somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বৃষ্টিবিলাস-এলে তুমি ঘন বরষায়

১৩ ই জুন, ২০১১ দুপুর ১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সে বছর বৃষ্টির দেখা নেই।প্রতিদিন সকালে ঘুমঘুম চোখে জানালা দিয়ে বাইরে তাকাই আর হতাশ হয়ে বৃষ্টির পিন্ডি উদ্ধার করি।আজও সকাল সকাল মেজাজ খারাপ হয়ে গেল,ধ্যাৎ,আজও কোচিংয়ে যাওয়া লাগবে!বাসার পথ পেরিয়ে রাস্তায় দাঁড়াতেই আমাকে অবাক করে দিয়ে ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি শুরু হলো।ছাতা নিয়ে রিকশার জন্য অপেক্ষা করতে করতে আমি ঘোড়ার মত দাঁড়িয়েই ঘুমাচ্ছিলাম।পায়ের শব্দ শুনে ডানে তাকাতেই দেখলাম তাকে।সাথেসাথে আমার মন ভালো হয়ে গেল।
কিন্তু করছে কি বেকুবটা?চোখ কচলে ঘুম তাড়াতে বুঝলাম,সে ক্যাংগারুর মতো লাফিয়ে কাদাপানি থেকে পা বাঁচানোর চেষ্টা করছে।ইস্,ইচ্ছা করছে কাদায় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিই,জন্মের মতো ঢং ছুটে যাবে তখন বাবুসাহেবের।তখনি আমার সাথে চোখাচোখি হয়ে গেল।আমি আর কি করব,মিষ্টি করে হাসলাম।
পাশেই এক আন্টি বাজারের ব্যাগ হাতে রিকশার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন,তিনি আমাদের হাসাহাসি বিনিময় দেখে ভ্রু কুঁচকে ভস্মদৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন,মনেমনে হয়তো ভাবছেন,ছিছি,মাঝরাস্তায় হাসাহাসি হচ্ছে যে খুব?লজ্জাশরমের বালাই নেই নাকি?আমার বিরক্ত লাগছিল খুব,মনে মনে বললাম,মর তুই!
জনাবেরও কি কাজ নাই?গাধাটা বৃষ্টির মধ্যে করে কি?সকাল সাতটা বাজে,পুরো রাস্তায় কেউ নেই,এসময় বাবুসাহেবের ভেজাভিজির শখ হয়েছে?রিকশা পাইনি একটাও,অনেকক্ষণ পর যে একটা রিকশা দেখা গেল,জনৈক আন্টি দৌড়ে দৌড়ে এগিয়ে হাঁচড়ে-পাঁচড়ে উঠে আগেই সেটা নিয়ে নিলেন।সে হাত দিয়ে আমাকে ইশারা করল,হেঁটেই যেতে হবে।রাগ লাগছিল খুব।ফিরে না তাকিয়ে হাঁটা শুরু করলাম জোরে জোরে।
আর অবাক কান্ড,সে-ও পুরো রাস্তা আমার পিছে পিছে এল।স্যারের বাসার গলির মাথায় পৌঁছে আমি তার দিকে ফিরে হেসে বললাম,এতটুকু রাস্তা এগিয়ে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।এখন আপনি বাসায় যান।আমার পড়া আছে।তাকে উত্তর দেয়ার সুযোগ না দিয়ে সিঁড়ি বেয়ে স্যারের বাসার দোতলায় উঠে গেলাম।

বারান্দায় কারো জুতা নেই,শুধু স্যারের দুটো ছেঁড়া স্যান্ডেল পড়ে আছে।ওদুটো তুলেই নিজের কপালে মারতে ইচ্ছে হলো।কেউ পড়তে আসেনি!আরে আশ্চর্য,আসবিই না যখন,ফোন করে আমাকে একবার বলা যেত না?মনে মনে বান্দরগুলোর চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করে ঝাড়লাম।বারান্দা দিয়ে বাইরে তাকাতেই আমার রীতিমত কান্না পেলো।বৃষ্টির ছাঁট এসে ভিজিয়ে দিচ্ছে,এত জোরেশোরে নেমেছে যে ৩ হাত দূরের আমগাছও ঝাপসা লাগছে।সব পাজির দল বাসায় মাথা চাদরে ঢেকে আরামসে ঘুমোচ্ছে,আর আমি!
নেমে আসতেই দেখি,বাবুসাহেব ছাতা মাথায় স্যারের বাসার গেটের ভেতর মাথা ঢুকিয়ে উঁকিঝুকি দিচ্ছেন।এ কি পাগলা নাকি?আমাকে বের হতে দেখেই সে অন্যদিকে ফিরে আমগাছের পাতা গুনতে শুরু করল।আমি সামনে এসে ভ্রু নাচাতেই কৈফিয়তের সুরে বলল,এদিক দিয়েই যাচ্ছিলাম...তোমার পড়া নেই??তাহলে একসাথেই বাসায় যাই।বলেই আমার চোখের দিকে তাকিয়ে ঝকঝকে দাঁত বের করে হাসি দিল একটা।
আমি অসহায় হয়ে গেলাম,ওই হাসিটা দেখলেই যে আমি দিশেহারা হয়ে যাই।মানুষটা এত সুন্দর করে হাসে কিভাবে?আমি আর কিছু না বলে মুখ নিচু করে হাঁটতে লাগলাম।
সে আমার থেকে বেশ দূরে,রাস্তার অন্য পাশ ঘেঁষে হাঁটছে।আমার ছাতাটা বেশ ছোট,ব্যাগ আর বইখাতা বাঁচাতে গিয়ে আমি অনেকটা ভিজতে ভিজতেই যাচ্ছি।তার সেদিকে খেয়াল নেই,সামনের দিকে তাকিয়ে হাঁটছে আর বকবক করে যাচ্ছে।আমিতো বৃষ্টির শব্দে ওপাশ থেকে কিছুই শুনতে পাচ্ছি না,তবুও খুব সিরিয়াস ভাব নিয়ে বড় বড় চোখ করে শুনছি আর মাথা নাড়াচ্ছি।কথা বলতে বলতে সে হাসছে একেকবার,আর আমার মাথা ঝিমঝিম করে উঠছে।
ইস্,বাতাসে আমাদের দুজনের ছাতাই উড়ে যেত যদি,একসাথে ভিজতে ইচ্ছে হচ্ছে যে খুব।জনাবের কি রোমান্টিকতা বলে কিছু নেই নাকি?আমাকে ওর ছাতার ভেতর আসতে বললেও তো পারতো!
আমি হতাশ হয়ে প্রকান্ড দীর্ঘশ্বাস ফেললাম আর ভাবতে লাগলাম,ওর চোখ থেকে চশমাটা খুলে ভেঙে দিলে কেমন হয়?চশমা ছাড়া কানাবাবাটা চোখেই দেখে না বলতে গেলে।তখন আর যাবে কোথায়?আমার হাত ধরেই তো তাকে হাঁটতে হবে।নাহলে,ওকে ধাক্কা দিয়ে কাদায় ফেলেও দেয়া যায়,আমি টেনে তুলব তাকে;আইডিয়া মন্দ না!
এমন এক সকালবেলায় হাত ধরে ভেজাভিজির কথা ভাবছি,আমার তো একটুও লজ্জা লাগছে না।ভালোই তো লাগে ভাবতে!
আজ সকালেই বের হওয়ার কথা ভাবতে মেজাজ চিড়বিড়ে হয়ে গিয়েছিল,এখন বাসার সামনে এসে রীতিমত কান্না পাচ্ছে।
ও বলল,আসি।আমি চলে যাওয়ার পর বামে তাকিও,কিছু একটা আছে।আবার হেসে,উল্টো পথে পা বাড়াল।আমি ঝাপসাভাবে তার মিলিয়ে যাওয়া দেখলাম।পাশে তাকিয়ে দেখি,কয়েকটা দোলনচাঁপা রাখা,বৃষ্টিতে আধভেজা।

আমি মনে মনে বললাম-
'বহুদিন হল কোন্ ফাল্গুনে ছিনু আমি তব ভরসায়,
এলে তুমি ঘন বরষায়।'

[বিঃদ্রঃ এটি একটি ফিকশন,এর সাথে বাস্তবের কোনও মিল নেই।]
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুন, ২০১১ রাত ১১:৩৯
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×