অদ্ভুত সমস্যায় পরেছি ২ দিন হলো, কিছু খেতে পারছি না, কোনো কথাও বলতে পারছি না। কথা না বলে নাকি আগের দিনের মুনি ঋষিরা বছরের পর বছর কাটিয়ে দিতেন, আমি তো মুনি ঋষি নই, সুতরাং কথা না বলে থাকাটা আমার জন্য একটা বিরাট শাস্তির মতই মনে হচ্ছে। এভাবে যখন মন খারাপ করে বসে আছি, তখন হঠাৎ মনে হলো...... আরে কথা বলতে না পারি, লিখতে তো পারব, সেটাতে তো কোনো সমস্যা নেই। আর সেই ১ বছর আগে শেষ বারের মত লিখেছিলাম somewherein এ, সেজন্যই আবার ঢাল তলোয়ার (কিবোর্ড আর পিসি) নিয়ে লিখতে বসে গেলাম।
পড়ার পাঠ চুকাতে গিয়েও কেনো যেনো শেষই হচ্ছে না। কবে যে এই যন্ত্রণা শেষ হবে কে জানে। চাকুরি আর পড়ার মাঝে অন্য কিছু করার সময়ই পাই না তেমন, তবুও এর মধ্যে সেদিন সময় পেয়ে রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের ইচ্ছাপুরন গল্পটা পড়লাম। পড়ার পরে কেনো যেনো মনে হলো হয়ত সেই ইচ্ছাপুরণের দেবী মাঝে মাঝেই আমার ঘরে পাশ দিয়ে ঘুরে বেড়ান। জীবনের মোটামুটি যা যা ইচ্ছে ছিলো, যা ঈশ্বর পুরন করে দিতে পারেন... সবই তিনি করে দিয়েছেন অথবা সুযোগ করে দিয়েছেন। যাহোক, আজকের হঠাৎ মনে হয় একটু বেশি serious হয়ে যাচ্ছি।
সেই ছোট্ট বেলায়, যেদিন প্রথম স্কুলে যাই, ক্লাসের শিক্ষিকা আমাকে অনেক আদর করেছিলেন প্রথম দিন থেকেই। তখন থেকেই আমার শিক্ষক হওয়ার ইচ্ছা শুরু। ক্লাস ৩, ৪, ৫ এ পড়ার সময় পড়া না পারার কারণে যখন কানে ধরে ওঠাবসা করতে হতো অথবা বেঞ্চ এর উপর দারিয়ে থাকতে হত আর ক্লাস ৬ এ উঠার পর স্যার দের কাছে খেলার জন্য ছুটির আবেদন নিয়ে যেতাম আর যখন বকা খেয়ে ফিরে আসতাম, তখন মনে হত, সকল ক্ষমতা বোধহয় স্যারদের হাতেই।
কলেজে গিয়ে স্যারদের সাথে আরও অনেক যোগাযোগ বাড়লো। তখন তো ঠিক করেই ফেলেছিলাম, জীবনে শিক্ষক ছাড়া কিছুই হবো না। বুয়েটে পড়ার সময় যখন স্যারেরা বাঁশ দিতো, তখন খালি ভাবতাম একবার স্যার হয়ে নেই, তারপর আমিও অন্যদের দেখে নেব।
শিক্ষাজীবন শেষ করতে করতে এই স্বপ্নটা ভুলেই গিয়েছিলাম। কিন্তু শুরুতেই যেটা বলেছি, আমি ভুলে গেলে কি হবে, ওই দেবী তো ভুলে যাননি। শেষমেশ সাত ঘাটের পানি খেয়ে ওই শিক্ষকই হলাম। এই ইচ্ছাটাও আমার অজান্তেই পুরন হলো।
প্রথম দিন ক্লাস নিতে গেছি, ব্যবহারিক ক্লাস ছিলো। আমি দুরুদুরু বুকে ঢুকলাম এবং যা ভয় পেয়েছিলাম তাই হলো, কেউ আমার দিকে ফিরেও তাকালো না(মনে হয় ভেবেছেলো কোনো আদু ভাই এসেছে)। যাইহোক, সবার সামনে গিয়ে গলা উচু করে জোরে বললাম, “attention please” , সবাই হঠাৎ করে অবাক করা চোখে আমার দিকে তাকালো। এটা আবার কে? এমন একটা ভাব, (কথাগুলি পরে এক ছাত্রের মুখ থেকেই শোনা)। আমিও নিজের আচরনে নিজাই ভয় পেয়ে গেছি ততক্ষণে, কিন্তু অন্যদেরকে সেটা বুঝতে না দিয়ে আর ভারি গলায় বললাম যে "আমি তোমাদের নতুন টীচার"। সবাই ঠিক বিশ্বাস করলো বলে মনে হলো না। তখন তো আমি মোটামুটি বিপদে, কিভাবে কি করবো... তখন মাথায় এলো একটা বুদ্ধি। ক্লাসের নিয়ম-কানুন বলে ঠিক মত কথা না শুনলে কি হবে এবং কি করলে ভালো নম্বর পাওয়া যাবে সেটার উপর একটা ছোটো বক্তৃতা দিয়ে ফেললাম, (ছাত্ররা আর যাইহোক কি করে ভাল নম্বর পাওয়া যাবে এই জাতীয় কথা গুলি খুবই মন দিয়ে শুনে...)। সেই থেকে শুরু হলো শিক্ষকজীবন। খুব মজা পেতাম যখন দেখতাম ছাত্ররা জানপ্রান দিয়ে একএকটা পরীক্ষা দিচ্ছে, কারন তখন কিছুদিন আগে ফেলে আসা নিজের ছাত্রজীবনের কথা মনে হতো, অবশ্য আমি আবার ছাত্র হয়ে গেছি, সুতরাং এখন বর্তমানের কথা মনে করলেই চলে।
প্রথমেই বলেছি, ইদানিং আমার সকল ইচ্ছেই কেনো যেনো পুরন হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এর জন্য আমি যে খুব সুখে আছি ব্যাপারটা তা নয়, একটা বিষয় বুঝতে পেরেছি, কারো সব ইচ্ছে কখনো পুরন হতে নেই। কারন মানুষ যখন কোনো ইচ্ছে করে তখন সেটার ফলাফল নিয়ে খুব একটা ভাবে না। অনেক ইচ্ছাপুরন হয়তো অনেক বেদনাদায়ক হতে পারে.........
(অনেক বিরক্ত করে ফেললাম সবাইকে, অনেক কথা বললাম, মুখে কিছু বলতে পারছি না বলেই হয়তো। ব্যাপারটা একটু ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি...)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


