
আজ সকালে অফিসে আসার পথে আজিজ মার্কেটের সামনে এসে জানতে পারলাম রাস্তা বন্দ, কোটা বহালের দাবীতে আন্দোলন চলছে। গাড়ি থেকে নেমে শাহবাগ থেকে মৎস্যভবন পর্যন্ত হেটে আসার সিদ্ধান্ত নিলাম। শাহবাগে এসে দেখলাম ১০-১৫ জন ছেলে মেয়ে পুরো শাহবাগের রাস্তা বন্দ করে দিয়ে মাইকে বেশ গরম গরম বক্তব্য দিচ্ছে। আর লক্ষ লক্ষ অফিসগামী মানুষ পড়েছে মহা ভোগান্তিতে। নিজের মোবাইলে দুটো ছবি তুলে ফেললাম।
কোটা বাতিল হয়েছে, এখন শুধুমাত্র মেধাই হবে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর চাকুরী পাওয়ার একমাত্র মাপকাঠি।এটা খুবই ভাল খবর। গতকাল থেকে কিছুলোক শাহবাগে জড় হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনরায় বহালের দাবীতে। এরা আসলে কারা? দেশ স্বাধীন হয়েছে ৪৭ বছর, তখন একজন মুক্তিযোদ্ধার বয়স যদি ৩০ বছরও হয় তাহলে উনার বর্তমান বয়স ৭৭ বছর তাহলে উনার সন্তানের বয়সের ৪০ বছরের কম হওয়ার কথা নয়? এদেশে সাধারণ মানুষের সরকারি চাকুরী পাওয়ার বয়স ৩০ বছর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে ৩৫ বছর। তারমানে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের সরকারি চাকুরীর বয়স আর নেই, লেট ম্যারেজের কারণে যদি দুই একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরও চাকুরী পেতে বাকী থাকে তবে সেটা সরকারের অবশ্যই বিবেচনা করা উচিত। কিন্তু মেধাকে উপেক্ষা করে মুক্তিযোদ্ধার নাতিদের প্রথম শ্রেণীর চাকুরীতে নিয়োগ দেওয়া হবে আর এদেশের লক্ষ লক্ষ ছেলে মেয়ে বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে ঘুরে বেড়াবে এটা গ্রহণযোগ্য নয়। তবে উপজাতী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ২-৩% কোটা রাখা উচিত।
মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। একসময় অনেকে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিতেও ভয় পেতো। এখন দিন পাল্টেছে, মুক্তিযোদ্ধারা আজ মাথা উঁচু করে চলতে পারছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের মেধাবী ছেলেমেয়েরা এখন প্রথম শ্রেণীর চাকুরীগুলো দাপটের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন,আর মুক্তিযুদ্ধবিরোধীরা এখন কোনঠাসা। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সম্মানজনক ভাতার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এমন বাংলাদেশইতো আমরা চেয়েছিলাম। বন্দ করুন এসব হাস্যকর আন্দোলন। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তাদের এভাবে হাসির পাত্র বানাবেন না।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৮ দুপুর ১:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



