প্রতিযোগিতায় । কিন্তু আমাকে যে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হবে । মান ইজ্জতের ব্যাপার আছে না ।
শেষে অংশ নিলাম অঙ্ক দৌড় প্রতিযোগিতায় । দৌড়তে হয়ত পারি না ; কিন্তু অঙ্কটা মোটমুটি পারি ।
যথারীতি প্রতিযোগিতা শুরু হলো । অক দেয়া হলো । আরে অঙ্কটা তো আমার জানা , আমি এটা পারি অন্য সবার আগে আমার অঙ্ক শেষ । দৌড় শুরু করলাম । পিছনে তাকিয়ে দেখি কেউ নাই । আহা ! আমি 1st হতে চলেছি । মাঝপথে এসে মনে হলো খাতে আমি আমার নাম লিখি নাই । নাম লিখতে গেলাম । আর এই সুযোগে দুজন আমার আগে চলে গেল । আমি ওই অঙ্ক দৌড় প্রতিযোগিতায় 1st না হয়ে 3rd হলাম । পরে জানতে পারলাম ওরা ও খাতে নাম লিখে নাই । আহারে আফসোস !!!
চলবে ......................
এখন বর্তমান সময়ের কথা বলি । আমার বন্ধু জোহা ..
সে তার আম্মুর সাথে মোবাইলে কথা বলতেছে ,"আম্মু আমি এখন আর আগের মত দুধ খাইতে পারি না , মাংস ও খুব একটা খাই না । কারণ দুধে মেলামিন , গরুর মাংসে anthrax রোগের জীবানু । কি যে করি !! " । বলাই বাহুল্য দুধ আর মাংস ওর খুব প্রিয় ।
আমি ওকে বিয়ে করতে বললাম । আপনারা কি বলেন ????

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


