somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দক্ষিণের মানুষঃ লঞ্চ যাত্রীদের আসুন ডেকে যাওয়ার ডাক দেই

২৭ শে জানুয়ারি, ২০১৪ বিকাল ৪:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

‘গোদের উপর বিষফোঁড়া’ একটু অশ্লীল শোনালেও বহুল ব্যবহৃত ব্যাকরণসিদ্ধ একটি খাঁটি বাংলা প্রবাদ, যার যথার্থ উপমা পটুয়াখালীর শহুরে মধ্যবিত্তের লঞ্চ যাত্রায় কেবিন প্রীতি বা কেবিন নির্ভরতা। শহরটি যেহেতু ছোট সবাই সবার পরিচিত, সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় তাই সামর্থের বাইরে হলেও হাজার টাকা ব্যয়ে তাকে লঞ্চের কেবিনেই যেতে হয়। হোক সে ছাত্র, চাকুরিজীবি বা ব্যবসায়ী, সক্ষমতা যতই সীমিত হোক পৌর এলাকার স্থায়ী মধ্যবিত্ত হলেই এই বাবুগিরিতে সে অভ্যস্ত হতে বাধ্য হয়।

অথচ এই শহরে অন্তত কয়েক ডজন পুরোধা ব্যক্তির নাম বলতে পারি সক্ষমতায় তারা শহরের শীর্ষ স্থানীয় হলেও সারা জীবন তারা ডেকেই চড়েছে, যাপন করেছেন এক মিতব্যয়ী জীবন। এক সময়ের শীর্ষস্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী, আমাদের বন্ধু নান্নুর বাবা ইদ্রিস সাহেব, জনতা বস্ত্রালয়ের বাবু পাল, রায়বিপনীর শ্যাম লাল রায়, বস্ত্র ব্যবসায়ী যতীন সাহা, দিপকদার বাবা অনীল দাস, গৌরাঙ্গ বস্ত্রালয়ের মালিক,স্টাইলিষ্ট ম্যান জনপ্রিয় কমিশনার গৌরাঙ্গ সাহা, মানিক ভাইর বাবা, জনতা মেডিকেলের মালিক, বাজিতার জমিদার পরিবারের সন্তান আলতাফ মজুমদার, চিত্ত রায়, ফণি দাস, করিম মৃধা এমনকি চিরকুমার বলরাম বণিক..আমার জানা মতে সারা জীবন তারা ডেকের যাত্রী ছিলেন, কখনোই আমাদের মত কেবিন রিজার্ভেশন করার প্রয়োজন বোধ করেননি। বাবু হয়েও বাবুগিরি দেখাননি কোনদিন।

আমরা এই প্রজন্ম যদি সিদ্ধান্ত নেই (পরিবার না থাকলে) এখন থেকে আমরা ডেকেই যাতায়ত করবো, তবে নতুন প্রজন্ম উৎসাহী হবে অহেতুক বাবুগিরি বন্ধ করতে। অস্বীকার করবো শহরের সন্তান যারা তরুন কর্মজিীবি অধিকাংশের ক্ষেত্রেই হয়তো কেবিনে যাওয়ার উপযোগিতা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু হাতেগোনা কয়েকটা ক্ষয়িষ্ণু পরিবার ছাড়া শহরের সকল পরিবারের সক্ষমতা অতীতের চেয়ে বেশী হলেও তার মানে এই নয় কেবিনে যাওয়ার মত যথার্থ উপযোগিতা তৈরি হয়েছে। এটি এখনও আমাদের জন্য ‘গোদের উপর বিষফোঁড়া’। তাই আসুন আমরা ডেকের যাত্রী হই; সবান্ধব বাড়তি বিনোদনের জন্য নয় বাস্তব চাহিদা পুরণে কেবিন বিলাসিতা ত্যাগ করা খুবই প্রয়োজন। আমরা শুরু করলেই হয়।

একটু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করি। ১৯৮৯ সালে আমি যখন ঢাকা কলেজে ভর্তি হই আমার বাবা তখন বরিশাল জেলা পরিষদে চাকুরী করে। মধ্যবিত্তের টানাপোড়েনের সংসারে আমার চাচা, চাচাতো ভাই-বোনরা, মামা, খালা অর্থাৎ নিকটতম আত্মীয় প্রায় সকলেই পটুয়াখালীতে আমাদের বাসায় থেকে, আমার মায়ের হাতের ভাত খেয়েই স্কুল, কলেজ পাশ করেছে (আজকের বউদের কাছ থেকে যা আমরা কল্পনাও করতে পারিনা!)। বাড়তি খরচ হিসেবে নতুন যোগ হলো আমার ঢাকায় পড়াশোনার বাড়তি শিক্ষাব্যয়। অবশ্য আমাদের চার ভাই বোনেরই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যয় নিভৃতচারী বাবাকেই যথাবিহীত বহন করতে হয়েছে। নতুন লেপ তোষক নিয়ে বাবা এলেন বরিশাল সদরঘাটে তার অবাধ্য মধ্য ছেলেকে লঞ্চে তুলে দিতে। নতুন বেডিংয়ে বিছানা হলো লঞ্চের ডেকে। অশ্রু সজল চোখে বাবা বিদায় নেয়ার আগে বললেন ‘আব্বু, মনে রাখিস-শুধু পড়াশোনা করার জন্যই যাচ্ছিস, সো নো ফরমালিটিস, একটু কম খরচে চলার চেষ্টা করিস-তুইতো এখন আর ছোট না সবই বুঝ’! আমি আসলে বুঝি নাই, সেই শেষ কৈশরেও বাবাকে কৃপনই মনে হলো। যথারীতি বাবার কথা আমি রাখিনি। একা বা সদলবল যাই হোক কেবিনেই চড়েছি সেই ছাত্র জীবন থেকেই, বাবাকে বোকা বানিয়ে। বাপের টাকায়ই ফুটানি করেছি শুধু ভাউচারটা দিয়েছি অভিনব সব অতীব প্রয়োজনীয় চাহিদাপত্র তৈরি করে। আজ যখন আমি কর্মজীবি তখন প্রতি পদক্ষেপে বাবার কথাই মনে পড়ে। তখন না বুঝলেও এখন বুঝি সামান্য আট আনার জন্য সব্জিওয়ালার সাথে বাবা কেন ঝগড়া করতেন। ‘তিনি বৃদ্ধ হলেন, বৃদ্ধ হলেন, বনষ্পতির ছায়া দিলেন গাছেরই মতন’। তারপর একদিন মরেও গেলেন। বাবাকে হারানোর ১৫ বছর পর আজ উপলব্ধি করি একদিন আমার সন্তানওতো এমনি আচরণ করবে আমার সাথে যা করেছি আমরা আমাদের পিতাদের সাথে।... ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাহিনী কথনের জন্য মাফ করবেন। তবে সবারই মাথায় থাকা উচিত আমরা যদি মিতব্যয়ী না হই অনাগত প্রজন্মের ভবিষ্যত নির্মাণ অনেকটাই কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ থাকবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৪ রাত ১২:২৪
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“Epstein “ বুঝতে পারেন ! কিন্তু রাজাকার,আলবদর,আলশামস আর আজকের Extension লালবদর বুঝতে পারেন না ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:০৮

মূলত এটি একটি ছবি ব্লগ। এক একটি ছবি একটি করে ইতিহাস। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কস্টের অধ্যায়।

এপস্টেইন ফাইল দেখে আপনারা যারা বিচলিত, জেনে রাখুন ভয়াবহ আরেক বর্বরতা ঘটেছিলো ৭১এ এদেশেই, আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:০১

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

ছবি, সংগৃহিত।

সারসংক্ষেপ

রমজানের রোজা ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদত। সাধারণ মুসলিম সমাজে রোজা ভঙ্গের ধারণা প্রধানত পানাহার ও যৌন সংসর্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অথচ কুরআন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ

লিখেছেন বিপ্লব০০৭, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৭



মানুষ আসলে কী?

Sophies Verden কেতাবে নরওয়েজিয়ান ইয়স্তেন গার্ডার (Jostein Gaarder) এক বিশাল বয়ান পেশ করেছেন ছোট্ট মেয়ে সোফির জীবনের গল্প বলতে বলতে। নীতি-নৈতিকতা, জীবন-জগৎ, সৃষ্টি নিয়ে সোফির ধারণা ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×