জোঃ চাকরিটা আমারে ছার দিতেই হবে। না দিলে আমার রাসত্দায় নামা ছাড়া আর কোনও গতি থাকবে না।
বঃ রাসত্দায় নেমে কি করবে?
জোঃ কি আবার করবো? রাসত্দার মেয়েরা কি করে? আপনে তো ছার জানেন, জানেন না?
বস বুঝতে পারেন প্রশ্নটা করা ভুল হয়ে গেছে। একটু হেসে বলেন, "তুমি কোন্ দলে জোবেদা?" দেখলাম, বস অবলীলায় জোবেদাকে 'তুমি' বলে সম্বোধন করছেন। সামান্য লেখাপড়া জানলে হয়তো জোবেদাকে আপনি বলেই সম্বোধন করা হতো, মানুষ হিসেবে বিদ্যা অর্জনের সুযোগবঞ্চিত জোবেদা কিন্তু বিষয়টি বুঝতে পাওে সহজেই। রাতে ফিরে তা নিয়ে কথা হয়েছিল ওর সঙ্গে। সেসব পরে। আগে বস আর জোবেদার কথাগুলি শেষ করি। জোবেদা হয়তো বসের এই প্রশ্নটি বুঝতে পারেনি। তাই তাকিয়ে ছিল মুখের দিকে। বস আবারও ফিচেল হেসে জিজ্ঞেস করেন, "তুমি খালেদা নাকি হাসিনার দলে? নাকি ড. ইউনুসের দলে যোগ দিতে চাও? ভোটা দিবে কাকে?"
জোঃ ভোটতো ছার গোপন ব্যাপার, যারে ইচ্ছা হয় তারেই দিমু। কিন্তু ছার ইউনুচরে কুনওদিনও দিমু না।
বঃ কেন জোবেদা, ড. ইউনুসতো গরীবের উপকার করছেন। ঋণ দিয়ে তোমাদের স্বাবলম্বী করে তুলছেন। তারপরও কেন ইউনুস সাহেবকে ভোট দেবে না?
জোঃ ছার আপনেরা ওইসব বুঝবেন না। ঋণতো ছার আপনেরা নেন না, নেই আমরা, যাগো কিছু নাই তারা। যার কিছু নাই তারে ঋণ দেওয়ার মানে তো ছার তারে আরও নীচে নামাইয়া দেওয়া, আমার কিছু নাই, আমার কুনও চিনত্দাও নাই, পাইলে খাই না পাইলে নাই কিন্তু ছার ঋণ নিলে তো কিছু নাইর লগে আরও ধার যোগ হইলো। আপনারা তো ছার সব বোঝেন, আর এই সহজ কথাডা বোঝেন না?
বসের চোখ ছানাবড়া। আমি বসে থাকি স্থানুবত, বস আমার দিকে তাকান একবার, আরেকবার জোবেদার দিকে। তারপর আবার আমার দিকে তাকিয়ে বলেন, তাহলে জোবেদাকে আমাদের এখানে কাজ দেওয়া যায় কি বলেন?
আমার বলা বা না বলায় নয়, জোবেদার চাকরিটি হয়ে গেছে। জোবেদা থাকার জায়গা হিসেবে আমাদের বাসাকেই পছন্দ করেছে। ভালো লাগছে, কাল থেকে আমি আর জোবেদা একসঙ্গেই অফিস যাবো। সঙ্গী হিসেবে কিন্তু জোবেদা মোটেও খারাপ নয়। বরং, অনেকের চেয়ে ভালো, একটু বেশিই ভালো।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


