অনুগল্প
নন্দন পাগল
স্বীকৃতি প্রসাদ বড়ুয়া
সে যে কোন তরিকার পাগল একমাত্র পাগলের ডাক্তাররাই জানে। যদিও নন্দন পাগলকে পাগলের ডাক্তারের কাছে কখনই যেতে হয়নি। ছোটবেলায় গ্রামে দেখেছি নন্দন তখন পাগল হয়নি। তখন ছিল আমাদের কাকা। সে ছিল কুংফু কারাতেতে ওস্তাদ। বিয়ে করলেন এক সুন্দরীকে। বিয়ের কয়েকদিন পর বউ চলে যায় চিরতরে বাপের বাড়ি। আর ফিরে আসেনি। এরপর শুনি নন্দন কাকা পাগল হয়ে গেছে। হাতে থাকে একটা গাছের ডাল। পরনে প্যান্ট জামা আছে তবে চেনার উপায় নেই ওগুলো প্যান্ট শার্ট। মনে হয় যেন মাটি দিয়ে বানানো একধরণের প্যান্টশার্ট। আর চুলে পাখির বাসা হওয়ার অবস্থা। তবে সে কথা বলে না। চুপচাপ থাকে, কেউ খাওয়ালে খায়, হাত পাতে না, কেউ টাকা পয়সা দিলে নেয়। তবে আমি তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছি তিনি কিছু বলতে পারেন না। দিনের বেলা বাজার, মন্দির, রাস্তা, রাস্তার চায়ের দোকানে চষে বেড়ায়, মনে মনে বিড়বিড় করে কথা বলে। আবার রাতের বেলা নিজের চাচার বাড়ির বারান্দায় গিয়ে শুয়ে পড়ে। পাগলদের কি জ্বর অসুখ হয় না কখনো? আমি দেখিনি তিনি পড়ে আছেন অসুখে কিংবা জ্বরে। সারাদিন হাঁটছে আর কথা বলছে, কথা বলছে আর হাঁটছে। বিশ্ব সংসারে তার হাঁটা আর কথা বলা ছাড়া আর কিছুই নেই। সব মানুষের চাওয়া পাওয়া আছে, ভবিষ্যৎ আছে। একমাত্র নন্দন পাগলার বর্তমান, হাঁটা, খাওয়া ও ঘুমানো ছাড়া আর কিছু নেই। কিছু কিছু মানুষের পাগলের মতো বর্তমান ছাড়া কিছুই থাকে না।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই নভেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




