somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বই মেলাতে মানুষ বই কিনতে আসে অথচ আমার প্রেম হয়ে গেছে লেখিকার সাথে

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ দুপুর ১:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বই না কিনলেও এই মেলায় ঘুরতে ভাল লাগে, ঘুরাফেরা শেষ হলে ২/১ টা বই কিনে চলে আসি।
মুলত আড্ডা দেয়ার জন্যই এই মেলাতে যাওয়া, পরিচিত কারো বই প্রকাশ হলে ফ্রিতে খানা খাওয়ার জন্য সময়টা বেষ্ট।
আজকেও আমি ঠিক এমন ধান্দা নিয়েই মেলাতে আসলাম, মেলা মাত্রই শুরু হল। এখনো অনেক ষ্টলের কাজ চলছে, মানুষের ভিড় আসতে আসতে ভাড়ছে। হইতো ঠিক মত জমে উঠতে আরো ৫/৭ দিল লাগবে।
গতকাল এক বন্ধু ফোন করে বল্ল দেশে আসছিস বই মেলায় যাবিনা? আমি নাহু নাহু করতে করতে বল্লাম যামু।
সিকিউরিটি চেক শেষ করে একেবারে ভিতরের দিকের ষ্টল গুলিতে চলে আসলাম, ছিমছাম সাজানো তবে কোন ক্রেতা নাই। হইতো আমি একটু আগেই চলে এসেছি, সবাইতো অফিস শেষ করে বিকালের পরে মেলাতে আসবে। আমি বেকার মানুষ তাই একটু তারাতারিই চলে আসলাম। ষ্টলের সামনে গিয়ে দেখলাম ভিতরে ৩জন বসে আছে, একজন মেয়ে আর একজন ছেলে। ভিতরের দিকে যিনি দাড়িয়ে আছেন হইতো মালিক হবেন, বয়স ৬০ এর ঘরে। দাড়ি সাদা হয়ে আছে, মাথায় একটা টুপি।
আমি এগিয়ে এসে বল্লাম আপনাদের দোকানেতো মাছি তাড়ানোরও মানুষ নাই, এমন হলে লস হয়ে যাবেতো।
মেয়েটা আমার দিকে মাথা তুলে তাকিয়ে আবার তার মত করে কিযেনো লিখছে, পাশ থেকে ছেলেটি এসে বল্ল কি বলার আমাকে বলেন উনি লেখক সেলসম্যান না।
আমি অবাক হলাম, ৩জন মানুষের একজন লেখক! তাখলে কি...................
.
আমার কথা বলার সুযোগ না দিয়েই ছেলেটি বল্লা উনি আসলে মেলার ১ মাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটা বই লেখবে তাই ক্রেতা আসার আগেই চলে আসেন এবং প্রতিটা মুহুর্ত লিখে রাখেন। হইতো আপনার এমন চেংরা কথাও আগামী বইয়ে চলে আসতে পারে। হা হা হা...
ছেলেটার হাসি সুন্দর, কিন্তু এই কথাটা প্রকাশ করা যাবেনা। এক সময় ছেলেদের সাথে হাত ধরাধরি করে হাটলে কেউ কিছুই বলতনা এখন সময় পাল্টেছে, ছেলেদের হাত ধরতে চাইলেই তেড়া চোখে তাকায় আশে পাশের মানুষ। এমন পরিস্থিতীতে যদি বলি ছেলেটার হাসি সুন্দর তাহলে কিছু একটা ঘটতেও পারে, দুই চারজন সাংবাদিক ক্যামেরা নিয়া চলে আসবে আমার ইন্টারভিউ নিতে। মানুষজনের ভিড় ভেড়ে যাবে.................
.
আমি একটু বাদিকের পাশটাতে গিয়ে লেখিকাকে বল্লাম, এইভাবে বসে থাকলে মানুষজন আসবেনা। আপনি বরং আমার জন্য এককাপ চা আর দুইটা রুটি আনানোর ব্যবস্থা করেন। বইয়ের উপরে চায়ের কাপ রেখে তার মাঝে রুটি ভিজিয়ে ভিজিয়ে খেতে থাকবো, আসেপাশের মানুষ এমন অদ্ভুত বিষয় দেখে একটু থামবে কেউ হইতো কাছে আসবে, মানুষের ভিড় ভেড়ে যাবে। তাতে করে আপনারদের বেচা বিক্রিও ভাল হবে। জানেনইতো বাংলাদেশের মানুষ খুবই কৌতহল প্রিয়, রাস্তার খুরাখুরিও লাইন দিয়ে দেখে সবাই।
আমার কথায় লেখিকা একটু অবাক হলেন, উনার মুখে একটা বিরক্তির রেখা দেখা যাচ্ছে। আমি মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারি সহজে তবে লেখক/লেখিকাকে পারিনা, এরা অন্য জগতের মানুষ। যত সিরিয়াস কথাই বলবেন একটু তাকিয়ে বলবে "উহ আচ্ছা, তাই নাকি"
কৌতক বলেও কোন লেখক/লেখিকাকে হাসানোর উপাই নাই।
তবে উনি মনেহয় একটু বিভ্রান্ত হয়েছেন, পার্সথেকে একটা ৫০ টাকার নোট বের করে সেলসম্যানের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বল্ল ১টা চা আর ২টা রুটি নিয়ে আসেন। এতটুকু বলেই উনি আবার লেখার দিকে মনযোগ দিলেন। যাক ভালই হল, একটু কথাতেই চা রুটি চলে আসতেছে, দুপুরের খাবারের টাকাটা বেচে গেছে।
আমি অপেক্ষা করছি চা রুটির জন্য আর লেখিকা মনযোগ দিচ্ছে লেখার দিকে।
.
আমার সামনে এককাপ চা আর দুইটা রুটি, আগে কাচের কাপে চা দিলেও এখন পাষ্টিকের কাপে দিচ্ছে। তবে কাচ বা সিরামিকের কাপে চা নাখেলে কেমন জানি লাগে, ওয়ানটাইম গ্লাসে চা খেলে পেট ভরে কিন্তু মন ভরেনা
কিছুই করা নাই, যেভাবে পেয়েছি সেই ভাবেই খেতে হবে। রুটি দুইটা গোল, মনেহয় লাকরির আগুনের চুলাতে বানানো হইছে। উপরের অংশটা কেমন কালচে ভাব চলে আসছে।
আমি মাটিতে বসে পরলাম, পাশদিয়ে যাওয়া দুজন মানুষ দাড়িয়ে গেলেন। স্যুট পরা একজন মানুষ মাটিতে বসে চায়ে রুটি চুবিয়ে খাচ্ছে বিষয়টা কেমন লাগছে, অনেকের মনেই কৌতহল জন্মাইছে, মানুষের ভিড় বাড়ছে। আমার অদ্ভুত কান্ড দেখে দেখে কেউ বইয়ের দোকানেও উকি দিচ্ছে, টুকটাক বেচাকেনা শুরু হয়েছে। টুপি পরা ভদ্রলোক মোবাইলে কাকে যেন ধমক দিচ্ছেন তারাতারি আসার জন্য, বেচাবিক্রি ভালই শুরু হইছে। এখন মানুষ আমার অদ্ভুদ কান্ড দেখার চেয়ে দোকানে বই কিনতেই বেশি মনযোগি।
লেখিকা আমার দিকে তাকাচ্ছে, হইতো ভাবছে এমন পাগলামি করার মত মানুষ আর আছে এই পৃথিবীতে!!!!
.
আমার চা রুটি খাওয়া শেষ করে লেখিকার একটা বই কিনলাম ২৯০ টাকা দিয়ে, উনার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বল্লাম একটা অটোগ্রাফ দিয়া দেন তাইলে আমিও সমাজের উচা শ্রেণীতে উঠতে পারমু লেখকের হাত থেকে বই নেয়ার জন্য। উনি হাসলেন কলমের ক্যাপ খুলতেই আমি আরও একটু কাছে গিয়ে স্বভাব সুলব বল্লাম অটোগ্রাফের জায়গাতে "I LOVE YOU" লেখা যায়না? এবার আমাকে অবাক করে দিয়ে মেয়েটা মিষ্টি করে হাসল, এই হাসির মিনিং অনেক কিছু হতে পারে। আমার মত পাগল মানুষ এর মিনিং বের করতে পারবনা।
আমি বই হাতে দুইটা ক্লিক ক্লিক ছবি তুলে ছুটলাম গেইটের দিকে, এখন বের নাহলে বাসায় ফিরতে অনেক দেড়ি হয়ে যাবে। রাত করে বাসায় আসার জন্য মায়ের অনেক বকুনি খাইছি, কালকে সিঙ্গাপুর চলে যাব আজকে বকা খাওয়া যাবেনা।
.
কাধ থেকে ব্যাগটা নামিয়ে বইটা রাখতে গেলাম, হঠাৎ বইটা নিচে পরে গেছে। তুলতে গিয়ে একটা ৪২০ ভোল্টের শক খেলাম, লেখিকা আমার কথা রেখেছে অটোগ্রাফের পাশের লিখেদিয়েছে "I LOVE YOU" এর সাথেই লিখেছে আপনার এমন পাগলামু স্বভাব যদি সারা জীবন ধরে রাখতে পারেন তাখলে পাশের দোকান থেকে একটা গোলাপ কিনে লাভ ইউ টু বলতে পারেন, আপনার ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করবো।
লেখাটা পরে পিছনে তাকালাম উনি অপলক তাকিয়ে আছে, হইতো কিছু ভাবছে। তবে কি ভাবছে এটা বুজতে পারার শক্তি আমার নাই।
আমি বইটা ব্যাগে রেখে হাটা শুরু করলাম, পরের বছর আবার আসবো ততদিন যদি আমাকে মনে রাখে তাহলে নাহয় একটু লাল গোলাপ দিয়ে লাভ ইউ টু থ্রি ফোর যে কোন একটা বলা যাবে.............
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ দুপুর ২:০০
৯টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কষ্ট থেকে আত্মরক্ষা করতে চাই

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ১২:৩৯



দেহটা মনের সাথে দৌড়ে পারে না
মন উড়ে চলে যায় বহু দূর স্থানে
ক্লান্ত দেহ পড়ে থাকে বিশ্রামে
একরাশ হতাশায় মন দেহে ফিরে।

সময়ের চাকা ঘুরতে থাকে অবিরত
কি অর্জন হলো হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য : মদ্যপান !

লিখেছেন গেছো দাদা, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ১২:৫৩

প্রখ্যাত শায়র মীর্জা গালিব একদিন তাঁর বোতল নিয়ে মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। বেশ মৌতাতে রয়েছেন তিনি। এদিকে মুসল্লিদের নজরে পড়েছে এই ঘটনা। তখন মুসল্লীরা রে রে করে এসে তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেঘ ভাসে - বৃষ্টি নামে

লিখেছেন লাইলী আরজুমান খানম লায়লা, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৪ বিকাল ৪:৩১

সেই ছোট বেলার কথা। চৈত্রের দাবানলে আমাদের বিরাট পুকুর প্রায় শুকিয়ে যায় যায় অবস্থা। আশেপাশের জমিজমা শুকিয়ে ফেটে চৌচির। গরমে আমাদের শীতল কুয়া হঠাৎই অশীতল হয়ে উঠলো। আম, জাম, কাঁঠাল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

= নিরস জীবনের প্রতিচ্ছবি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৪ বিকাল ৪:৪১



এখন সময় নেই আর ভালোবাসার
ব্যস্ততার ঘাড়ে পা ঝুলিয়ে নিথর বসেছি,
চাইলেও ফেরত আসা যাবে না এখানে
সময় অল্প, গুছাতে হবে জমে যাওয়া কাজ।

বাতাসে সময় কুঁড়িয়েছি মুঠো ভরে
অবসরের বুকে শুয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

Instrumentation & Control (INC) সাবজেক্ট বাংলাদেশে নেই

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৪ বিকাল ৪:৫৫




শিক্ষা ব্যবস্থার মান যে বাংলাদেশে এক্কেবারেই খারাপ তা বলার কোনো সুযোগ নেই। সারাদিন শিক্ষার মান নিয়ে চেঁচামেচি করলেও বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাই বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে সার্ভিস দিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×