somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ মা, জান্নাতে দেখা হবে?

৩১ শে জুলাই, ২০২০ রাত ১:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



রফিক সাহেব তার স্ত্রী জাহানারার সাথে তার ছেলের আচরণে বেশ পরিবর্তন লক্ষ্য করলেন। আগে তার মাঝে ভক্তি ও শ্রদ্ধা ছিল না এমন নয়, তবে এখন যেন তা আরো বেড়েছে। হঠাৎ এ পরিবর্তনের কারণ কী হতে পারে? সে কি কিছু বুঝতে পেরেছে? কিছু আঁচ করতে পেরেছে?

পারার তো কথা নয়। ব্যাপারটি এখনো কাউকে জানানো হয়নি।

হয়তো রফিক সাহেব একটু বেশিই চিন্তা করছেন। এমনও হতে পারে যে, মার অসুস্থতা দেখে মার প্রতি মুহাব্বত বেড়ে গেছে। বা হারিয়ে ফেলার ভয় ঢুকেছে।

দুনিয়ার সবরকম ভয়ই যে নেতিবাচক, তা কিন্তু না। বরং কিছু ক্ষেত্রে তা উল্টো। হারিয়ে ফেলার ভয়টাকে রফিক সাহেব ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখেন। হারিয়ে ফেলার ভয় অন্তরে এলে, এ অনুভূতি থেকে মূল্যায়ন ও গুরুত্বের বোধও জাগ্রত হয়৷ একটু হলেও বুঝে আসে, আমার জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আজীবন থেকে যাবে না বলেই তা আরো গুরুত্বপূর্ণ।

যেমন মাতা-পিতার সাথে সন্তানের সম্পর্কটাই দেখা যাক৷ মাতা পিতার চেয়ে এ দুনিয়ায় সন্তানের জীবনে কাছের মানুষ আর কে হতে পারে? একটা সময় ছিল যখন রফিক সাহেবের তার মা-বাবার সাথে কাটানোর সময় ও সুযোগ ছিল, এখন যা নেই। তখন অন্যান্য অনেক কাজ করারও সুযোগ ছিল, যা এখন আছে।

এত কঠিন কঠিন থিওরী বোঝা সন্তান গুলোও হরহামেশাই যেন বিলকুল ভুলে থাকে এ বিষয়– তারা একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত থাকতে পারবে এ নেয়ামতের সাথে।

রফিক সাহেব নানা রকম ভাবনায় ডুবে গিয়েছিলেন। ইদানীং তিনি প্রায়ই আনমনা হয়ে থাকেন। এমন সময় রাতুল তাকে রাতের খাবার খেতে ডাকলো।

পিতা পুত্র একসাথে খাবার খাচ্ছে৷ শুনশান নীরবতা। কেউ কোন কথা বলছে না৷ কেবল ঘড়ির টিক-টক ধ্বনি ভেসে আসছে৷

রফিক সাহেব নীরবতা ভেঙ্গে ডাকলেন, রাতুল।
ক্ষীণ কন্ঠে উত্তর এলো, জ্বি আব্বা।
–তোকে একটা কথা বলা হয়নি রে।
–কী কথা আব্বা৷
–তোর মার...
রাতুল প্রায় মিনতির মত উচ্চারণ করলো, কী হয়েছে আব্বা?

রফিক সাহেব চুপ করে রইলেন। শব্দটা যেন তার মুখ থেকে বের করতে পারছেন না।

রাতুল আবার মিনতির মত উচ্চারণ করলো, আব্বা বলো আমাকে।

রফিক সাহেব নির্লিপ্ত স্বরে বললেন, তোর মার ক্যান্সার ধরা পড়েছে। অবস্থাও সুবিধার না।

রাতুল কিছুক্ষণ স্থব্ধ হয়ে চেয়ে রইলেন রফিক সাহেবের দিকে। তার যেন গোটা দুনিয়া টুকরো টুকরো হয়ে গেল এক নিমিষেই।

ছেলেটা নিজেকে সামলে রাখতে পারলো না। ডুকরে কেঁদে ওঠলো।

রফিক সাহেব বড় অসহায় বোধ করলেন। রাতুলের কান্না দেখে তার নিজেকে সামলানোই বড় মুশকিলের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ালো। তিনি আল্লাহ তা'আলার কাছে প্রার্থণা করতে লাগলেন, আল্লাহ তা'আলা যেন তাকে এবং রাতুলকে সবর করার ক্ষমতা দান করেন।


জাহানারা বেগম ইন্তেকাল করার পর বেশ কিছুদিন কেটে গেল।

প্রতিদিন ফজরের নামাজ পড়তে যায় রফিক সাহেব ও রাতুল একসাথে। রাতুলকে ডাকতে হয় না৷ সে টুপি পাঞ্জাবি পরে প্রস্তুত হয়ে থাকে। তার লাল চোখ গুলো দেখলে রফিক সাহেবের মনে হয় যেন ছেলেটা সারারাতই কেঁদেছে।

আজ একটু ব্যতিক্রম হল। রফিক সাহেব রাতুলকে ডাকতে তার রুমে এসে দেখলেন রাতুল মাটিতে ঘুমিয়ে আছে জায়নামাজের উপর৷ রফিক সাহেবের বড় মায়া লাগলো তার ভেজা মুখ দেখে। জায়নামাজের একটা অংশও ভেজা।

পাশে একটা নোটবই খোলা পড়ে আছে। তিনি তা হাতে তুলে নিলেন। সেখানে গোট গোট অক্ষরে লেখা–

"মা, নদীর পারে বসে যখন উদাস মেঘ গুলোর ছায়া দেখি তখন বড় ইচ্ছে হয়, তোমাকে যেয়ে বলি, আমার মন ভাল নেই। আমি তোমার সাথে একটু কথা বলতে চাই মা। আর একবার।

দুনিয়ায় কত কিছুই তো আছে, তবু আমার মনে হয় যেন, দুনিয়ায় এমন কী-ই বা আছে?

এই দুনিয়া আমাকে যা কিছুই দিক না কেন, তাতে কী এসে যায় মা? তুমি তো নেই।

মা, এই দুনিয়ায় তোমার সাথে আর দেখা হবে না জানি। জান্নাতে কি হবে?"

রফিক সাহেবের মুখ বেয়ে অশ্রুকণা গড়িয়ে পড়ছে। তিনি নিজেকে একটু স্বাভাবিক করবার জন্য রুম থেকে বেরিয়ে এলেন। নিজেকে সামলে নিয়ে কন্ঠ স্বাভাবিক করে ডাকলেন, "রাতুল, নামাজ পড়তে চল।"
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জুলাই, ২০২০ দুপুর ২:৫৫
৭টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নির্বাচনী অঙ্গীকার চাই ফুটপাথ ফেরাও মানুষের কাছে

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৬


ভোটের মিছিলে কথা হয় অনেক
পোস্টারে ভরা উন্নয়নের ঢাক
কিন্তু বলো তো ক্ষমতাপ্রার্থী দল
ফুটপাথ কার এ প্রশ্নের কি জবাব?

ঢাকা ছোটে না, ঢাকা পায়ে হেটে ঠেলে চলে
শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই পড়ে কষ্টের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালুর নিচে সাম্রাজ্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১


(ডার্ক থ্রিলার | কারুনের আধুনিক রূপক)

ঢাকার রাত কখনো পুরোপুরি ঘুমায় না।
কাঁচের অট্টালিকাগুলো আলো জ্বেলে রাখে—যেন শহর নিজেই নিজের পাপ লুকাতে চায়।

এই আলোর কেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে ছিল করিম গ্লোবাল টাওয়ার
আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জ্ঞানহীন পাণ্ডিত্য

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০


এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বদেশ,
যে কিছু জানে না; সে-ই দেয় উপদেশ।
“এই করো, সেই করো;” দেখায় সে দিক-
অন্যের জানায় ভ্রান্তি, তারটাই ঠিক।
কণ্ঠে এমনই জোর, যে কিছুটা জানে-
সব ভুলে সে-ও তার কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×