somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বপ্নপুরণ......

২৪ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১০:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অদ্ভুত সমস্যায় পরেছি ২ দিন হলো, কিছু খেতে পারছি না, কোনো কথাও বলতে পারছি না। কথা না বলে নাকি আগের দিনের মুনি ঋষিরা বছরের পর বছর কাটিয়ে দিতেন, আমি তো মুনি ঋষি নই, সুতরাং কথা না বলে থাকাটা আমার জন্য একটা বিরাট শাস্তির মতই মনে হচ্ছে। এভাবে যখন মন খারাপ করে বসে আছি, তখন হঠাৎ মনে হলো...... আরে কথা বলতে না পারি, লিখতে তো পারব, সেটাতে তো কোনো সমস্যা নেই। আর সেই ১ বছর আগে শেষ বারের মত লিখেছিলাম somewherein এ, সেজন্যই আবার ঢাল তলোয়ার (কিবোর্ড আর পিসি) নিয়ে লিখতে বসে গেলাম।

পড়ার পাঠ চুকাতে গিয়েও কেনো যেনো শেষই হচ্ছে না। কবে যে এই যন্ত্রণা শেষ হবে কে জানে। চাকুরি আর পড়ার মাঝে অন্য কিছু করার সময়ই পাই না তেমন, তবুও এর মধ্যে সেদিন সময় পেয়ে রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের ইচ্ছাপুরন গল্পটা পড়লাম। পড়ার পরে কেনো যেনো মনে হলো হয়ত সেই ইচ্ছাপুরণের দেবী মাঝে মাঝেই আমার ঘরে পাশ দিয়ে ঘুরে বেড়ান। জীবনের মোটামুটি যা যা ইচ্ছে ছিলো, যা ঈশ্বর পুরন করে দিতে পারেন... সবই তিনি করে দিয়েছেন অথবা সুযোগ করে দিয়েছেন। যাহোক, আজকের হঠাৎ মনে হয় একটু বেশি serious হয়ে যাচ্ছি।

সেই ছোট্ট বেলায়, যেদিন প্রথম স্কুলে যাই, ক্লাসের শিক্ষিকা আমাকে অনেক আদর করেছিলেন প্রথম দিন থেকেই। তখন থেকেই আমার শিক্ষক হওয়ার ইচ্ছা শুরু। ক্লাস ৩, ৪, ৫ এ পড়ার সময় পড়া না পারার কারণে যখন কানে ধরে ওঠাবসা করতে হতো অথবা বেঞ্চ এর উপর দারিয়ে থাকতে হত আর ক্লাস ৬ এ উঠার পর স্যার দের কাছে খেলার জন্য ছুটির আবেদন নিয়ে যেতাম আর যখন বকা খেয়ে ফিরে আসতাম, তখন মনে হত, সকল ক্ষমতা বোধহয় স্যারদের হাতেই।

কলেজে গিয়ে স্যারদের সাথে আরও অনেক যোগাযোগ বাড়লো। তখন তো ঠিক করেই ফেলেছিলাম, জীবনে শিক্ষক ছাড়া কিছুই হবো না। বুয়েটে পড়ার সময় যখন স্যারেরা বাঁশ দিতো, তখন খালি ভাবতাম একবার স্যার হয়ে নেই, তারপর আমিও অন্যদের দেখে নেব।

শিক্ষাজীবন শেষ করতে করতে এই স্বপ্নটা ভুলেই গিয়েছিলাম। কিন্তু শুরুতেই যেটা বলেছি, আমি ভুলে গেলে কি হবে, ওই দেবী তো ভুলে যাননি। শেষমেশ সাত ঘাটের পানি খেয়ে ওই শিক্ষকই হলাম। এই ইচ্ছাটাও আমার অজান্তেই পুরন হলো।


প্রথম দিন ক্লাস নিতে গেছি, ব্যবহারিক ক্লাস ছিলো। আমি দুরুদুরু বুকে ঢুকলাম এবং যা ভয় পেয়েছিলাম তাই হলো, কেউ আমার দিকে ফিরেও তাকালো না(মনে হয় ভেবেছেলো কোনো আদু ভাই এসেছে)। যাইহোক, সবার সামনে গিয়ে গলা উচু করে জোরে বললাম, “attention please” , সবাই হঠাৎ করে অবাক করা চোখে আমার দিকে তাকালো। এটা আবার কে? এমন একটা ভাব, (কথাগুলি পরে এক ছাত্রের মুখ থেকেই শোনা)। আমিও নিজের আচরনে নিজাই ভয় পেয়ে গেছি ততক্ষণে, কিন্তু অন্যদেরকে সেটা বুঝতে না দিয়ে আর ভারি গলায় বললাম যে "আমি তোমাদের নতুন টীচার"। সবাই ঠিক বিশ্বাস করলো বলে মনে হলো না। তখন তো আমি মোটামুটি বিপদে, কিভাবে কি করবো... তখন মাথায় এলো একটা বুদ্ধি। ক্লাসের নিয়ম-কানুন বলে ঠিক মত কথা না শুনলে কি হবে এবং কি করলে ভালো নম্বর পাওয়া যাবে সেটার উপর একটা ছোটো বক্তৃতা দিয়ে ফেললাম, (ছাত্ররা আর যাইহোক কি করে ভাল নম্বর পাওয়া যাবে এই জাতীয় কথা গুলি খুবই মন দিয়ে শুনে...)। সেই থেকে শুরু হলো শিক্ষকজীবন। খুব মজা পেতাম যখন দেখতাম ছাত্ররা জানপ্রান দিয়ে একএকটা পরীক্ষা দিচ্ছে, কারন তখন কিছুদিন আগে ফেলে আসা নিজের ছাত্রজীবনের কথা মনে হতো, অবশ্য আমি আবার ছাত্র হয়ে গেছি, সুতরাং এখন বর্তমানের কথা মনে করলেই চলে।

প্রথমেই বলেছি, ইদানিং আমার সকল ইচ্ছেই কেনো যেনো পুরন হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এর জন্য আমি যে খুব সুখে আছি ব্যাপারটা তা নয়, একটা বিষয় বুঝতে পেরেছি, কারো সব ইচ্ছে কখনো পুরন হতে নেই। কারন মানুষ যখন কোনো ইচ্ছে করে তখন সেটার ফলাফল নিয়ে খুব একটা ভাবে না। অনেক ইচ্ছাপুরন হয়তো অনেক বেদনাদায়ক হতে পারে.........

(অনেক বিরক্ত করে ফেললাম সবাইকে, অনেক কথা বললাম, মুখে কিছু বলতে পারছি না বলেই হয়তো। ব্যাপারটা একটু ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি...)
৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×