somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উপলব্ধি....

৩১ শে অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১০:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বিদ্যা যখন হাসে তখন আশেপাশের কিছুই লক্ষ্য করে না। এ হাসির জন্য কম গালমন্দ খেতে হয়নি তাকে। মা প্রায়ই তাকে বকা দিয়ে বলতেন, যত হাসি তত কান্না। বিদ্যা তাতে কান দেয়না। কান দিয়েই কী করবে? হাসিই যে তার একমাত্র বন্ধু। কালের প্রয়োজনে সবই চলে যায়, হাসিটাই রয়ে যায়। এ হাসিটাই তাকে শক্ত করে দাঁড়াতে, নিজের পথে হাঁটতে সাহায্য করে।

দেখতে বিদ্যা ততটা সুশ্রী নয়। আমাদের সমাজে এখনও অনেক ক্ষেত্রেই কর্ম দক্ষতার চেয়ে শ্রীটাই বিবেচ্য বিষয় হয়ে থাকে। এ নিয়ে ছোট বেলা থেকেই বিদ্যার খুব মন খারাপ লাগা ছিল। আর এ মন খারাপ থেকেই হয়তো বিদ্যা নিজেকে প্রমাণ করার ব্রত নিয়ে নিল। জীবনের অপ্রাপ্তিগুলোকে সে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিল; আর তাকে বাস্তবে রূপ দিতে চাইল। বিদ্যার অনেকটা সময় কেটে যেত আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকে। আলো ঝলমলে শরতের আকাশ। মন খারাপ করা মেঘলা আকাশ। আকাশের কোল ঘেষে যখন মেঘরাশি ভাসতে ভাসতে দূর দেশে যেতে যেতে দিগন্তে মিলিয়ে যেত, তখন বিদ্যার ইচ্ছে করতো সেও ভেসে ভেসে সীমানা পেরিয়ে যাবে। জ্যোৎস্নার আলোয় স্নান করতে করতে চাঁদটাকে দুই হাতের মুঠোয় পুরে নিতে ইচ্ছে করতো। কত রাত বিন্দু বিন্দু তারার ফুলকে মাথায় গুঁজে কাটিয়ে দিয়েছে সারা রাত। স্বপ্ন বুনেছে মনে মনে। বিদ্যা যখন হাসতে হাসতে মাকে বলতো, ``মা, ইচ্ছে করে আকাশ ছুঁয়ে দেখি।" মা হাসতে হাসতে বলতেন, ``পাগলী!"..

মায়ের এ পাগলী কথাটার মধ্যে যে কি আদর আর ভালোবাসা জড়িয়ে থাকতো! আজও বিদ্যার কানে রিনিঝিনি শব্দের মতো মাঝে মাঝে বাজতে থাকে। পাগলী...। সময়ের সাথে চলতে চলতে বিদ্যা জীবনের অনেকগুলো বর্ষা, অনেকগুলো বসন্ত, অনেকগুলো শরৎ পার করেছে। শুধু জেদ করে সামনে এগিয়ে গেছে। পেছনে তাকায়নি কোনোদিন। যদি থেমে যেতে হয়! চলতে চলতে একমসয় যখন ক্লান্ত মনে হতে থামলো, তখনই দেখল পাশে কেউ নেই। তার চির বন্ধু হাসিটাও কখন তাকে ছেড়ে চলে গেছে।

আজ অনেকদিন পর বিদ্যার আবার ছোট হয়ে যেতে ইচ্ছে করলো। ইচ্ছে করলো মায়ের বুকে মাথা রেখে জোনাকির উড়ে যাওয়া দেখতে। চোখ বেয়ে কয়েক ফোটা পানি ঝরে পরলো তার। আঙুলের ডগায় পানিটা নিয়ে অদ্ভুত চোখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো সে। পড়ন্ত বিকেলের সূর্যের আলোয় স্বচ্ছ পানির ফোটাটা চিকচিক করছে। একি বিদ্যার হৃদয় নিংড়ানো অশ্রু ফোটা? নাকি সারা জীবনের না পাওয়ার প্রতিচ্ছবি?

বিদ্যার হঠাৎ করে ম্যাজিক ম্যানের কথা মনে হলো। বিদ্যুৎ চমকের মতো কেমন একটা শীতল অনুভূতি তাকে নাড়া দিয়ে গেল। আহ..., ম্যাজিক ম্যান! ম্যাজিকের মতো যে তার জীবনটাকে পাল্টে দিতে চেয়েছিল। গল্প, কবিতা, গান, কথা আর ঝগড়ার মালায় জড়িয়ে রাখতো। বিদ্যা তখন উড়তো, ভাসতো, সাঁতার কাটতো। ইচ্ছে হলে ভেসে ভেসে চলে যেত দূরের কোনো এক কসমোপলিটন সিটিতে। এই ম্যাজিক ম্যানই একদিন বিদ্যাকে স্বপ্ন বুনতে শিখিয়েছিল। কীভাবে স্বপ্নকে ভেঙে গুড়িয়ে দিতে হয় তাও শিখিয়েছিল। গুড়ো স্বপ্নের টুকরোগুলোকে পেছনে ফেলে বিদ্যা নিয়েছিল সাগর পাড়ের এই নির্জন বাস। গুটিয়ে নিয়েছিল নিজেকে। পেরেছে কি? হয়তো, হয়তো বা না।

জীবনের পড়ন্ত বিকেলে এসে বিদ্যা স্বপ্ন ভাঙা-গড়ার খেলায় আজ ক্লান্ত। ইচ্ছে করে জীবনের ফেলে আসা ভুলগুলোকে মুছে দিতে। ঠিক যেমনটা সমুদ্র তার ঢেউ দিয়ে মুছে দিচ্ছে তার ক্লান্ত পায়ের ছাপ।
___________
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১১:০০
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামু একটি ছোট নৌকা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫



একটা ছোট নৌকা, পাল তুলে, পাড়ি দিচ্ছে -
অন্তহীন তারার রাস্তা পেরিয়ে।
পেরোচ্ছে গ্রহ, ধূমকেতু, ছুটন্ত আগুনের টুকরো,
দূরে কোথাও ধাক্কা লাগে, তারপর শব্দটা মিলিয়ে যায়।
ধীরে, খুব ধীরে এগোয় নৌকা;
তবু এগোয়।

নৌকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবির কথা আমার মুভি উতল অপেক্ষা

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫



আজ একটা নতুন খবর ভাগ করে নেই সবার সাথে। অনেক দিন থেকেই ভাবছিলাম, নিজের গল্প দিয়ে যদি নাটক বা সিনেমা করা যেত। পরিচিত যারা কাজ করেন তেমন দু একজনের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×