somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

স্বরচিতা স্বপ্নচারিণী
অবসরে বই পড়তে পছন্দ করি, মুভি দেখতেও ভালো লাগে। ঘোরাঘুরিও পছন্দ তবে সেটা খুব একটা হয়ে উঠে না। বাকেট লিস্ট আছে অনেক লম্বা। হয়তো কোন একদিন সম্ভব হবে, হয়তো কোনদিন হবে না। কিন্তু স্বপ্ন দেখতে জানি, প্রত্যাশা করতে জানি। তাই সেটাই করে যাচ্ছি।

আজ কিছু ড্রামা হয়ে যাক ...

২৩ শে মে, ২০২১ বিকাল ৫:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



অনেক দিন পর ব্লগে এলাম। মুভি নিয়ে তো বেশ কিছু পোস্ট এর আগে লিখেছি। আজ ভাবলাম সম্প্রতি দেখা কিছু নাটক নিয়ে পোস্ট লিখি। আগে আমাদের দেশের ধারাবাহিক নাটক গুলো আমার বেশ দেখা হত। আজ রবিবার, নক্ষত্রের রাত, সাত চার দুই, হাকারবিন, এই মেঘ এই রৌদ্র, উড়ে যায় বকপক্ষী ইত্যাদি নাটক দেখে আমরা বড় হয়েছি। এই নাটকগুলো তাই এখনও ইউটিউবে দেখতে বেশ ভালো লাগে। একসময় ধীরে ধীরে এই ধারাবাহিক নাটকের সংখ্যা কমে যেতে শুরু করে। মেগা সিরিয়াল জায়গা করে নেয়। অনেক আগে একুশে টিভিতে বন্ধন নামে একটা সিরিয়াল মনে হয় আমার দেখা প্রথম বাংলাদেশি সিরিয়াল ছিল। বন্ধনের আগে একটা সিরিয়াল আমাদের বাসার সবাই দেখতাম। সেটার নাম ছিল মামা-ভাগ্নে। এটা পরিচালনা করেন ভারতের চলচ্চিত্র পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী, কিন্তু তখন ভারতে বাংলা কোনো স্যাটেলাইট চ্যানেল চালু না হওয়াতে এটা প্রচারিত হত আমাদের দেশি চ্যানেল এটিএন বাংলায়। এটা অনেক মজার ছিল। আমি তখন কার্টুন দেখে কূল পেতাম না। নাটক দেখার কোনো সময় নেই। কিন্তু বাসায় সবার দেখার বদৌলতে আমিও দেখা শুরু করেছিলাম। বড় হয়ে মামা ভাগ্নে সিরিয়াল টা অনেক খুঁজেছি কিন্তু কোথাও পাই নি। এরপরে এনটিভি তে দুটো সিরিয়াল অল্প অল্প দেখা হয়। একটার নাম ছিল স্পর্শের বাইরে আর অন্যটা কাছের মানুষ। আমার সাধারণত সময় পেলে মুভি দেখা হয় বেশি। কিন্তু মাঝে মাঝে একটু আধটু নাটক দেখতে ভালো লাগে। মেগা সিরিয়াল বা সিরিজ দেখার ধৈর্য্য আমার নেই। এর আগে অনেক বার সিরিজ দেখার অ্যাটেম্পট নিয়ে ১/২ সিজনের বেশি কখনই দেখতে পারিনি। তাই আমাকে ধারাবাহিক নাটকই টানে যেটা ৩০-৪০ পর্বে শেষ হয়ে যায়।

এখন টিভি দেখা হয় না, ধারাবাহিক নাটকও তেমন চোখে পড়ে না ইউটিউবে। মেগা সিরিয়াল আর না হয় টেলিফিল্মই বেশি হয় আমাদের দেশে। আর ওয়েব সিরিজ হচ্ছে কিছু। আমার জানারও ভুল থাকতে পারে। ভালো কোনো ধারাবাহিক নাটক যদি এখন বানানো হয়ে থাকে আর ইউটিউবে যদি পাওয়া যায় তাহলে আমাকে কমেন্টে জানাতে পারেন।

দেশি নাটক বাদে অল্প কিছু পাকিস্তানি আর কোরিয়ান নাটক ছাড়া সেভাবে আর কোনো নাটক দেখা হয়ে উঠেনি আপাতত। ২০১৮ সালে প্রথম পাকিস্তানি একটা কমেডি নাটক দেখেছিলাম সুনো চান্দা নামে। এটা রমজান স্পেশাল ড্রামা ছিল এবং বেশ মজা লেগেছিল। এরপরে ৭/৮ টি ড্রামা দেখে পাকিস্তানি ড্রামা একদম বাদ। এই বছর রোজার সময় ইউটিউবে ঋষিকেশ মুখার্জীর চুপকে চুপকে ফিল্মটি দেখছিলাম। সেই সময় সাজেশন হিসেবে একটি ড্রামা আসে যার নামও চুপকে চুপকে। তখন সম্ভবত তৃতীয় রোজা আর তিনটি এপিসোড আপলোড করেছে। বুঝতে পারলাম সুনো চান্দার মত এটাও রমজান স্পেশাল ড্রামা। অর্থাৎ পহেলা রমজানের দিন শুরু হয়ে ঈদের দিন শেষ হয়ে যাবে। পরে দেখি এটা আর সুনো চান্দার রাইটার একই। মানে কমেডি ড্রামাই হবে। রমজানে তারাবীহ শেষে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এমন কমেডি ড্রামা দেখতে বেশ ভালো লাগে। এর সাথে শুরু করলাম দিয়ার-এ-দিল দেখা। এটা একটু পুরানো ড্রামা। আজ এই ড্রামা গুলো নিয়ে মূলত লিখছি।


১) Chupke Chupke:

এটা সাইমা আকরাম চৌধুরীর লেখা একটি কমেডি ড্রামা। ২০১৮ সালে রমজানে কমেডি ড্রামা সুনো চান্দার সাফল্যের পর লেখিকা ২০১৯ সালের রমজানের এর সিজন ২ লেখেন। সিজন ২ তেমন ভালো লাগেনি যদিও আমার কাছে। ২০২০ সালের রমজানের জন্য তিনি নতুন একটি কমেডি ড্রামা লিখেছিলেন। নাটকের শুটিংও শুরু হয়েছিল। কিন্তু করোনার জন্য লকডাউন ঘোষণা করায় নাটকের শুটিং বন্ধ হয়ে যায়। এরপরে গত বছরের শেষের দিকে আবার যখন এই নাটকের শুটিং শুরু হয় তখন নাটকের বেশ কিছু অভিনেতা-অভিনেত্রী ব্যক্তিগত কারনে নাটকটি থেকে সরে দাঁড়ায়। যার ফলে নতুন অভিনেতা-অভিনেত্রী নিয়ে নাটকটি আবার পুনরায় শুটিং করা শুরু হয়।

নওয়াব সাহেব নামের এক ভদ্রলোকের পরিবারের কাহিনী এটি। তিনি এখন আর বেঁচে নেই। তার দুই স্ত্রীর বাড়ি একদম পাশাপাশি। দুই সতীনের ঝগড়াঝাটি থাকবে এটা জানা কথা। কিন্তু তাদের ছেলেমেয়ে আর নাতি নাতনীদের মধ্যে সম্পর্ক বেশ ভালো। বড় স্ত্রী নেক পারওয়ারের বাড়ির নাম নওয়াব ভিলা। বড় নাতনী মানিহা (মিনু) পড়াশুনা নিয়ে খুব ত্যক্ত বিরক্ত। বড় নাতি হাদি আপাতত এমবিএ করে বেকার বসে আছে। মিনুর ছোট বোন মুনিবার (মিরচি) কাজ হচ্ছে ঘরের যাবতীয় কর্মকান্ড তার দাদীর ফেসবুক আর ইন্সটাগ্রাম প্রোফাইলে আপলোড করা। হাদির ছোট ভাই ওয়ালিদ হচ্ছে মিনুর ক্রাইম পার্টনার। তাদের মূল কাজ হল মিনুর বাবার মাটির ব্যাংক থেকে টাকা চুরি করা।

অন্যদিকে ছোট স্ত্রী বাক্তোর বাড়ির নাম নওয়াব হাউজ। তার নাতি ফাজ ইব্রাহিম (ফাজি) সফল ব্যবসায়ী। পড়াশোনায় সে বেশ ভালো ছিল তাই মিনুর বাবার রিকোয়েস্টে সে মিনুকে পড়া দেখিয়ে দেয়। ফাজির জমজ বোন, বড় নাতনী গুল ফাজির বিয়ের জন্য পাত্রী দেখে বেড়ায় ঠিকই কিন্তু কোনো মেয়েই সে পছন্দ করতে পারে না। গুল ঐ বাড়ির সবার লাইফকে নিজে কন্ট্রোল করতে চায়। এই জন্য ফাজি এবং ছোট বোন মিশি কিছুটা বিরক্ত। গুলের এই সব কর্মকাণ্ড ফাজির মেজ বোন রামিন (রুমি) সবসময় সাপোর্ট করে। বাক্তোর ছোট নাতনী রামিশা (মিশি) আবার পুরো বিপরীত। সে অনেক নিরীহ গোবেচারা টাইপের।

আরও অনেক চরিত্র আছে। দুই দাদীর ঝগড়া বেশ মজার। তারা নিঃসন্দেহে অনেক ভালো অভিনয় করেছেন। লীড রোলে ফাজি আর মিনুর চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করেছে ওসমান খালেদ ভাট এবং আয়জা খান। অন্যদিকে প্যারেলাল লীডে রয়েছে আরসালান নাসির এবং আয়মান সেলিম যথাক্রমে হাদি ও মিশি রোলে। তাদের দুজনেরই প্রথম ড্রামা এটি। আরসালান নাসির একজন জনপ্রিয় ইউটিউবার। অন্যদিকে আয়মান সেলিম হচ্ছে পাকিস্তানের ক্রিকেটার সেলিম ইউসুফের মেয়ে। সে গ্রাজুয়েশন এবং ইন্টার্নশিপের জন্য দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিল। ডেব্যু হিসেবে দুইজনই অসাধারণ অভিনয় করেছে।

এর আগে যারা সুনো চান্দা পছন্দ করেছেন তারা দেখতে পারেন। আমার কাছে সুনো চান্দার থেকে এটা একটু বেশি ভালো লেগেছে, কারণ এটার কমেডি সীন গুলো বেশি মজার ছিল।

মোট পর্ব সংখ্যা ― ৩০
প্রথম ও শেষ পর্ব সম্প্রচারের তারিখ ― ১৪ এপ্রিল ২০২১ - ১৩ মে ২০২১
আইএমডিবি রেটিং ― ৯.২/১০
ব্যক্তিগত রেটিং ― ৯/১০
ইউটিউব লিংক ― Chupke Chupke
টাইটেল গানের ইউটিউব লিংক ― Chupke Chupke - OST





২) Diyar-e-Dil:

“A happy family is but an earlier heaven.” – George Bernard Shaw

এটা শুধু ড্রামা নয়, পুরো একটা ইমোশন আমার কাছে।

এটা রমজানের কথা। তখন সবে চুপকে চুপকে দেখা শুরু করেছি। পুরোটা দিন ওয়েট করে থাকতাম কখন রাত এগারোটা বাজবে। ওয়েট করতে করতে আগের দিনের পর্ব আরও একবার দেখে ফেলতাম। পরে চিন্তা করলাম অন্য একটা রমজান স্পেশাল ড্রামা চলছে তানা বানা নামে, সেটাও দেখা শুরু করি। কিন্তু সেটা খুব বেশি টানলো না, বেশ কতগুলো পর্ব দেখে বাদ দিলাম। ভাবলাম অন্য চ্যানেলের ইশক জালেবি নামে যেটা চলছে সেটা একটু দেখি। একটা পর্ব দেখলাম, এটাও চুপকে চুপকের মত কমেডি ড্রামা। একই রাইটারের লেখা কিনা। চিন্তা করলাম থাক। চুপকে চুপকে শেষ হলে ঈদের পর এটা দেখা শুরু করবো। একসাথে দুটো কমেডি ড্রামা না দেখে একটা সিরিয়াস টাইপের একটু পুরানো ড্রামা দেখি।

শুরু করলাম দিয়ার-এ-দিল। অনেক গুলো চরিত্র এই ড্রামাতে। প্রথম দিকের স্টোরি কিছুটা স্লো। অন্য কোনো ড্রামা হলে মনে হয় দেখা বাদ দিতাম। কিন্তু এই ড্রামার প্রাকৃতিক দৃশ্য এত বেশি সুন্দর। পাহাড় আমাকে সবসময়ই আকর্ষণ করে। OST তো সুন্দর এই ড্রামার, তবে তার থেকেও বেশি সুন্দর এর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক টা। অনেকে একটা ফেসবুক পোস্ট বা পিকচার দেখে থাকবেন যেটাতে লেখা থাকে - I am homesick for a place I am not sure even exists. One where my heart is full and my soul understood. এই ড্রামার লোকেশন গুলো যখন দেখতে থাকি সাথে সেই সুন্দর বিজিএম টা বাজতে থাকে তখন অনুভূতি টা এমনই হয়। আর সাথে ছিল ন্যারেটার হিসেবে ওসমান খালেদের সুন্দর কিছু উক্তি। পুরোই জমে ক্ষীর। যেন কবিতা পড়ার প্রহরে কবিতা পড়া হচ্ছে পুরোদমে। এত বেশি সুন্দর বিজিএম টা যে স্টার্টিং স্লো হলেও এটা দেখা বাদ দিতে পারিনি। আর তাছাড়া এটা তো জানতাম ওসমান খালেদ ভাট আর মায়া আলির এন্ট্রি তখনও হয় নি। ৮ নম্বর পর্ব থেকে তাদের কাহিনী শুরু হয়। রোজার শেষের দিকে এই ড্রামা নিয়ে এত বেশি মগ্ন ছিলাম যে, চুপকে চুপকের শেষের পর্ব গুলো নিয়ে সবাই যখন আফসোস শুরু করেছে আমার তখন সেদিকে কোনো ভ্রূক্ষেপই নেই। চুপকে চুপকের শেষের পর্বগুলোর ডিউরেশন কম ছিল আর খুব তাড়াহুড়া করে শেষ করার চেষ্টা করছিল, সেজন্য কিছুটা হতাশ হয়েছিলাম। কিন্তু ভাগ্যিস আমি ঐ সময়টাতে এই দিয়ার-এ-দিল দেখা শুরু করেছিলাম। অবশেষে এটা দেখা শেষ করলাম ত্রিশ রোজার দিন চুপকে চুপকের শেষ এপিসোড দেখার আগে।

দিয়ার-এ-দিলের কাহিনী শুরু হয় দুই ভাই বেহরোজ আর সুহেইব কে ঘিরে। তাদের বাবা আগাজান বেহরোজের ছোটবেলায় তার বিয়ে ঠিক করে রেখেছে তার চাচাতো বোন আঞ্জুমান্দের সাথে। কিন্তু বেহরোজ পছন্দ করে রুহিনা কে, তাই সে তার বাবার সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে রুহিকে বিয়ে করে। আর এদিকে আগাজানের কথায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও সুহেইব রাজি হয় আঞ্জুমান্দকে বিয়ে করতে। টাকাপয়সার কমতি থাকলেও বেহরোজ আর রুহির শুরুর জীবনে ভালবাসার কোনো কমতি ছিল না। অন্য দিকে সুহেইব আর আঞ্জুমান্দের জীবনে দূর দূরান্তেও কোনো ভালবাসা ছিল না। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হল কয়েক বছর পর এই অবস্থা সম্পূর্ণ পাল্টে যায় এই দুই কাপলের মাঝে। বেহরোজের মেয়ে ফারাহ এবং সুহেইবের ছেলে ওয়ালি ও মেয়ে জারমিনে ততদিনে বড় হয়ে যায়। শুরু হয় তাদের কাহিনী। এই ড্রামার কাহিনী শুরু হয় দুই ভাইয়ের মাঝে বন্ধুত্ব দিয়ে। আর এরপরে এটি ফোকাস করে দাদা আর নাতি-নাতনীর সম্পর্ককে। ড্রামার শুরুর দিকে মনে হবে দুঃখ-দুর্দশা যেন পিছু ছাড়ছে না। সাথে আছে রুহি আর তার ভাইয়ের ফ্যামিলির কাহিনী যেগুলো খুবই বিরক্তিকর। প্রথমবার সেগুলো স্কিপ করে দেখেছিলাম।(এখন আবার এটা দেখা শুরু করেছি, এবার কোনোরকম স্কিপ করছি না) কিন্তু ধীরে ধীরে কাহিনীটা এত বেশি ভালো লাগতে শুরু করে যে বলে বোঝানো সম্ভব নয়। আর শেষের দিকে সবচেয়ে বেশি সুন্দর। বিশেষ করে কোনো পাক-ড্রামার এত সুন্দর শেষ পর্ব দেখেছি বলে মনে করতে পারছি না। আমি কমেডি ড্রামা বেশি দেখি সাধারনত। কান্নাকাটি থেকে সব সময় দূরে থাকতে পছন্দ করি। কিন্তু এই ড্রামা তে এমন কিছু একটা আছে যা আমি আর কোনো ড্রামা তে পাই নি। এত সাদামাটা একটা কাহিনী এত ভালো লাগবে এই ড্রামা না দেখলে বুঝতে পারতাম না।

চুপকে চুপকে প্রথম দিকে অনেক ভালো লাগলেও শেষের পর্ব গুলো এত বেশি তাড়াহুড়া করেছিল বলে একটু আশাহত হয়েছিলাম। অন্যদিকে দিয়ার-এ-দিল শুরুর দিকে দেখার সময় যেমন এক্সপেক্টেশন ছিল, শেষের দিকে এসে তার থেকে বহুগুণ মুগ্ধতা কাজ করেছে। দুটো ড্রামার মাঝে তুলনা করছি না, দুটোর জনরা সম্পূর্ণ আলাদা। দুটোই আমার অনেক প্রিয়। ওসমান খালেদ অভিনীত সব থেকে প্রিয় তিনটি ড্রামা লিস্ট করতে বললে এই দুটো অবশ্যই সেখানে রাখবো। আর বাকি একটা কোনটা সেটা যারা পাক-ড্রামা দেখে তারা সবাই জানে। আমি শুধু দুটো ড্রামা একই দিনে শেষ করার পর অনুভূতিটা লিখতে চেষ্টা করলাম। কিন্তু মনে হচ্ছে সেটা লিখে ঠিকমত ব্যক্ত করতে পারিনি। শুধু বলতে চাই সম্পর্কের গল্পগুলো সবসময়ই অদ্ভুত সুন্দর হয়।

“Being a family means you are a part of something very wonderful. It means you will love and be loved for the rest of your life.” – Lisa Weed


মোট পর্ব সংখ্যা ― ৩৩
প্রথম ও শেষ পর্ব সম্প্রচারের তারিখ ― ১৭ মার্চ ২০১৫ - ২৭ অক্টোবর ২০১৫
আইএমডিবি রেটিং ― ৯.১/১০
ব্যক্তিগত রেটিং ― ১০/১০
ইউটিউব লিংক ― Diyar-e-Dil - Youtube
জিফাইভ লিংক ― Diyar-e-Dil - ZEE5
টাইটেল গানের ইউটিউব লিংক ― Diyar-e-Dil - OST





৩) Ehd-e-Wafa:

“Friends are the family you choose.” ― Jess C Scott

এটা নিয়ে আসলে লেখার ইচ্ছা ছিল না। উপরে লিখেছি ওসমান খালেদ ভাটের সেরা তিনটি ড্রামার ভিতর উপরের দুটি থাকবে। যারা পাক-ড্রামা কখনও দেখেনি তাদের প্রশ্ন জাগতে পারে আর অন্য টা কোনটি। সেটার উত্তরের জন্য ভাবলাম ছোট করে এটা নিয়ে লিখি। অনেক মানুষ এটা দেখার মধ্য দিয়ে পাক-ড্রামা দেখা শুরু করেছে। এটা এত মানুষের দেখা যে এটা নিয়ে নতুন করে লেখার কিছু নেই।

শারিক, শাহজেইন, সাদ এবং শেহরিয়ার কলেজ জীবনে খুব ভালো বন্ধু ছিল। তাদের সবার নাম S দিয়ে শুরু, তাই তাদের গ্রুপের নাম ছিল SSG (স্পেশাল এস গ্রুপ)। কিন্তু একটি কারণে তাদের ভিতর সম্পর্কে চিড় ধরে, আর তারা আলাদা হয়ে যায়। সাদ আর্মিতে জয়েন করে আর শারিক সাংবাদিকতাকে নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেয়ার চেষ্টা করে। শেহরিয়ার স্বপ্ন দেখে সরকারি চাকুরীজীবী হওয়ার। অন্যদিকে শাহজেইন এই গ্রুপের থেকে সব চেয়ে বেশি আলাদা হয়ে যায়, ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত থাকে। পরে পরিবারের সবার অনিচ্ছা সত্ত্বেও চিন্তা করে সে রাজনীতিতে প্রবেশ করবে। ওসমান খালেদ ভাট এখানে কিছুটা নেগেটিভ ক্যারেক্টার প্লে করেছে। যেটা তার চুপকে চুপকে আর দিয়ার-এ-দিল এর চরিত্রগুলো থেকে অনেক ভিন্ন ছিল।

মোট পর্ব সংখ্যা ― ২৫
প্রথম ও শেষ পর্ব সম্প্রচারের তারিখ ― ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ১৫ মার্চ ২০২০
আইএমডিবি রেটিং ― ৮.৬/১০
ব্যক্তিগত রেটিং ― ৯/১০
ইউটিউব লিংক ১ ― Ehd-e-Wafa - HUM TV
ইউটিউব লিংক ২ ― Ehd-e-Wafa - ISPR
টাইটেল গানের ইউটিউব লিংক ― Ehd-e-Wafa - OST

*** এহদ-এ-ওয়াফার হাম টিভির আপলোড করা অল্প কিছু পর্ব তে কিছু সীন হালকা কাটা আছে। তাই ISPR চ্যানেলে আপলোড করা পর্বের লিংকও দিয়ে দিলাম।








ছবি ঋণ - ইন্টারনেট
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুন, ২০২১ রাত ১১:০৫
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি বাড়ি এবং শেষ ঠিকানা

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ১২:৩১



মানুষ সামাজি জীব। সমাজ ছাড়া মানুষ বাচতে পারে না। আগে মানুষ গুহার মধ্যে বসবাস করিতেন। গুহাতে যখন তাদের স্থান সংকোলন না হওয়তে তারা সমতলে এসে বাড়ি বানানো শিখলো।

কালের... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি !

লিখেছেন স্প্যানকড, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২১ বিকাল ৩:১৬

ছবি নেট ।


তুমি,
জুলাই মাসের জমিন ফাটা রোদ্দুর
গরম চা জুড়ানো ফু
ছুঁলেই ফোসকা পড়ে
ভেতর বাহির থরথর কাঁপে
গোটা শরীর ঘামে।

তুমি তো
আর কাছে এলে না
আসি আসি বলে
ঝুলিয়েই... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আবোল তাবোল=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২১ বিকাল ৪:১০



©কাজী ফাতেমা ছবি

১/
খুললে তালা মনকুঠুরীর, তবু বাঁধা শত!
মনবাড়িতে জরাজীর্ণ, পোকায় খাওয়া ক্ষত,
নিজের স্বার্থ রাখলে বজায়, মুখে রেখে হাসি
কেমনে বলো এমন তোমায়, অথৈ ভালোবাসি।
তার চেয়ে ঢের থাকুক তালা, লাল মরিচায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিমণির কুরুচি নৃত্য আমার ভালো লাগছে

লিখেছেন ব্রাত্য রাইসু, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৩৭



জন্মদিনে লুঙ্গি কাছা দিয়া নাইচা পরিমণি রুচিহীনতা প্রদর্শন করছেন। আমার তা ভালো লাগছে।

রুচিহীনতা বা কুরুচি প্রদর্শন করার অধিকার তার আছে। তেমনি রুচিহীনতারে রুচিহীনতা বলার অধিকারও ভদ্র সমাজের আছে তো!

অনেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের আসমান নিয়ে ভ্রা্ন্ত ধারণা রোধ করুন। নাস্তিক ব্যাটার শাস্তি চাই।

লিখেছেন রাশিদুল ইসলাম লাবলু, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ১১:২৪

সু প্রিয় পাঠক আজকে আমি ইউটিউবের আরেক নাস্তিক আলেকজেন্ডার সোলালিন নামের (ছদ্মনামধারী কেউ) এর আরেকটি উপহাসের জবাব দিতে প্রস্তুত হয়েছি। এই ব্যাটা নাস্তিক বলছে আল কোরআনের একটি আয়াতেই নাকি প্রমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×