1952 সালের 21 শে ফেব্রুয়ারী ঢাকার ছাত্র-জনতা 144 ধারা ভেঙে স্মারকলিপি দিতে গেলে পুলিশ ছাত্র-জনতার ওপর নির্মমভাবে গুলি চালায়। এতে সালাম ,করকত, রফিক, জব্বার, শফিকসহ নাম না জানা অনেকে শহীদ হন। ঢাকায় গুলির খবর জানতে পেরে ওইদিন সন্ধ্যায়ই ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছিল রাজশাহী । সাথে সাথে রাজশাহীর ভাষা আন্দোলনের সাথে জড়িত রাজশাহী কলেজের ছাত্র হাবিবুর রহমান, ডাঃ এস এম গাফ্ফার, গোলাম আরিফ টিপু, সাঈদ উদ্দিন আহমেদ, একরামুল হকসহ সকলেই রাজশাহীর ভাষা আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু রাজশাহী কলেজে সমবেত হন। সেখানে তখন উপস্থিতদের নিয়ে গঠন করা হয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। মেডিকেল স্কুলের ছাত্র এসএম এ গাফ্ফারকে সভাপতি, হাবিবুর রহমান ও গোলাম আরিফ টিপুকে যৌথভাবে সাধারন সম্পাদক করে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঢাকায় নিহত শহীদদের স্মরণে সেখানে একটি শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরপর কলেজ এবং স্কুলের আন্দোলনরত সব ছাত্রছাত্রী এবং কলেজের গার্ড মিলে বিভিন্ন স্থান থেকে ইট কুড়িয়ে এনে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। স্মৃতি স্তম্ভ নির্মান করে তার গায়ে রিখে দেয়া হয়েছিল'শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ' এবং তার নিচে লেখা ছিল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত চরণ'উদয়ের পথে শুনি কার বানী, ভয় নাই ওরে ভয় নাই, নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান ক্ষয় নাই তাঁর ক্ষয় নাই।' এ শহীদ স্মুতি স্তম্ভ নির্মান করতে সারা রাত লেগে গিয়েছিল। পরদিন সকালে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সদস্যসহ আন্দোলনরতরা রাস্তায় মিছিল সমাবেশ করতে বের হলে পুলিশ এসে এই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে গুড়িয়ে দেয়্। এরপর আর এটিকে পুন নির্মাণ করা হয়নি। এরপর থেকে ভাষার জন্য আন্দোলন সহ অন্যান্য আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হতে থাকে ভুবন মোহন পার্ক। কিন্তু পরবর্তিতে ভাষা আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ আর সংস্কার করা হয় নি। এর জন্য রাজশাহীর কেউই আর উদ্যোগ নেন নি। অথচ দেশের প্রথম শহীদ মিনার হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়া হয় নি আজও।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


