somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খালেদা, কি কথা ওই যুবকের সাথে?

১৩ ই জুন, ২০১৫ সকাল ৮:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


দৈনিক স্টেটসম্যান-এর লিংক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সদ্য সমাপ্ত দুই দিনের ঢাকা সফরের দ্বিতীয় দিনে হোটেল সোনারগাঁওয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বৈঠক করেন। ৭ জুন বিকালে অনুষ্ঠিত প্রায় এক ঘণ্টার এই বৈঠকের অন্তত ১০ মিনিট তারা দুজন একান্তে কথা বলেন। এই একান্ত বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনও কিছু আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে গত ১০ জুন কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক স্টেটসম্যানের এক খবরে বলা হয়েছে, নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই বলে নালিশ জানাতে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। তবে শেষ পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদীর করা তিন প্রশ্নে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন বিএনপি চেয়ারপারসন।

‘গণতন্ত্র নেই বলে নালিশ জানাতে এসে, খাগড়াগড় নিয়ে মোদীর প্রশ্নে বিব্রত খালেদা জিয়া’ শিরোনামে ‘দৈনিক স্টেটসম্যান’—এ প্রকাশিত মানস ঘোষের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফর সরকারিভাবে ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই খালেদা জিয়া তার সঙ্গে সাক্ষাত্ করার জন্য উদ্যোগী হন। ঢাকায় ভারতীয় কূটনীতিকদের কাছে তাঁর দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা দেন দরবার করেন মোদীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য। ঢাকার বিরোধী রাজনৈতিক মহলের আশঙ্কা ছিল নরেন্দ্র মোদী বেগম জিয়াকে সাক্ষাত্কারের সময় নাও দিতে পারেন। কিন্তু মোদী সে পথে না গিয়ে বেগম জিয়াকে সাক্ষাত্কারের সুযোগ দেন। দশ মিনিট সময় দিলেও তিনি বেগম জিয়াকে যথার্থ মর্যাদা দিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা তাঁর হোটেল স্যুটে কথা বলেন। যার মধ্যে ১০ মিনিট তাঁরা একান্তে কথা বলেন।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ওই বৈঠকে তাঁদের মধ্যে কী নিয়ে কথা হয়েছিল তা নিয়ে ঢাকায় প্রচুর জল্পনা-কল্পনা চলছে। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে স্টেটসম্যানের খবরে বলা হয়, মোদী বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত্কারের কথা মাথায় রেখে আগেভাগেই পুরো হোমওয়ার্ক করে নিজেকে তৈরি করেন। এই বৈঠকের পর বেগম জিয়ার দলীয় মুখপাত্ররা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তাঁদের নেত্রী মোদীর কাছে বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই বলে নালিশ করেছেন। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন গণতন্ত্র ও দায়বদ্ধতা। বাংলাদেশে গণতন্ত্র হুমকির মুখে জানিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপি নেতানেত্রী ও বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন চলছে। জবাবে মোদী বিএনপি নেত্রীকে বলেন, ভারত গণতন্ত্রকে সমর্থন করে এবং সব ধরনের মৌলবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর।

এরপর নরেন্দ্র মোদী বেগম খালেদা জিয়াকে তিনটি প্রশ্ন করেন, যা তাকে রীতিমত বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে। তিনি এসব প্রশ্নের জবাব দিতে ব্যর্থ হন। মোদীর প্রথম প্রশ্ন ছিল—ভারতের রাষ্ট্রপতির (প্রণব মুখার্জি) সঙ্গে যেদিন সাক্ষাতের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল সেটা বানচাল করতে কারা সেদিন ঢাকায় হরতাল ডেকেছিল? বেগম জিয়া উত্তরে বলেন, বিএনপি-জামায়াত ও অন্যান্য জোটসঙ্গীরা যৌথভাবে হরতালের ডাক দিয়েছিল। মোদী বেগম জিয়ার জবাবে কোনো মন্তব্য করেননি।

মোদীর দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল, ২০০৪ সালে চীন থেকে গোপনে দশ ট্রাক অস্ত্র চট্টগ্রাম বন্দরে অবৈধভাবে খালাস করে ভারতীয় সন্ত্রাসীদের কাছে পৌঁছে দেয়ার যে আয়োজন করা হয়েছিল সেটা ঘটেছিল আপনার (খালেদা জিয়ার) প্রধানমন্ত্রীত্বের সময়ে। আর সেই গোপন আমদানির সঙ্গে আপনার ক্যাবিনেটের দুই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র ও শিল্পমন্ত্রী জড়িত ছিলেন। শোনা যাচ্ছে আপনি এবং আপনার দল ওই ঘটনার তদন্তে খুব একটা সাহায্য করেননি? সূত্র মতে, বেগম জিয়া এই প্রশ্ন শুনে এতটাই বিব্রত হন যে তিনি তার কোনো জবাবই দিতে পারেননি।

আর তৃতীয় প্রশ্ন ছিল বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ নিয়ে। মোদী জিয়াকে জানান, বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণের ঘটনায় তাঁর দলের ও জোটসঙ্গী জামায়াতের নেতাদের সম্পৃক্ততার কথা ভারত-বাংলাদেশ যৌথ তদন্তে উঠে আসছে। বিএনপি ও তার জোটসঙ্গীদের ওইসব দোষীদের আড়াল না করে তাদের শাস্তিদানের জন্য তদন্তকারীদের সাহায্য করার আশ্বাস দেয়া তাঁর নৈতিক দায়িত্ব। সূত্র মতে, এ ব্যাপারেও বেগম জিয়া জবাব দেননি। মোদীর এ প্রশ্নেও তিনি বিড়ম্বনায় পড়ে যান।

প্রসঙ্গত, নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বেগম জিয়ার বৈঠকের পর এ নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকার মাটিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সন্ত্রাস ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান স্পষ্ট করে গেছেন নরেন্দ্র মোদী। ওই সাক্ষাতের কিছু সময় পর প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব ড. এস জয়শঙ্কর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। আর তা হলো— আমরা গণতন্ত্রের সমর্থক এবং আমরা মৌলবাদ ও সন্ত্রাসবাদেরও বিরোধী। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে নরেন্দ্র মোদীর ওই অবস্থান, বিশেষ করে মৌলবাদ ও সন্ত্রাসবাদ বিরোধী বক্তব্যের গুরুত্ব অনেক। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে মোদী জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করার ইঙ্গিতই দিয়েছে বিএনপিকে!

কূটনৈতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, জঙ্গিবাদ, দশ ট্রাক অস্ত্রসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তত্কালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছিল। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ঢাকা জঙ্গিবাদ বিরোধী জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ এবং ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগগুলো দূর করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা শুরু করলে দু-দেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পায়।

২০১২ সালের অক্টোবর মাসে খালেদা জিয়া সরকারি আমন্ত্রণে ভারত সফর করেন। এর মধ্য দিয়ে বিএনপির সঙ্গে ভারতের দূরত্ব কমার লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। কিন্তু বিভিন্ন ইস্যুতে আবার বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে ২০১৩ সালের মার্চে সফররত ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের পূর্বনির্ধারিত সাক্ষাত্ বাতিল করেন খালেদা জিয়া। ফলে নতুন করে ভারতের রাজনৈতিক দল ও সরকারের সঙ্গে বিএনপির দূরত্ব সৃষ্টি হয়।
সূত্র
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুন, ২০১৫ সকাল ৮:৪৭
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামু একটি ছোট নৌকা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫



একটা ছোট নৌকা, পাল তুলে, পাড়ি দিচ্ছে -
অন্তহীন তারার রাস্তা পেরিয়ে।
পেরোচ্ছে গ্রহ, ধূমকেতু, ছুটন্ত আগুনের টুকরো,
দূরে কোথাও ধাক্কা লাগে, তারপর শব্দটা মিলিয়ে যায়।
ধীরে, খুব ধীরে এগোয় নৌকা;
তবু এগোয়।

নৌকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবির কথা আমার মুভি উতল অপেক্ষা

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




আজ একটা নতুন খবর ভাগ করে নেই সবার সাথে। অনেক দিন থেকেই ভাবছিলাম, নিজের গল্প দিয়ে যদি নাটক বা সিনেমা করা যেত। ভাবনা এক সময় সত্যি হয়ে গেলো।
দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×