জোবেদা এলো সঙ্গে, সংসারের কাজে আমাকে যথেষ্ট সাহায্য করলো প্রথম দিনই। বুঝলাম, অকাজের নয়। ছেলেমেয়েগুলি রেখে এসেছে নিজের মায়ের কাছে, মন কাঁদে, সন্ধ্যে হতেই কেমন যেনো মস্নান চেহারা করে বসে থাকে। আমার মায়ের সঙ্গে বেশ খাতির হয়েছে। কথা বলে দু'জনে টুকটাক, গ্রামের কথা, বেশিরভাগই মায়ের প্রশ্ন। আমি বই নিয়ে বারান্দায় বসে থাকি, ছুটির দিন বলে অলস সময় কাটাই। জোবেদা আর মায়ের আলাপ-আলোচনা শুনি।
আজই সন্ধ্যায়, জোবেদা আর মা কথা বলছেন। আজান দিয়েছে। মা বললেন, কি জোবেদা নামাজ পড়বে না? যাও অজু করে আসো, এক সঙ্গে নামাজ পড়বো না হয়।
"আমি খালাম্মা নামাজ পড়ি না, দোয়া-কালামও জানি না"
সে কি কথা? নামাজ জানো না?
"নাহ জানি না, জাইন্যা কি ওইবো,নামাজ কি প্যাড ভরাইবো? যদি ভরাইতো তাইলে আর বাইচ্চাডিরে রাইখ্যা শহরে আইতে ওইলো ক্যান? পাঁচ বেলা নামাজ খাইয়াই দিন কাডাইতাম"।
জোবেদার কথাটি তখন থেকে আমাকে ভাবিয়ে চলেছে। সত্যিই তো, বিত্তবানের বিলাসি হিসেবে ধর্মকে যতোটা মানায়, নিম্নবিত্তের জন্য সেটাই হয়ে যায় বাহুল্য; তবে হ্যাঁ, নিয়তিবাদ নিশ্চয়ই নিম্নবিত্তের শেষ আশ্রয়, আলস্নাহ্ দেবেন এই আশায় বেঁচে থাকা আর কি _ আরেকদিন জিজ্ঞেস করতে হবে জোবেদাকে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


