স্বর্গ ও নরক একটি সন্দেহবোধক ধারনা। এদুটি জিনিস থাকতে পারে, নাও থাকতে পারে। এই সম্পর্কে মোটামুটি তিনটি দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।
১. স্বর্গ ও নরক রয়েছে যথাক্রমে ধর্মবিশ্বাসী ও তাতে অবিশ্বাসীদের জন্যে। অবশ্য ধর্মবিশ্বাসীদের মধ্যে যারা পাপী তারা নরকে গেলেও শাস্তি ভোগের পর স্বর্গে ফিরে আসবে। এবং তাতে অনন্ত কাল থাকবে। পক্ষান্তরে ধর্মে অবিশ্বাসীরা চরিত্রবান ও মানবতার সেবক হলেও নরকে যাবে এবং তাতে অনন্ত কাল থাকবে।
২. স্বর্গ ও নরক বলে কিছুই নেই।শুধু মাত্র লোকদেরকে অন্যায় থেকে ফেরানোর জন্যে এটি পাতা হয়েছে।
৩. পাপ পূণ্যের জন্যে রয়েছে জম্মান্তরের ব্যবস্থা, স্বর্গ নরক নয়।
প্রথম দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়েই আমি বলতে চাই, যদি স্বর্গ নরক থাকে,তবে স্বর্গে শুধু চরিত্রবান ও মানবসেবাকারীরাই যাওয়ার কথা, হোক সে ধর্মে বিশ্বাসী অথবা অবিশ্বাসী। তেমনি নরকে শুধু চরিত্রহীন ও মানবতার শত্রুরাই যাবার কথা। হোক সে ধর্মে বিশ্বাসী অথবা অবিশ্বাসী। কেননা স্রষ্টা নিশ্চয়ই এমন সংকীর্ণমনা নন যে কেউ তাকে না মানলে বা তার পুজো না করলে তিনি তাকে নরকে ভরে দেবেন। তিনি নিশ্চয় মানুষের ভালো চান। এবং মানুষকে ভালো দেখতে চান। তাই মনে হয় ধার্মিক চরিত্রহীন ও মানবতার শত্রুদেরকে স্রষ্টা বেশি শাস্তি দিবেন। যেহেতু তারা স্রষ্টার পরিচয় ও আদেশ জেনেও এবং তা মানার অঙ্গীকার করেও অপরাধ করেছে। এরুপ অপরাধ অবশ্যই তাদের চেয়ে জঘন্য যারা স্রষ্টার অস্তিত্বকে সঠিক মনে না করার কারনে এরুপ কোন দায়বোধ অনুভব করার কথা নয়। সুতরাং ধর্মে অবিশ্বাসের চেয়ে বিশ্বাসই বেশি ভাল কিন্তু ধর্মবিশ্বাসী চরিত্রহীন ও মানবতার শত্রুরাই অধিক নিকৃষ্ট। আর চরিত্রবান ও মানবতার সেবকরাই শ্রেষ্ঠ মানুষ। ধর্মে বিশ্বাসী হোক অথবা না হোক।
কারন ধর্মের উদ্দেশ্য হচ্ছে নৈতিকতার বিকাশ সাধন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

