somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মন বাড়িয়ে কেবল তোকেই ছুঁই

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ১:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



-কি হইছে? মুখটা অমন কালো করে আছিস ক্যান?
-কিছুনা,এমনি।তোর ক্লাশ শেষ?

-হুম,শেষ।মন খারাপ?
-নাতো!

-মন খারাপ?
-না।

-২বার কিন্তু জিজ্ঞেস করা হয়ে গেছে।আরেকবার করব।
-কর

-মনটা খারাপ?
-না,না, নাআ।

-আচ্ছা,ঠিক আছে।বুঝলাম। আজকে জানিস ক্লাশ এ কি হইছে?অনেক মজার একটা কান্ড ঘটছে......একটা তেলাপোকা দেখে তো ক্লাশের মেয়েরা ভয়ে চিল্লাচিল্লি শুরু করে দিল।আমি অতি সাহস করে গিয়ে তেলাপোকাটারে পা দিয়ে চাপা দিয়ে মেরে ফেললাম।ব্যাস,অতি সাহসী পুরুষ খেতাব পেয়ে গেলাম।চিন্তা কর! সাহসী পুরুষ খেতাব পাওয়া কত্ত সহজ কাজ!
-হুম,সহজ।

-তারপরে কি হল,শোন।স্যার আসলো রুম এ.......
-তুই থামবি?

-তুই শুরু করলেই তো থামতে পারি!
-কি শুরু করব?!

-মুখ কালো করার কারন?
-বলছিনা কিছুনা না! সবসময় কি ক্যাচক্যাচ করতে ভাল লাগে? একটু চুপ থাকতে পারবনা?!!!

-পারবি না কেন! ২০০বার পারবি,৩০০বার পারবি।মুখের ক্ষমতা আছে চুপ করে থাকার।কিন্তু কানের নেই।তার ইচ্ছে না হলেও তাকে শুনতেই হবে। শোন,যখন ক্লাশ শুরু হল.......
-আল্লাহর ওয়াস্তে চুপ কর!

-মনটা খারাপ কেন বল?
-তুই কি এই জিনিস ভুলবি না?

-হুম,ভুলে যাব।
-তাইলে ভুইলা যা।

-উত্তর দে,শুনি।পারলে কিছু করি,তারপরে ভুইলা যাই।ফ্রি টিপস দিলাম।ভেবে দ্যাখ।
-আচ্ছা, মন খারাপ।

-ক্যান?
-এমনি।

-এমনি ক্যান?
-ফালতু ক্যাচাল করবি না

-আরে! কারো এমনি মন খারাপ থাকে না! এমনিটা কেন হইলো জানতে চাই।
-একা একা লাগতেছে।

-একা একা!ক্যাম্পাসে কত্ত মানুষ! আর, তোর একা লাগছে!
-হুম।

-তারমানে নির্দিষ্ট কারো জন্যে একা লাগছে?
-হুম

-তোর চোখ থেকে পানি পরছে।চাইলে কমন মিথ্যে টা বলতে পারিস। চোখে কিছু পড়ছে?
-না।কানতেছি।

-কাকে চাচ্ছিস?
-জানিনা

-তাকে চিনিস?
-না

-ও! তাইলে স্বপ্নে পাওয়া?
-না।কল্পনায় বানানো।

-ও। কল্পনা পুরুষ! নতুন নাম।এইটার কি আকিকা হবে?
-নাম আমার কাছে পুরান হইয়া গেছে,তুই ইন্টারভিউ বোর্ডের মত করে জিজ্ঞেস করতেছিস কেন?!

-তাকে এখনই চাচ্ছিস ক্যান?কোন দরকার?
-হুম। তাঁর কাধটা খুব দরকার।

-কাধটা?
-হুম।মাথা রেখে কাঁদবো।খুব কাদতে মন চাইতেছে।

-কোন কাধটা চাস,বল? যদি মনে করিস,মাথায় হাত বুলায় দিবে তাইলে বাম কাধ ভালো।ডান হাত বুলায় দিতে সহজ হবে।তবে কল্পনা পুরুষ বাহাতি হলে...
-ইচ্ছে করতেছে তাঁর কাছে ঝাপিয়ে পরে কাধে মাথা রেখে খুব করে কাঁদি।

-ঝাপিয়েও পরবি?! কত দূর থেকে দৌড় টা শুরু হবে? এক হাত দূড়ে হলে ঝাপায় আনন্দ পাবিনা।তুই পরলি আর সে টের ই পেলনা টাইপ হলে মজা নাই।দূর থেকে আসলে সে ব্যথা পাবে বেশি।সেই ব্যাথা সহ্য করে যদি তোকে সান্তনা দিতে পারে তাহলে একসাথে ২ পরীক্ষায় পাস।
-তুই এত কথা বলস ক্যন?!

-দৌড় টা সিনেমাটিক ভাবে দিলে কেমন হবে বলত! কল্পনা পুরুউউউউউউউউষ...... চিৎকার করতে করতে তুই দৌড়ে গেলি? সিনটা সারাজীবন মনে থাকবে।হাসি,আনন্দ মিক্সড খিচুড়ী।
-আমার ভালবাসা কি সিনেমা নাকি? সিনেমাটিক হইতে হবে কেন!

-আচ্ছা,এই প্ল্যান বাদ। কতটুকু দূরে সে থাকবে,বল? এতটুকু হবে?
-এটা তে তো ঝাপায় পড়া যাবেনা।

-আরেকটু যাই,না? ৩হাত হবেনা?
-হুম,এইবার হইছে।এই টুকু তে সে ব্যাথা পাবে না?

-পাবে মানে?তবে তুই একটু জোরে ঝাপ দিবি,বুঝলি?তুই যেহেতু পরীক্ষক,প্রশ্ন এইবার একটু হার্ড করবি।যেন পাস মার্ক তুলতেই জান বেরোয় যেন যায়।

-কিহ?
-লাইট,ক্যামেরা,এয়াকশন বলব? সিনেমাটিক না হলেও সিনেমার আবহ টা থাক। আচ্ছা,বাদ।অমন করে তাকাইসনা।
এইবার কি ঝাপায় পরবি?আমি কি চুপ করে দাড়াবো,নাকি অপেক্ষার ভঙ্গিতে অন্যমনস্ক হয়ে থাকবো? এইভাবে অবাক হয়ে তাকায় থাকিস না? তোর চোখ ২টা নোনাপানিতে ধুয়ে এখন এমন রূপ নিছে,যে তাকায় থাকার মত শক্তি আর আমার নাই।

............................
এরপরের টুকু কল্পনা করা খুব কষ্টকর কিংবা আমার অক্ষমতা।
ছেলেটি খুব খুব হার্ড প্রশ্ন টাতে লেটার মার্ক পেয়ে পাস করেছিল,এটুকু শুধু আমি বলতে পারি।

থাকুক।তাদের দুজনের অনুভুতিটা এক হবার সময়টুকু তাদের একান্তই থাকুক।

দীর্ঘ চাপা কষ্টের প্রতীক্ষার পর আর গোপন করে রাখা ভালোবাসার প্রকাশের পরের মুহুর্ত টুকুর ব্যখ্যা একমাত্র বিধাতাই জেনে রাখুক।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১১:৫৫
২৬টি মন্তব্য ২৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×