somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

স্বরচিতা স্বপ্নচারিণী
অবসরে বই পড়তে পছন্দ করি, মুভি দেখতেও ভালো লাগে। ঘোরাঘুরিও পছন্দ তবে সেটা খুব একটা হয়ে উঠে না। বাকেট লিস্ট আছে অনেক লম্বা। হয়তো কোন একদিন সম্ভব হবে, হয়তো কোনদিন হবে না। কিন্তু স্বপ্ন দেখতে জানি, প্রত্যাশা করতে জানি। তাই সেটাই করে যাচ্ছি।

অ্যাকাডেমি পুরস্কার মনোনীত কিছু অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র

০৫ ই নভেম্বর, ২০২২ দুপুর ২:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





"Animation is just another way of telling a story." ― Christopher Miller

অনেক দিন পর ব্লগে এলাম নতুন পোস্ট নিয়ে। আশা করছি সবাই ভালো আছেন।

এবারের পোস্টটি লিখেছি গত বছরের কিছু অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র নিয়ে। আমি ছোটবেলা থেকেই অ্যানিমেটেড ফিল্মের অনেক বড় ফ্যান। ৯৪তম অস্কারে Flee, Raya and The Last Dragon, The Mitchells vs. the Machines, Luca এবং Encanto নমিনেশনে ছিল। Flee বাদে বাকি ফিল্মগুলো রিসেন্টলি দেখা শেষ করেছি। সাধারণত ভালো অ্যানিমেটেড মুভি এলে আমি তাড়াতাড়ি দেখার চেষ্টা করি। বিশেষ করে ভালো ডিজনী ফিল্মগুলো আমি তেমন মিস দেইনা। তবে এবার বেশ দেরি করেই দেখা হল ফিল্মগুলো। যেহেতু ভালো লেগেছে তাই এগুলো নিয়ে অল্প কিছু লিখতে চেষ্টা করেছি।


১) Raya and The Last Dragon:

এই ফিল্মটি আমি খুব কম এক্সপেকটেশন নিয়ে দেখা শুরু করেছিলাম। এর কারণ ছিল ডিজনির লাস্ট দুটো অ্যানিমেটেড ফিল্ম (Moana এবং Frozen 2) নিয়ে আমি অনেক এক্সাইটেড থাকার পরও কম ভালো লেগেছিল। মোয়ানার স্টোরিটেলিং খুব বোরিং ছিল অন্যদিকে ফ্রোজেন টু এর ভিজ্যুয়াল খুব ভালো হলেও এটি একটি অপ্রয়োজনীয় সিক্যুয়েল ছিল। গল্প ভালো লাগেনি। কিন্তু সারপ্রাইজিংলি রায়া আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে।

এই ফিল্মের গল্প শুরু হয় পাঁচশো বছরের আগের কাহিনী দিয়ে। তখন কুমান্দ্রা নামের একটি ভূখন্ডে মানুষের সাথে সাথে ড্রাগনরা বসবাস করতো। হঠাৎ করে ড্রুন নামের একটি খারাপ স্প্রিরিট প্রানীকূলকে পাথরের মূর্তি বানিয়ে দিতে আরম্ভ করলো। ড্রাগনরা খুব চেষ্টা করেছিল ড্রুনের হাত থেকে সমস্ত প্রানীদের বাঁচাতে। কিন্তু শেষে মাত্র পাঁচটি ড্রাগন বেঁচে ছিল। তারা পৃথিবীকে বাঁচাতে নিজেদের সমস্ত শক্তি একত্র করে একটি ক্রিস্টাল জেম বানায়। একা যেহেতু তারা ড্রুনকে দমন করতে পারছিল না তাই সম্মিলিত শক্তি দিয়ে তাকে দমন করার চেষ্টা চালালো। কিন্তু এর ভিতর চারজন পাথর হয়ে গেল। আর সেই সম্মিলিত শক্তির ক্রিস্টাল জেমের জোরে শেষ ড্রাগনটি (যার নাম সিসু) ড্রুনকে পরাজিত করে ফেললো। যার কারণে প্রানীকূলের সবাই পাথরের মূর্তি থেকে আবার নিজেদের রূপে ফিরে এলো। কিন্তু ড্রাগনরা সবাই মূর্তিই থেকে গেল। এই ঘটনার পরে শেষ ড্রাগন সিসু কোথায় গেল সেটা কেউ বলতে পারে না। কেউ কেউ ধারণা করে সে কোনো এক নদীর শেষপ্রান্তে ঘুমিয়ে আছে। কালের বিবর্তনে মানবজাতির মাঝে বিরোধ দেখা দেয়। কুমান্দ্রা রাজ্য ভেঙে পাঁচটি রাজ্যে পরিণত হয়। এর ভিতর হার্ট নামের রাজ্যের উপর ক্রিস্টাল জেমের মালিকানা ও সংরক্ষণের দায়িত্ব থাকে। অন্য রাজ্যগুলোর চীফ এজন্য হার্ট রাজ্যকে অনেক অপছন্দ করে। হার্টের রাজ্যপ্রধান (চীফ বেনজা) চায় পাঁচটি রাজ্য একত্র হয়ে আবারও কুমান্দ্রা রাজ্য গঠন করা হোক। কিন্তু অন্যান্য রাজ্যপ্রধানরা এই প্রস্তাবে পাত্তা দেয়না। তারা মূলত ক্রিস্টাল জেম নিজেদের দখলে নিতে চায়। ক্রিস্টাল জেম পাওয়ার পর তারা নিজেদের ভিতর কাড়াকাড়ি করতে যেয়ে জেমটি ভেঙ্গে পাঁচ টুকরো করে ফেলে। যার ফলস্বরূপ ড্রুন আবার ফিরে আসে এবং সবাইকে পাথরের মূর্তি বানিয়ে দিতে শুরু করে। পাঁচজন রাজ্যপ্রধানের কাছে ক্রিস্টাল জেমের পাঁচটি টুকরো চলে যায়। চীফ বেনজা তার মেয়ে রায়াকে ড্রুন থেকে দূরে নিরাপদ স্থানে রাখতে সক্ষম হলেও নিজে পাথর হয়ে যায়। রায়া তাই জেমের টুকরোটি নিয়ে ছয় বছর ধরে সব নদীর শেষ প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছে, যদি সিসুর দেখা পাওয়া যায়। তার ধারণা সিসুকে পাওয়া গেলে সে আবারও একটি জেম বানিয়ে ড্রুনকে পরাজিত করে ফেলবে। আবার হয়তো পাঁচশো বছর আগের মত সবাই পাথরের মূর্তি থেকে নিজেদের রূপে ফিরে আসবে।

ডিজনী সবসময় চেষ্টা করে প্রতিটি ফিল্মে বাচ্চাদের জন্য একটি মেসেজ রাখতে। এই ফিল্মে খুব সুন্দরভাবে পৃথিবীতে সম্পদ নিয়ে বিভিন্ন দেশের মাঝে দ্বন্দ্ব এবং যুদ্ধের নেতিবাচক দিক তুলে ধরা হয়েছে। যুদ্ধ যে কখনও কোনো সমাধান এনে দিতে পারে না, সবাই একত্রে জোট হয়ে সব সমস্যার সমাধান করে ফেলতে পারে সেটাই ফুটিয়ে তুলেছে। কিন্তু যাই হোক, বাচ্চারা জিনিসটা বুঝতে পারলেও এই জিনিস কখনও পৃথিবীর বড় মানুষগুলো বুঝতে সক্ষম হবে না সেটা সবাই জানে।


মুক্তির তারিখ ― ৫ মার্চ ২০২১
আইএমডিবি রেটিং ― ৭.৩/১০
ব্যক্তিগত রেটিং ― ১০/১০
ট্রেইলার ― Raya and the Last Dragon - Trailer







২) Luca:

লুকা নামের একটি সী মনসটারের অনেক ইচ্ছা পানির উপরে ডাঙায় কি আছে সেটা সম্পর্কে জানার। কিন্তু তার মা-বাবা তাকে সব সময়ই ভয় দেখায় ডাঙায় বসবাসকারী মানুষ অনেক ভয়ংকর। বাচ্চাদের নিষিদ্ধ জিনিসের উপর আগ্রহ থাকবে এটি খুব স্বাভাবিক। মাঝে মাঝে তাই সে নৌকা বা জাহাজ থেকে পড়ে যাওয়া মানুষের জিনিস সমুদ্রের তলদেশে খুঁজে বেড়ায়। এভাবে তার সাথে পরিচয় হয় তারই বয়সী আলবার্তো নামের আরও একটি সী মনসটারের সাথে। দুজনই খুব ভালো বন্ধু হয়ে উঠে। একটি কাগজে একটি ভেসপার ছবি দেখে তারা নিজেরাও স্বপ্ন দেখে ভেসপা চালানোর। ভাবে ভেসপা চালিয়ে হয়তো পুরো পৃথিবী ঘুরে বেড়ানো যাবে। এইজন্য তারা একদিন শহরে যাওয়ার চিন্তা করে।

এই ফিল্মে মেসেজ দেওয়া হয়েছে সব বাচ্চাই স্পেশাল। সব বাচ্চাকে সু্যোগ দেওয়া উচিত যাতে তারা তাদের সুন্দর স্বপ্নগুলো পূরণ করতে পারে। কারও কারও কাছে ডিজনীর কয়েকবছর আগে রিলিজ পাওয়া Coco ফিল্মের মিগেল চরিত্রটির সাথে লুকার একটু মিল লাগতে পারে। আসলে দুজনের বয়সই এক রকম আর দুজনের অভিযানই থাকে তাদের ফ্যামিলির মতের বিরুদ্ধে। এছাড়া লুকার প্রথমদিকে ডিজনীর The Little Mermaid এর এরিয়েলের সাথেও কিছুটা মিল লাগতে পারে। কারণ দুজনই পানির দুনিয়া ছেড়ে ডাঙ্গায় কি আছে সেটা জানার জন্য উৎসুক থাকে। এছাড়া আর কোনো মিল নেই, পুরো কাহিনীটাই অরিজিনাল। কোকো এবং লুকা দুটোই পিক্সার এবং ডিজনীর যৌথ প্রযোজনার ফিল্ম। পিক্সার অবশ্য ডিজনীরই একটি সাবসিডিয়ারি।

মুক্তির তারিখ ― ১৩ জুন ২০২১
আইএমডিবি রেটিং ― ৭.৪/১০
ব্যক্তিগত রেটিং ― ১০/১০
ট্রেইলার ― Luca - Trailer





৩) Encanto:

এই ফিল্মের কেন্দ্রীয় চরিত্র হল মিরাবেল মাদ্রিগাল নামের পনেরো বছরের একটি মেয়ে। অনেক অনেক বছর আগে তাদের নানাবাড়িতে দাঙ্গা শুরু হলে তার নানা-নানী তাদের সদ্যজাত জমজ তিন ছেলে মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে আসে। পথ্যিমধ্যে তাদের নানা মারা যায়। তার নানী যখন ছোট তিন ছেলেমেয়েকে নিয়ে অসহায় ছিল ঠিক সেই সময় তিনি একটি জাদুর মোমবাতি পেয়ে যান যেটা তাকে সবকিছু দান করে। বড় একটি বাড়ি খাড়া হয়ে যায় আর মাদ্রিগালদের সেই বাড়িকে কেন্দ্র করে জনপদ গড়ে উঠে। মাদ্রিগাল পরিবারের প্রত্যেক সদস্য পাঁচ বছর পূর্ণ হলে তারা একটি জাদুর ক্ষমতা লাভ করে। মিরাবেলদের বাড়িতে আজ একটি উৎসবের দিন। এই পরিবারের সব থেকে ছোট সদস্য মিরাবেলের খালাতো ভাই আনতানিয়োর আজ পাঁচ বছর পূর্ণ হবে। তাই আজ তার উপহার পাওয়ার দিন। গ্রামের ছেলেমেয়েরা মিরাবেলকে ধরেছে তার এত বড় ফ্যামিলির সবাই কি কি জাদুর ক্ষমতা পেয়েছে সেটা জানানোর জন্য। মিরাবেল জানায় তার মায়েরা জমজ তিন ভাই বোন - জুলিয়েতা, পেপা এবং ব্রুনো। মিরাবেলের মা জুলিয়েতার রান্না করার অদ্ভুত ক্ষমতা আছে। সে বিভিন্ন অসুখ ভালো করে দেওয়া খাবারের রান্না জানে। মিরাবেলের বড় বোন ইসাবেলা পুরো শহর ফুলে ফুলে ভরিয়ে দিতে পারে। তার মেজ বোন লুইসা পর্বতের সমান ভারী জিনিসও অনায়াসে তুলে ফেলে। মিরাবেলের খালা পেপার অনুভূতি দিয়ে আবহাওয়া কন্ট্রোল করার ক্ষমতা রয়েছে। পেপার বড় মেয়ে ডলোরেসের শ্রবণ ক্ষমতা ব্যাপক। অনেক দূরের কথা বা ফিস ফিস করে কথা বললেও সে শুনে ফেলতে পারে। ডলোরেসের পরে তার একটি ভাই ক্যামিলো, যে কিনা যে কারও রূপ ধারণ করতে পারে। ডলোরেস এবং ক্যামিলোর ছোট ভাই আনতানিওর আজ জন্মদিন। কিছুক্ষণ পর সে কি ক্ষমতা পায় সেটা জানার জন্য গ্রামের সবাই উদগ্রীব। আনতানিওর আগে এই পরিবারের শেষ উপহার পাওয়ার দিন ছিল মিরাবেলের, যেটা দশ বছর আগের ঘটনা। সবাই চাচ্ছে শেষবারের ঘটনার মত এবার যেন কোনো সমস্যা না হয়। মিরাবেল সবার কথাই বলে কিন্তু তার নিজের এবং তার মামা ব্রুনোর অদ্ভুত ক্ষমতার কথা বাচ্চাদের জানায় না। ব্রুনো দশ বছর আগেই নিরুদ্দেশ তাই তার কথা এই বাড়িতে সবার মুখে আনা মানা। বাচ্চারা মিরাবেলকে তার নিজের ক্ষমতার কথা বার বার জিজ্ঞাসা করে উত্তর পায় না। কি ক্ষমতা মিরাবেলের আর ব্রুনো কেন নিরুদ্দেশ হয়েছে সেটা গল্প এগোতে থাকলে জানা যাবে।

এই ফিল্মের মেসেজ হল পরিবারের প্রতিটি সদস্যই স্পেশাল। তাই সবাইকে সমানভাবে ট্রিট করা উচিত তাহলে পরিবারে শান্তি বজায় থাকে। ভেদাভেদ পরিবারের মধ্যে অশান্তি ডেকে আনে আর অশান্তি মূলত ঘর ভাঙার জন্য দায়ী। গল্পটা সুন্দর। তবে শেষের দিকে অনেক তাড়াতাড়ি করে শেষ করে দিয়েছে। এই কম্পলেইন শুধু আমার না, অনেকেই এটা বলেছে। আমার মনে হয়েছে আরও পাঁচ মিনিট যদি ফিল্মের লেন্থ বাড়িয়ে সুন্দর ভাবে শেষ করতো তাহলে বেশি ভালো হত। সমালোচকদের চোখে এবং পপুলারিটির দিক থেকে এই ফিল্ম গত বছর সব থেকে এগিয়ে ছিল। তাইতো গত বছরের শ্রেষ্ঠ আ্যনিমেটেড ফিল্ম হিসেবে এটি অস্কার এবং গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার দুটোই পেয়েছে। সাথে অন্যান্য পুরস্কার তো আছেই। আর যেহেতু এটি মিউজিকাল ফিল্ম তাই সবগুলো গানই বেশ ভালো।

ডিজনি এখন তাদের ফিল্মগুলোতে চেষ্টা করছে বিভিন্ন অঞ্চলের সংস্কৃতি তুলে ধরতে। তার প্রেক্ষিতে লুকা এবং রায়ার ব্যাকগ্রাউন্ড রেখেছে যথাক্রমে ইতালি এবং সাউথ-ইস্ট এশিয়া। অন্যদিকে এনকানতো তে তুলে ধরা হয়েছে কলাম্বিয়ার সংস্কৃতি।

মুক্তির তারিখ ― ৩ নভেম্বর ২০২১
আইএমডিবি রেটিং ― ৭.২/১০
ব্যক্তিগত রেটিং ― ১০/১০
ট্রেইলার ― Encanto - Trailer




ডিজনী লাস্ট কয়েক বছর ধরে যেসব ফিল্ম বানাচ্ছিল বেশিরভাগই তাদের পুরানো ফিল্মের সিক্যুয়েল আর না হলে লাইভ আ্যকশন রিমেক। তাই তাদের ফিল্ম গুলোর প্রতি ইন্টারেস্ট কমে যাচ্ছিল। গতবছরের ফিল্ম Cruella দেখার পর আবারও ডিজনীর প্রতি সেই ভালো লাগা ফিরে এলো। যদিও ক্রুয়েলা ছিল One Hundred and One Dalmatians এর লাইভ আ্যকশন রিবুট কিন্তু অরিজিনাল গল্প বিধায় বেশ ভালো লেগেছিল। এরপরে একইসাথে তিনটি সম্পূর্ণ অরিজিনাল গল্পের আ্যনিমেটেড মুভি (Luca, Encanto, Raya and the Last Dragon) ছিল আমার মত ডিজনী ফিল্ম লাভারদের জন্য হাতে চাঁদ পাওয়ার মত। অবাক করার মত বিষয় হল আমার কাছে তিনটি ফিল্মই অনেক ভালো লেগেছে। যখন মনে হচ্ছিল ডিজনী হয়তো ভালো ফিল্ম বানানো কমিয়ে দিয়েছে তখনই এতগুলো ভালো ভালো ফিল্ম তারা একসাথে নিয়ে এলো। ২০২১ নিঃসন্দেহে ডিজনীর জন্য একটি ভালো বছর ছিল। আর কোনো বছরের আমি তাদের এতগুলো ভালো ফিল্ম একসাথে দেখেছি বলে মনে পড়ছে না। যারা আ্যনিমেটেড ফিল্মের ভক্ত তাদের জন্য তিনটিই মাস্ট ওয়াচ বলে আমি মনে করি।



৪) The Mitchells vs. the Machines:

এই ফিল্মে মূলত টেকনোলজির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের খারাপ দিকটা তুলে ধরা হয়েছে। যদিও এখনও পৃথিবীর মানুষেরা টেকনোলজির উপর এত বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েনি। যদি খুব বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে তাহলে কি কি অসুবিধা হতে পারে তাই দেখানো হয়েছে।

কেটির সাথে দিন দিন তার বাবার সম্পর্ক খারাপের দিকে যাচ্ছে। সে ক্যালিফোর্নিয়ার একটা ফিল্ম স্কুলে চান্স পেয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া যাওয়ার আগের দিন তারা বাবা ভুলক্রমে তার ল্যাপটপ ভেঙ্গে ফেলে। কেটি খুব রাগ করায় তার বাবা পরদিন সিদ্ধান্ত নেয় পুরো পরিবার মিলে গাড়িতে করে ক্যালিফোর্নিয়া ভ্রমণ করবে আর কেটিকে তার ফিল্ম স্কুলে পৌঁছে দিয়ে আসবে। এতে করে তাদের ফ্যামিলি একসাথে একটা ট্রিপ এনজয় করতে পারবে। তাই কেটির এয়ার টিকিট ক্যানসেল করে দেয় তার বাবা। কেটি খুব বিরক্ত হয় কারণ সে তার ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম মিস করে ফেলবে। তারা ক্যালিফোর্নিয়া যাত্রা শুরু করে আর এরপরই আসল ঘটনা শুরু হয়।

এই ফিল্মের ভিজ্যুয়াল খুব এক্সাইটিং কিছু ছিলনা। মনে হচ্ছিল অ্যানিমেটেড ফিল্ম না, টিভিতে বসে কার্টুন দেখছি। আর লেন্থ একটু বেশি মনে হয়েছে। সেম স্টোরি নিয়ে ডিজনী, পিক্সার বা অন্য ভালো কোনো অ্যানিমেটেড ফিল্ম স্টুডিও যদি ফিল্মটা বানাতো তাহলে বেশি ভালো হত বলে মনে হয়েছে। তবে এত কিছুর পরও এই ফিল্ম লাস্ট অ্যানি অ্যাওয়ার্ডে বেস্ট অ্যানিমেটেড ফিল্মের পুরস্কার পেয়েছে। যেখানে গত বছর বেশিরভাগ অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান গুলোতে এনকানতো এই পুরস্কার পেয়েছিল। অ্যানি অ্যাওয়ার্ড হল শুধুমাত্র অ্যানিমেটেড ফিল্মের জন্য দেওয়া অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান। তাই চাইলেই দেখতে পারেন। অনেকের এটা খুব ভালো লেগেছে। আমার ভালো লেগেছে তবে মাস্ট ওয়াচ মনে হয়নি।


মুক্তির তারিখ ― ৩০ এপ্রিল ২০২১
আইএমডিবি রেটিং ― ৭.৬/১০
ব্যক্তিগত রেটিং ― ৭/১০
ট্রেইলার ― The Mitchells vs. the Machines - Trailer






এগুলো ছাড়াও গত বছরের Flee এবং My Sunny Maad মুভি দুটো যথাক্রমে অ্যাকাডেমি এবং গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারের জন্য নমিনেশন পেয়েছিল। রেটিং কম থাকায় আমি এই দুটো মুভি দেখার রিস্ক নেইনি। আপনারা চাইলে দেখতে পারেন। দেখে ভালো লাগলে জানাবেন।




ছবি ঋণ - ইন্টারনেট
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই নভেম্বর, ২০২২ রাত ১০:৩৭
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

টুইস্টেড মাইন্ড অফ আ সিরিয়াল কিলারঃ কবি কালিদাস স্পেশাল

লিখেছেন এইচ তালুকদার, ২৭ শে মে, ২০২৪ রাত ১:১৩



সিরিয়াল কিলারদের নিয়ে আমার আগ্রহ শুরু হয় এই ব্লগেরই একজন অসাধারন ব্লগার ''ডক্টর এক্স'' এর লেখা পড়তে যেয়ে। বাংলা ভাষায় সাইকোলজির দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সেলফ হেল্প ধরনের অসাধারন কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিলিস্তিনে কী শান্তি সম্ভব!

লিখেছেন সায়েমুজজ্জামান, ২৭ শে মে, ২০২৪ সকাল ৯:২১

এক.
প্রতিদিন ঘুমানোর আগে আলজাজিরা দেখি৷ গাজার যুদ্ধ দেখি৷ রক্ত দেখি৷ লাল লাল৷ ছোপ ছোপ৷ সদ্য জন্মানো শিশুর৷ নারীর৷ কিশোর কিশোরীর৷ বৃদ্ধের৷ সারি সারি লাশ৷ সাদা কাফনে মোড়ানো৷ ভবনে চাপা পড়া৷... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাকৃতিক দূর্যোগে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?

লিখেছেন অপু তানভীর, ২৭ শে মে, ২০২৪ সকাল ৯:৩৫

আমার জীবনে আমি সরাসরি প্রাকৃতিক দূর্যোগের ভেতরে পড়েছি বলে আমার মনে পড়ে না । ২০১৯ সালের ঘটনা। ঘূর্ণিঝড়ের নাম সেবার ছিল সম্ভবত বুলবুল ! সেটা যখন আসছিল তখন আমি ছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

উপকূলের ভাই-বোনদের প্রতি গভীর সমবেদনা

লিখেছেন বিষাদ সময়, ২৭ শে মে, ২০২৪ দুপুর ১:০৭




আমরা ঢাকার পাকা দালানে বসে যখন আয়েস করে চায়ে চুমুক দিয়ে বৃষ্টি বিলাসে বিভোর, ঠিক সেই সময় আমাদের উপকূেলের ভাই-বোনেরা হয়তো কেউ স্বজন, কেউ ঘর, কেউ ফসল, কেউবা গবাদী... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ব্লগার ভাবনা: অশ্লীলতা কি পোশাক দিয়ে নির্ধারণ করা উচিৎ নাকি মানসিকতা ও চরিত্র দিয়ে?

লিখেছেন লেখার খাতা, ২৭ শে মে, ২০২৪ দুপুর ২:৫২


ছবিটি -ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।

কহিনুরের, ফ্লোরা ওরিয়েন্টাল বিউটি সোপ।১৯৭৮ সালের বিজ্ঞাপন। ছবিটি ফেসবুকে পেয়েছি। ব্লগার সোনাগাজী, ব্লগার কামাল ১৮ সহ যারা মুরুব্বি ব্লগার রয়েছেন তারা হয়তো এই বিজ্ঞাপনটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×