somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নববর্ষের সেকাল একাল

১৪ ই এপ্রিল, ২০১৪ রাত ২:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১. বাড়িতে ভাল খানা পিনা হত। পোলাও, মাংস, ফিরনি জর্দা আরও অনেক কিছু। কারণ ঐতিহ্যগত ভাবে বিশ্বাস করা হত যে বছরের প্রথম দিন ভাল কিছু খেলে সারা বছর ভাল মন্দ খাওয়া যায়।
আর বর্তমানে হাজার তিনের টাকা দিয়ে একটি ইলিশ মাছ কেনা হয়। তারপর গরম ভাতের সাথে মিনারেল ওয়াটার দিয়ে এক বিশেষ ধরণের পান্তা খাওয়া হয়। যার অস্তিত্ব আছে রমনার পথে প্রান্তরে।
এই পান্তা কালচার যে কোথা থেকে এলো তা আমার মাথায় ধরে না।




২. তেমন কিছু কেনা কাটা হত না। কারণ অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার মত ইচ্ছে ও সাধ কোনটিই ছিল না।
এখন? লাল সাদা শাড়ি, সালোয়ার কামিস কিংবা পাঞ্জাবি না কিনলে কি মান সম্মান থাকবে? আড়ং ফারং এর বৈশাখী কালেকশন না হলে কি চলে। আর শাড়ির কাপড় যত সচ্ছ ততই ভাল, নাকি?


সমকাল পত্রিকায় এই পোশাক পরতে বলেছিল বৈশাখে মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন


৩. মেলা হত। সে মেলায় তেমন কিছু পাওয়া যেত না। মাটির জিনিস পত্র, খেলনা, বাশি, প্লাস্টিকের নানান জিনিস পত্র। এই থাকতো মেলায়। আর খাবারের জন্য থাকতো লাল জিলাপি। কি স্বাদ সেই জিলাপির। এখনো যেন মুখে লেগে আছে।
আর এখন নানার রকম খাবার পাওয়া যায়। বিরিয়ানি, হট ডগ, বার্গার, কোক, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই। আর আমরা সেগুল খাই। যতক্ষণ পারি পেটে চালান করি।




৪. মানুষ বেড়াতে যেত। আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে। তাতে আত্মার বাঁধন দৃঢ় হত।
এখন? বেড়ানোর সময় কই এখন। গার্লফ্রেন্ড কে নিয়ে ঘুরতে হবে না।
আমার মাঝে মাঝে মনে হয় পহেলা বৈশাখে দুই শ্রেণী যায় রমনাতে। একদল যাদের গার্লফ্রেন্ড আছে। আরেক দল যাহারা গার্লফ্রেন্ড নিয়ে এসেছে তাদের গার্ল কে দেখতে।
এ যেন আরেক ভালেন্টানস ডে। ঘুর ফির আর প্রেম কর।




অস্বীকার করে লাভ নেই যে কর্পোরেট দুনিয়া তার স্বার্থেই পহেলা বৈশাখ কে জমাতে সাহায্য করছে। কারণ এ লাভ টি তাদেরই।
তবে সব মন্দেরিই তো কোন না কোন ভাল দিক আছে। এই পহেলা বৈশাখ না থাকলে কি বাচ্চারা জানতে পারত যে বাংলা আলাদা পঞ্জিকা আছে। একটি উৎসব যা শুধু আমাদের। কারণ এ উৎসব কিন্তু আমাদের প্রাণের উৎসব ই শেষ পর্যন্ত। আমরা শত দুঃখ কষ্টের মাঝে দিনানিপাত করি। একদিন না হয় একটু উৎসব ই করলাম। ভুলে থাকলাম সব কষ্ট, বেদনা।
বাংলা নববর্ষ ভোরের সূর্য উদয়ের সাথে সাথে শুরু হয়। তাই অগ্রিম জানিয়ে গেলাম
শুভ নববর্ষ
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই এপ্রিল, ২০১৪ রাত ২:৫৮
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“Epstein “ বুঝতে পারেন ! কিন্তু রাজাকার,আলবদর,আলশামস আর আজকের Extension লালবদর বুঝতে পারেন না ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:০৮

মূলত এটি একটি ছবি ব্লগ। এক একটি ছবি একটি করে ইতিহাস। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কস্টের অধ্যায়।

এপস্টেইন ফাইল দেখে আপনারা যারা বিচলিত, জেনে রাখুন ভয়াবহ আরেক বর্বরতা ঘটেছিলো ৭১এ এদেশেই, আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:০১

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

ছবি, সংগৃহিত।

সারসংক্ষেপ

রমজানের রোজা ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদত। সাধারণ মুসলিম সমাজে রোজা ভঙ্গের ধারণা প্রধানত পানাহার ও যৌন সংসর্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অথচ কুরআন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ

লিখেছেন বিপ্লব০০৭, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৭



মানুষ আসলে কী?

Sophies Verden কেতাবে নরওয়েজিয়ান ইয়স্তেন গার্ডার (Jostein Gaarder) এক বিশাল বয়ান পেশ করেছেন ছোট্ট মেয়ে সোফির জীবনের গল্প বলতে বলতে। নীতি-নৈতিকতা, জীবন-জগৎ, সৃষ্টি নিয়ে সোফির ধারণা ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×