কিন্তু এর একটা ব্যাখ্যা অবশ্যই দিতে হয়। কার্যকারণ ছাড়া ঘটনা ঘটে না, এই গুনগুনের পেছনেও আছে কারণ, সেটাই বলি শুনুন।
আমাদের গ্রামের আবেদা, পুকুরে গিয়েছিল মাছ ধরতে। পারে দাঁড়িয়েছিল ওর ছোট বোন রহিমা। আবেদা মাছ ধরে আর পারে ছুঁড়ে মারে, রহিমা সেগুলো তুলে রাখে খালুইতে। হঠাৎ আবেদার কি হলো, একটা কইমাছ ধরে বোনকে দেখাতে দেখাতে বলে, "খাইয়া ফালাই? এই দ্যাখ আমি তাজা মাছ খাই"; রহিমা হাসে।
কিন্তু কি হইলো, কইমাছ লাফ দিয়ে গিয়ে আবেদার হা করা মুখে ঢুকে গেলো। আর অাঁটকে গেলো গলায়। আবেদা গিলতেও পারে না, ফেলতেও পারে না।
তখন আমরা গ্রামে বেড়াতে গিয়েছি। চারদিকে হৈ চৈ, আবেদা মরে যাচ্ছে। গ্রামে ডাক্তার পাওয়া যায় না। কবিরাজ এসে বললেন, কই মাছের প্রাণ, যে কোনও ভাবেই পেটের মধ্যে ঢুকে যাবে। আর অন্য কেউ কেউ বললেন, মেয়ে মানুষের জান, কই মাছের কাঁটায় কি মেয়েছেলে মরে? কতো চেষ্টা, কতো কসরৎ, কিছুতেই কিছু হয় না। রাতে আবেদার গলা ফুলে ঢোল, বেচারি চিৎকারও করতে পারছে না। গ্যাংগ্রিনই হয়ে গেলো মনে হয়, সকালে আবেদা মারা গেলো। কইমাছ আর মেয়ে মানুষের জান _ দু'টোই যে একসঙ্গে যেতে পারে, তার প্রমাণ পাওয়া গেলো।
সবার একবাক্যে শান্ত্বনা, আহারে, আজরাইল কেমন কই মাছের রূপ ধরে এসে আবেদাকে নিয়ে গেলো? আলস্নাহ্র কি কুদরত, একটা ুদ্র কই মাছও কতো শক্তিশালী. . . ইত্যাদি ইত্যাদি।
অনেকদিন পর আবেদার কথা মনে পড়ছে। খুব ছোট্ট বেলায় দেখা ঘটনা। দাগ কেটে আছে। ওরা বিশ্বাসী ছিল, বিশ্বাস দিয়ে কইমাছকে আজরাইল বানিয়ে শানত্দি পেলো। আমি এখন অবিশ্বাসী, তখন এই অবিশ্বাসের সঙ্গে বয়সের যোগসূত্র থাকতো তাহলে আবেদাকে হয়তো শহরে এনে বাঁচানোর চেষ্টা করতে পারতাম। কষ্টটা মন থেকে মুছে যেতে যেতেও যাচ্ছে না।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


