somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সতীত্ব-কুমারত্ব !

০১ লা আগস্ট, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বন্ধুগ্ণ ! মেয়েদের সতীত্ব নামক বৈশিষ্ট্য নিশ্চিতভাবে থাকতে হবে আর ছেলেদের না থাকলেও চলবে-এমন বলদা বুদ্ধি আপনার বোধে কে প্রবেশ করালো ? শুধু মেয়েরা সতীত্ব রক্ষা করে চলবে আর কিছু পুরুষ জ্যৈষ্ঠ মাসের ষাঁড়ের মত এদিক-সেদিক নাসিকা ডোবানোর চেষ্টা করার অধিকার রাখে, এমন ভাবনা যাদের মাথায় ঘুরপাক খায় তাদের মস্তিষ্ক আর গরুর মাথার মগজে খুব বেশি পার্থক্য আছে-এটা স্বীকার করতে বলেন ? আপনি পুরুষ, তাই গ্যারান্টি দিয়ে নিজের স্বচ্চরিত্র-কুমারত্ব রক্ষা করার সক্ষমতা আপনার থাকা উচিত । আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় আজও মেয়েরা সর্বাধিক পরিমানে দূর্বল । তাদের দূর্বলতা এতোটাই প্রকট যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে তারা মানবেতর জীব-জন্তুর চেয়েও অসহায় । তাদের এ দূর্বলতা সৃষ্টিগত নয় বরং আদিমযুগ থেকে পুরুষশাসিত সমাজের অত্যাধিক প্রক্রিয়ার ফসল । যে কারণে নারীরা কখনো কখনো তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই সতীত্ব-সম্ভ্রম লুণ্ঠিত হওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা লাভ করে । আমাদের সমাজে নিত্যাকার যে সকল ধর্ষণ-গণধর্ষণ ঘটছে সেগুলো এর উজ্জ্বলতম দৃষ্টান্ত । এসব ক্ষেত্রে নারীদের কোন দোষ না থাকলেও তারা প্রকৃত এবং কৃত্রিমতার কাছে অনিচ্ছামূলকভাবে হার মানতে বাধ্য হয় ।
আপনি পুরুষ তাই জোরপূর্বক কেউ আপনার কুমারত্ব নষ্ট করেছে-এমনটা দাবী করলে সেটা মানুষ তো দূরের কথা শয়তানেও বিশ্বাস করবে না । প্রকৃত বাস্তবতাও পূর্বোল্লেখিত দাবীর সাথে সামঞ্জস্য নয় । আমাদের দেশের পরিবেশ এখনো ততোটা অধোঃগতিত হয়নি যে কারণে নারীরা অবৈধভাবে জৈবিকা চাহিদা নিবারণে আগ্রাসী হওয়ার মত তেমন কোন প্রকাশ ঘটাবে । কাজেই পুরুষ হিসেবে আমৃত্যু আপনার এতটুকু গৌরবের সম্বল থাকা উচিত, যেটুকুকে পুঁজি করে বলা যায়, আপনি পূতঃপবিত্র চরিত্রের । যদি এটা না পারেন তবে নিজেকে চরিত্রবান দাবী করার মত আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত কখনোই প্রকাশ করবেন না । অন্য কোন কর্তৃপক্ষকে না হোক, অন্তত আপনার ঘুমন্ত বিবেক যেদিন জেগে উঠবে সেদিন কি আপনি আত্ম-জিজ্ঞাসার সম্মূখীন না হয়ে পারবেন ?
কোন কোন মেয়েকে তার অসামাজিক কাজের জন্য আমরা জঘণ্য ভাষায় তিরস্কার করি । আচ্ছা, মাত্র একবার ভেবে বলুন তো, কোন জীন-ভূত কি কোন মেয়ের সতীত্ব-সম্ভ্রম কেড়ে লয় ? এবার বলুন, দুশ্চরিত্রের কারনে একটা মেয়েকে যদি বেশ্যা-পতিতা বলে গালি দেয়া যায়, তবে পুরুষের অধঃপতিত চরিত্রের কারণে তাকে কি বলে গালি দেয়া উচিত ? যারা অসহায় হয়ে সতীত্ব হারায় তাদের ইঙ্গিত করার জন্য পৃথিবীর সর্বনিকৃষ্ট অর্থবোধক শব্দগুলো ব্যবহার করা হলে, পুরুষ যে চেতনায় আপন কুমারত্ব নষ্ট করছে, তার জন্য তাদের কি প্রাপ্য ?
ভাবুন তো, যদি গর্ব করে নিজের কাছে নিজেকে একজন আদর্শবান পুরুষ/নারী হিসেবে উপস্থাপন করতে পারেন, তবে সেটা কতটুকু তৃপ্তিদায়ক ? হয়ত স্বচ্চরিত্রের হেতুতে তৃপ্তির সীমা বোঝানোর সাধ্য অনেকের নাই কিন্তু বিশ্বাস রাখুন, যাদের দেহ-মন আজও পবিত্র তারা জগতের শ্রেষ্ঠতার সুধায় পুলকিত । অন্তত ঘুমানোর পূর্বে একবার তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলার অধিকার তাদের থাকে । বর্তমান সময়ে জোয়ারের উছলে পড়া পানি দর্শনের চেয়েও নিজের চরিত্র নিলামে তোলা সহজ, তাই বলে কি আপনি গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দিবেন ? মানুষ হিসেবে আপনার আমানতদারীর দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা কি আপনার উচিত নয় ? অপরের কাছে নয়, বরং এ প্রসঙ্গে নিজের কাছেই নিজে প্রশ্ন রাখুন । নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, সঠিক উত্তর পাবেন । মেকি ভদ্রতার কোন আত্মমূল্য নাই যদি আপনি আদর্শের অনুসারী হতে না পারেন । হয় ভালো থাকুন নয়ত নর্দমার কীট হিসেবে চিহ্নিত হোন । অযথা মানুষকে ধোঁকা দিতে ভদ্রতার মিথ্যা মুখোশে সাজলে সেটা পরিনামে কিছুই দিবে না বরং নানাভাবে লজ্জিত করবে এবং বিবেকবোধের দহন আপনাকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে যন্ত্রনা দেবে । কয়েক মিনিটের উত্তেজনা যেনো মানুষ থেকে পশুর শ্রেণীতে পদস্খলিত না করে-সে ব্যাপারে আমরা সবাই বিশেষভাবে যত্নবান হই । এ ব্যাপারে প্রতিশ্রুতবদ্ধ হলে একটি সুন্দর মানসিকতার জাতি এবং কলঙ্কহীন প্রজন্মের পরিকল্পনার বাস্তবায়ন সন্নিকটেই জানবেন ।
*****কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করতে আমি লিখিনি-এটা আমার আবেগী মনের বহিঃপ্রকাশ মাত্র । শেষ প্যারাতে এ লেখার মূল বক্তব্য/উদ্দেশ্য দেয়া হয়েছে
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বলুন - "হ্যালো আল্লাহ্‌, আমি এখনো বেঁচে আছি!"

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

আপনার কাছে মনে হচ্ছে, আল্লাহ্‌ আপনার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
তিনি আপনার দোয়া কবুল করছেন না।
আপনার কাছের মানুষকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন।
আপনার কোন চাকরী নাই। রিজিক ছোট হয়ে এসেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

উচ্চবংশীয় ছাগল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৯



এককালে কেবল ঘড়িতেই বাজতো টিক টিক- টিক টিক;
বারবেলায় এসে দেখছি টিক টিক বলে কিছু নেই আর ঠিক ঠিক!
বরং 'টিকটক'- এ আকণ্ঠ বুদ হয়ে আছে আবালবৃদ্ধবনিতা!
মানুষের লম্ফঝম্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

×