somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন শিক্ষকের জন্য হাত পাতছি

২১ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ৯:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


“আমরা প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। বড়লোকের কুকুরের এক ঠ্যাংয়ের চেয়েও আমাদের মূল্য কম। আমাদের কথা ভাবার মত সময় কারো নেই।” হাস্যচ্ছলে এই নির্মম সত্য কথাগুলো সহকর্মীদের আর আমার মুখের উপর ছুঁড়ে দেয়া মানুষটার দিকে তাকালাম। পিএইচডি গবেষণার কাজে রাজশাহীর এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসে সাব্বিরের কথা শুনলাম। বাংলাদেশের পতাকাসমত একটা হালকা সবুজ টিশার্ট গায়ে। মুখে সাদাকালোর মিশেলে খোঁচাখোঁচা দাড়ি। ঠোঁটজোড়া সাদা হয়ে আছে। মুখের কথা জড়িয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ঘোলাটে চোখের আড়ালে জীবনের যে স্ফুলিঙ্গ উঁকি দিচ্ছে তা আমাকে শিহরিত করলো। আগের দিন এই মানুষটার কথা অন্য শিক্ষকদের কাছে শুনেছি। দুটো কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। প্রতিস্থাপন ছাড়া বাঁচার উপায় নেই। মৃত্যুর সাথে প্রতি মুহূর্তে যুঝে চলেছেন যিনি, তাঁর সামনাসামনি হয়ে সুস্থ থাকার লজ্জায় আমার মাথা নুয়ে এলো। আকর্ণবিস্তৃত নিষ্পাপ হাসি আর চোখের ঔজ্জ্বল্য বলে দিলো, প্রায় মধ্য তিরিশের এ মানুষটা পর্বতসম বাঁচার স্বপ্ন নিয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।
মোহাম্মদ সাব্বির রহমান। রাজশাহী জেলার বোয়ালিয়া থানার মন্নুজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। দু’বছরের কন্যাসন্তান মৃদুলার কথা একবুক দীর্ঘশ্বাসের সাথে বেরিয়ে এলো, “মেয়েটা আমার এত সুন্দর। ওর জন্য বড় বাঁচতে ইচ্ছা করে। মিছেমিছি রান্না করে আমাকে বলে, আব্বু গোসতো নান্না করেছি, সুড়ুত করে খেয়ে ফেলো। হায়রে মেয়ে, এতিম হয়ে বড় হতে হবে। মাথার উপর কোন ছায়া থাকলোনা, বাবার আদর এই সুন্দর মেয়েটার কপালে নেই।“ সহকর্মীরা মিথ্যে সান্ত্বনা দিলেন, সর্বশক্তিমানের উপর আস্থা রাখতে বললেন। সাব্বিরের অসহায় হাসিই বলে দিলো তাঁর সব মনোবল শূণ্যের কোঠায় ঠেকতে বসেছে।
চারমাস আগে রাজশাহীতে করা টেস্ট রিপোর্ট অনুযায়ী সাব্বিরের ক্রনিক কিডনি রোগ ধরা পড়ে যা সর্বোচ্চ পঞ্চম ধাপে পৌঁছে গেছে। মার্চে ডাক্তার জানান অতিসত্বর হাসাপাতালে ভর্তি হওয়া জরুরি। সিরাম ক্রিয়েটিনিন এর মাত্রা ১৫৪৫, যার স্বাভাবিক মাত্রা হওয়া উচিত ৬৬-১২৪। রক্তের ইউরিয়া ২৮.৪ (স্বাভাবিক ৩.৫-৪)। এছাড়াও অন্য অনেক ক্ষতিকর উপাদানের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশী। ভারতের ভেলোরে যান উন্নত চিকিৎসার জন্য। সেখানেও ডাক্তাররা বলে দেন সাব্বিরের বাঁচানোর উপায় দুটো, কিডনি প্রতিস্থাপন অথবা আজীবন ডায়ালাইসিস এর আশ্রয় নেয়া। ডায়ালাইসিসের খরচ সাধ্যাতীত হওয়ায় প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন সাব্বির। সাব্বিরকে কিডনি দান করার জন্য তাঁর আপন বোন এবং ফুফাতো বোন রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু এই মার্চে বারডেম এ ক্রস ম্যাচিং করে দেখা যায় তাঁদের কারো সাথেই কিডনি ম্যাচ হয়নি।
সাব্বিরের জন্য সাহায্য চেয়ে দৈনিক আমার দেশ, কালের কন্ঠ, সানশাইন এসব পত্রিকা ছাড়াও রাজশাহীর স্থানীয় একটি ভিসিডি চ্যানেলে সংবাদ প্রচারিত হয়। “শিক্ষকরা আমার কষ্ট বোঝেন। এ পর্যন্ত যতটুকু অর্থ সংগৃহীত হয়েছে তার বেশিরভাগ পেয়েছি এঁদের কাছ থেকে। হাত বাড়িয়েছেন স্থানীয় কিছু বড়মনের মানুষ। ছাত্র, অভিভাবক যে যা পারে আমাকে ভালোবেসে তা-ই দিয়েছে”, জানালেন সাব্বির। কিডনি ম্যাচিং এর জন্য দু’বার টেস্ট এ চলে গেছে বেশ কিছু অর্থ। প্রতিদিন সাব্বিরকে অনেক টাকার ওষুধ খেতে হচ্ছে। নিয়মিত চেক-আপের জন্য ভারতে যেতে হচ্ছে। কিডনি বিক্রয়ের জন্য আগ্রহীরা যে মূল্য চাচ্ছেন তা সাব্বিরের সাধ্যের বাইরে। ভারত এবং বাংলাদেশের ডাক্তাররা জরুরি ভিত্তিতে প্রতিস্থাপনের জন্য তাগাদা দিলেও কিডনি সংগ্রহেই ব্যর্থ হচ্ছেন সাব্বির। কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য অপারেশন, আনুষঙ্গিক ব্যয় ছাড়াও অপারেশনের পরে একটা দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চমূল্যের ওষুধ সেবন করে যেতে হবে। সব মিলিয়ে প্রায় বিশ লক্ষাধিক টাকার প্রয়োজন। সাহায্যের অর্থ হাতে যা আছে তা দিয়ে কোনভাবেই কিডনি ক্রয় এবং পরবর্তী চিকিতসার সিদ্ধান্ত নিতে পারছেননা সাব্বির। আর এজন্যে দিনে দিনে স্বাস্থ্য আরো ভেঙ্গে পড়ছে। আস্তে আস্তে শরীরের সব প্রতিরোধ ক্ষমতা শেষ হয়ে আসছে। এখন হাঁটার মত শক্তি পাননা। একটু কথা বললেই হাঁপিয়ে পড়েন। সারারাত কাটে নির্ঘুম। ফুসফুসে পানি জমতে শুরু করেছে। সহকর্মীকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “ঘন্টা বেজে গেছে গো চাচী। ক্ষয়ে পড়ছে সবকিছু। সব শক্তি ফুরিয়ে যাবার সময় হয়ে এলো।” নিজে নিজে পড়াশোনা করে হোমিওপ্যাথি ওষুধ খাওয়া ধরেছেন সাব্বির। প্রতিস্থাপনের আগ পর্যন্ত শরীরকে তো টিকিয়ে রাখতে হবে, এজন্যেই এই বিকল্প ব্যবস্থা।

“আট নয় হাজার টাকার বেতনের চাকুরি করে ব্যয়বহুল এই চিকিতসা গরীবের ঘোড়ারোগ ছাড়া আর কী?” সাব্বিরের অট্টহাসি আবার আমার অন্তর নাড়িয়ে দিলো। সবার অলক্ষ্যে অশ্রু মুছলাম। চোখের সামনে যার মৃত্যুর ছায়া ঝুলছে তাঁর সামনে কোন দুর্বলতা দেখানো মানে মানুষটার অদম্য প্রাণশক্তিকে হেয় করা। এত অসুস্থতা সত্ত্বেও সাব্বির নিয়মিত স্কুলে আসার চেষ্টা করছেন। যতটুকু পারছেন সহকর্মীদের কাজে সাহায্য করছেন। নির্ঘুম রাতের সঙ্গী এখন সাহিত্যের বই। নিজের সংগ্রহ থেকে বই এনে সহকর্মীদের সাথে বিনিময় করছেন সাব্বির। কেউ না জানলে বুঝবেনা কী ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছে গেছে তাঁর শারীরিক অবস্থা। সহকর্মীদের সাথে স্বাভাবিক কৌতুক করছেন, প্রাণখোলা হাসি হাসছেন। নিজের অসহায়ত্ব আর শারীরিক অক্ষমতা নিয়ে হালকা রসিকতা করতেও কুন্ঠাবোধ করছেননা সাব্বির। প্রাথমিক শিক্ষার অবস্থা কীভাবে পরিবর্তন করা যায়, কোন বিষয়গুলোতে প্রাধান্য দেয়া উচিত এসব বিষয়ে সুচিন্তিত মতামত ব্যক্ত করছেন। “শিক্ষকদের ভালোমন্দের দিকে নজর না দিলে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা বৃক্ষের নীচে যতই পানি ঢালা হোক, কোন ফল আসবেনা”, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা কথা কী অবলীলায় বলে ফেললেন সাব্বির। সুস্থ হয়ে উঠলে স্কুল নিয়ে, ছাত্রদের নিয়ে তাঁর কী কী পরিকল্পনা আছে তার বিবরণ জানিয়ে আমাদের সবাইকে নিজেদের কাছে আরো ছোট করে দিলেন। এ যেন সবার চোখকে ফাঁকি দিয়ে ভালো থাকার অভিনয় করে যাওয়া। কী অপূর্ব প্রাণস্পৃহা! আমার সব শিক্ষা, আত্মবিশ্বাস সাব্বিরের সামনে নুড়িসম মনে হলো। জীবনের কত ক্ষুদ্র অপ্রাপ্তি, বঞ্চনা নিয়ে আমরা হতাশায় কালক্ষেপণ করি। আর জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে কীভাবে একটা মানুষ এত স্পৃহা নিয়ে স্বপ্ন, আশার কথা বলে যায়! শিক্ষার আলো ছড়াবার ব্রত নিয়ে যে মানুষটা কর্মজীবন শুরু করেছে, সে কি কান্নার হাসি হাসতে হাসতেই হারিয়ে যাবে?
সাব্বির যে সুন্দর দেশের সুন্দর মানুষের স্বপ্ন দেখেন প্রতিনিয়ত, আমাদের মধ্যে এখনো সেই মানুষগুলো বিরাজ করে। এজন্য বাইশ বছরের ছন্দা সাব্বিরের খবর শুনে কিডনি দেয়ার জন্য সাব্বিরকে ফোন দেন। সাব্বির তাঁকে হেসে বলেন, “তুমি এখনো ছোট। সামনে তোমার পুরোটা জীবন। আমার জন্য একটা অঙ্গহানি করবে কেনো?” এরকম অনেক ছন্দা সাব্বিরের জন্য সহমর্মিতা প্রকাশ করছেন। আমি আজ করজোড়ে সাহায্য চাইছি আপনাদের কাছে। যার যতটুকু সামর্থ্য তাই নিয়ে আমরা সাব্বিরের পাশে দাঁড়াই। অর্থ দিয়ে, মনোবল দিয়ে আমরা একজন আলোকিত শিক্ষকের সুস্থতার জন্য একতাবদ্ধ হই। পরিবার, আত্মীয়, বন্ধু, সহকর্মী সবার কাছে সাব্বিরের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করি। সমাজে এমনও অনেক মানুষ আছেন যাঁদের দানে বিশ লক্ষ টাকা অল্প সময়েই উঠে যেতে পারে। আমরা তাঁদের কাছে সাব্বিরের খবরটুকু পৌঁছে দেই। যত দ্রুত আমরা একটা অংক সাব্বিরের হাতে তুলে দিতে পারবো তত দ্রুত তিনি কিডনি ক্রয় এবং পরবর্তী চিকিৎসার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। নিজের একটু সঞ্চয় আমরা একটা জীবনের জন্য আজ তুলে দেই। আমি আপনাদের উপর আশা রাখি, সাব্বিরকে দেখে আবারো মানুষের উপর আস্থা অর্জন করি। আমরা পারবো। আমরা অতি দ্রুত সাব্বিরকে কিডনি প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করে দিতে পারবো। এ আবেদনটা সাক্ষাতে, ফোনে, ইমেইলে, ফেসবুকে, টুইটারে আমরা পরিচিত সবার কাছে ছড়িয়ে দেই। অনেক আশা নিয়ে আজ আপনাদের শরণাপন্ন হয়েছি।

সাব্বির চাতকের মত বসে আছেন মনুষ্যত্বের গরিমা দেখার জন্য। তাঁর ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিতঃ সাব্বির রহমান, সঞ্চয়ী হিসাব নং ১১২২১০৮০০১৪৪১৩, প্রাইম ব্যাংক, রাজশাহী। মুঠোফোনে সাব্বিরকে পাবেন ০১৭১৯৯৩৩০৯৬ এই নম্বরে।

সাব্বিরকে ভালো কিছু খবর জানাতে পারবো এই প্রত্যাশা নিয়ে শেষ করছি।


বি.দ্র.: একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা হয়নি। কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে প্রথমে প্রয়োজনীয় বিষয় হলো রক্তের গ্রুপ মিলে যাওয়া। সাব্বির ভাইয়ের বি পজেটিভ। কিডনি দাতার গ্রুপও একই হতে হবে। কিডনি পাওয়ার পরে বারডেম এ টিস্যু ম্যাচিং এবং ক্রস ম্যাচিং এর জন্য খরচ লাগে প্রায় ২০/২৫ হাজার টাকা। ম্যাচ হওয়াটাই প্রথম ধাপ। নাহলে এই খরচটা বিফলে গেলো।


২২/৪/২০১১

সাময়িক ব্যস্ততার কারণে আমি পোস্টটার নিয়মিত আপডেট করতে পারছিনা। এজন্য দুঃখিত। সাব্বির ভাইয়ের সাথে আমার কথা হচ্ছে নিয়মিত। উনার কাছে অনেকে রাজশাহী প্রাইম ব্যাংকের SWIFT code জানতে চেয়েছেন। ইন্টারনেট থেকে নিয়ে নীচে সেটা দিলামঃ

PRBLBDDH009

(RAJSHAHI BRANCH)
138/144, SHAHEB BAZAR,
RAJSHAHI
BANGLADESH

অস্ট্রেলিয়া থেকে কেউ যদি সরাসরি ব্যাংকে পাঠাতে চান তবে আমার নীচের এই একাউন্টে পাঠাতে পারেনঃ

Commonwealth Bank
A/C Name: Rukhsana Tarannum Tajin
BSB: 062831
A/c No: 10327883

আমি সাব্বির ভাইয়ের দেশের একাউন্টে পাঠাবার ব্যবস্থা করবো।

আপডেটঃ ২৩/৪/১১ ইং
ব্লগে প্রকাশের পর থেকে এবং আজ 'আমার দেশ' পত্রিকায় খবরটা আসার পরে আজ সারাদিন সাব্বির ভাই অসংখ্য ফোন পেয়েছেন। সবার ভালোবাসা আর সহমর্মিতা পেয়ে সাব্বির ভাই বাকরূদ্ধ। আমি আজ রাতে অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছি। আশা করছি পরশু থেকে আপনাদের নিয়মিত তাঁর খবর জানাতে পারবো। অনেকেই তাঁকে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। কেমন সাহায্য সংগৃহীত হলো, তাঁর চিকিতসার কেমন অগ্রগতি হচ্ছে এসব বিষয়ে আমি তাঁর সাথে নিয়মিত কথা বলে ব্লগে জানাবো।


আপডেটঃ ২৭/৪/১১ ইং
দেশ থেকে অস্ট্রেলিয়া ফেরা এসব নিয়ে গত ২/৩ দিন আমি একটু ব্যস্ত ছিলাম। সাব্বির ভাইয়ের সাথে প্রতিদিনই কথা হয়েছে। কাল রাতে জানলাম, প্রতিদিনই উনাকে অসংখ্য মানুষ ফোন করছেন। প্রাইম ব্যাংকের একাউন্টে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৩১০০ টাকা জমা হয়েছে। এছাড়া জাপান থেকে ১৯৫০০ টাকা সাব্বির ভাইয়ের একাউন্টে পাঠানো হয়েছে বলে ফোনে জানানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে খুব শীঘ্রি সে টাকা একাউন্টে পৌঁছে যাবে। আমার অস্ট্রেলিয়াস্থ ব্যাংক একাউন্টে এ পর্যন্ত ২৭০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার জমা হয়েছে। এছাড়াও ঢাকা থেকে ব্লগার শরীফ নজমুল এবং অন্যরা মিলে ১০,০০ টাকা সাব্বির ভাইকে পাঠিয়েছেন। ব্লগার শিস্‌তালি ৪,১০০ টাকা ব্যাংক একাউন্টে পাঠিয়েছেন।

সাহায্য গ্রহণের জন্য একটি পে-পাল একাউন্টের আবেদন করা হয়েছে। আশা করছি খুব শীঘ্রি সেটা এক্টিভেট হবে। সাথে সাথে আমি লিংক ব্লগে এবং ফেসবুকে দিয়ে দিবো।

ডাচ-বাংলা ব্যাংকের পক্ষ থেকে সাব্বির ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে কতটুকু সাহায্য পাওয়া যাবে এ ব্যাপারে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি। ব্যাংকের পক্ষ থেকে চুড়ান্ত নিশ্চয়তা পাওয়ার পরে সেটা সবাইকে জানিয়ে দিবো আশা রাখছি।

সাব্বির ভাইয়ের স্বাস্থ্যের অবস্থা আগের মতোই আছে। কিডনি বিক্রেতাদের উনি বলে রেখেছেন, অর্থ সংস্থান হলেই প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা শুরু করা হবে।

এ বিষয়ে একটি ফেসবুক পেজ তৈরি করা হয়েছেঃ
Click This Link

আপডেট ২৯/৪/১১
অস্ট্রেলিয়ার একাউন্টে এ পর্যন্ত মোট জমার পরিমাণ ৫৯০ ডলার।

PayPal এর মাধ্যমে অর্থ পাঠাতে অনুগ্রহ করে নীচের লিঙ্কে PayPal বাটনটির সাহায্য নিনঃhttp://donatesabbir.wordpress.com/

২৯/৪/১১ রাত ৭.৩০
একটু আগের সাব্বির ভাইয়ের সাথে কথা বলে মনটা খারাপ হয়ে গেলো। কাল রাত থেকে অনবরত বমি হচ্ছে। শরীর একেবারেই ভেঙ্গে পড়েছে। আগামীকাল BIRDEM এ যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু শরীরের এ অবস্থায় রাজশাহী থেকে ঢাকা যেতে পারবেননা। সাব্বিরের বাবা আর একজন কিডনী দাতা কাল BIRDEM এ যাচ্ছেন সব বিষয়ে ধারণা নিতে।

ডাচ-বাংলা ব্যাংক থেকে আর কোন যোগাযোগ করা হয়নি। সাব্বির কতটুকু সাহায্য পাবেন তা কিছুই বোঝা যাচ্ছেনা। BIRDEM এর কিডনী ল্যাবে কাল উনারা গিয়ে সরাসরি কথা বলে দেখবেন কতটুকু সাহায্য পাওয়া যায়।

সাব্বির ভাইয়ের একাউন্টে এ পর্যন্ত ৮৯,০০০ টাকা জমা হয়েছে। আমার অস্ট্রেলিয়ান একাউন্টে জমার পরিমাণ মোট ৭৪০ ডলার। এক সপ্তাহে দেড় লাখের মত যোগাড় হলো। আমাদের আরো অনেক দূর যেতে হবে। বড় কোন অনুদান না পেলে সবকিছু অনিশ্চয়তার দিকে চলে যাবে।

আপডেট ১/৫/২০১১
সাব্বির ভাইয়ের সর্বশেষ অবস্থা তাঁর জবানিতেই শুনুনঃ

"আপা, খুব বেশি বমি হচ্ছে। কিছুই মুখে নিতে পারছিনা। মুখ চোখ একদম ফুলে গেছে। ডায়ালাইসিস করার কথা এতদিন ভাবিনি খরচের কথা চিন্তা করে। মাসে ৪০/৫০ হাজার খরচ আর যতদিন বেঁচে আছি এটা করে যেতে হবে। এজন্য বিকল্প ব্যবস্থা প্রতিস্থাপনের দিকে গিয়েছিলাম। কিন্তু শরীর এত খারাপ হয়েছে যে এখন মনে হচ্ছে ডায়ালাইসিস শুরু করে দেই। কিডনী ম্যাচিং কতদিনে হয় আর কতদিনে চিকিতসা শুরু হয়, কিছুতেই আশা পাচ্ছিনা। বড় অংকের টাকা পেলে হয়ত কিডনী ম্যাচ হয়ে যাবার পর খুব দ্রুত প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নিতে পারতাম"।

প্রার্থনা করছি, এই সপ্তাহে যেন ম্যাচিং এর সুসংবাদ পাওয়া যায়। আর ডাচ-বাংলা যেন বড় আকারের একটা সহায়তা দেয়। আপাতত আশা করে যাওয়া ছাড়া কিছু করার নেই।

বি.দ্র. PayPal এর মাধ্যমে এ পর্যন্ত ১৯০ ডলার পাওয়া গেছে। সবমিলিয়ে এখানে সংগ্রহের পরিমাণ ৯৩০ ডলার।

আপডেট 04/05/2011:
দু'জন কিডনি দাতার সাথে ম্যাচিং এর রেজাল্ট এই শনিবার পাওয়া যাবে। অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি যেন মিলে যায়।

দেশ এবং অস্ট্রেলিয়ার ফান্ড মিলিয়ে এখন পর্যন্ত পৌনে চার লাখ টাকা পাওয়া গেছে। আরো ষোল লাখের উপরে দরকার। সবাই অনুগ্রহ করে খবরটা ছড়িয়ে দেবার পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে অর্থ সংগ্রহে অংশ নিন।

আপডেট ৮/৭/২০১১
সাব্বির ভাইকে যে ডোনারের কিডনি দেয়ার কথা ছিলো, তাঁর সাথে তেমন ম্যাচ না হওয়াতে সাব্বির ভাইয়ের মা কিডনি দিচ্ছেন। গত কয়েক সপ্তাহ দু’জনের নানারকম পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। ভালো খবর হচ্ছে, এখন পর্যন্ত সব পজিটিভ পাওয়া গেছে। শুধু একটা ব্যাপারে ডাক্তাররা কিঞ্চিত শংকিত। সাব্বির ভাইয়ের হার্ট বড় হয়ে গেছে, পরীক্ষায় এটা ধরা পড়েছে। এ সমস্যাটার ভালো সমাধান পাওয়া গেলে এ মাসের ১৮ তারিখ কিডনি প্রতিস্থাপনের একটা সম্ভাব্যতা আছে।

সবার সহযোগিতায় যে ফান্ড সংগৃহীত হয়েছে তাতে প্রতিস্থাপন পর্যন্ত অর্থের সংকুলান হবে আশা করা যায়। পরবর্তী চিকিতসা এবং ওষুধের জন্য এখন আরো কিছু সংগ্রহ করা প্রয়োজন, তাতে সাব্বির ভাই কিছুটা নিশ্চিন্ত হতে পারবেন। এ পর্যন্ত সবাই যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন তার জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০১১ দুপুর ১২:৩২
২৫৬টি মন্তব্য ১২টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রম্য: টিপ

লিখেছেন গিয়াস উদ্দিন লিটন, ১৫ ই এপ্রিল, ২০২৪ রাত ৮:৩৫




ক্লাস থ্রীয়ে পড়ার সময় জীবনের প্রথম ক্লাস টু'এর এক রমনিকে টিপ দিয়েছিলাম। সলজ্জ হেসে সেই রমনি আমার টিপ গ্রহণ করলেও পরে তার সখীগণের প্ররোচনায় টিপ দেওয়ার কথা হেড স্যারকে জানিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহ সাহেবের ডায়রি ।। বৈশাখে ইলিশ

লিখেছেন শাহ আজিজ, ১৫ ই এপ্রিল, ২০২৪ রাত ৮:৪০



এবার বেশ আশ্চর্য ঘটনা ঘটেছে । বৈশাখ কে সামনে রেখে ইলিশের কথা মনে রাখিনি । একদিক দিয়ে ভাল হয়েছে যে ইলিশকে কিঞ্চিত হলেও ভুলতে পেরেছি । ইলিশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার প্রিয় কাকুর দেশে (ছবি ব্লগ) :#gt

লিখেছেন জুন, ১৫ ই এপ্রিল, ২০২৪ রাত ৯:১৩



অনেক অনেক দিন পর ব্লগ লিখতে বসলাম। গতকাল আমার প্রিয় কাকুর দেশে এসে পৌছালাম। এখন আছি নিউইয়র্কে। এরপরের গন্তব্য ন্যাশভিল তারপর টরেন্টো তারপর সাস্কাচুয়ান, তারপর ইনশাআল্লাহ ঢাকা। এত লম্বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেরত

লিখেছেন রাসেল রুশো, ১৫ ই এপ্রিল, ২০২৪ রাত ১০:০৬

এবারও তো হবে ইদ তোমাদের ছাড়া
অথচ আমার কানে বাজছে না নসিহত
কীভাবে কোন পথে গেলে নমাজ হবে পরিপাটি
কোন পায়ে বের হলে ফেরেশতা করবে সালাম
আমার নামতার খাতায় লিখে রেখেছি পুরোনো তালিম
দেখে দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসরায়েল

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৪ সকাল ১০:৪৮

ইসরায়েল
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এ মাকে হত্যা করেছে ইসরায়েল
এ বাবাকে হত্যা করেছে ইসরায়েল
নিরীহ শিশুদের হত্যা করেছে ইসরায়েল
এই বৃ্দ্ধ-বৃদ্ধাদের হত্যা করেছে ইসরায়েল
এ ভাইক হত্যা করেছে ইসরায়েল
এ বোনকে হত্যা করেছে ইসরায়েল
তারা মানুষ, এরাও মানুষ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×