somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যানজট নিরসনে সরকারের পদক্ষেপ আর যথারীতি বলির পাঁঠা মধ্যবিত্ত নিম্নবিত্ত

২৭ শে জুন, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঢাকা শহরে আমার মত যারা নিয়মিত বা প্রায়শই বাসে চলাফেরা করেন তারা ভালমতই জানেন যে অনেকসময় বাস পাওয়ার জন্য আমাদের অনেক সময় ধরে অপেক্ষা করা লাগে। আবার বাসে উঠার পর যানজটে পড়ে আরেক দফা অপেক্ষার প্রহর গুনা লাগে। আমাদের ব্যক্তিজীবনে যানজটের প্রভাবটা শুধু বিরক্তি লাগা বা দেরী করে পৌছানোর কারণে বৌ/বসের ঝাড়ি খাওয়া পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। আমরা সেইরকম কাজের সাগরে হাবুডুবু খাইনা, তাই এই যানজটের অর্থনৈতিক ক্ষতিকর প্রভাবটা আমাদের সেইরকম নজরেও পড়েনা। প্রায় বিভিন্ন জায়গাতে পড়ি প্রতিদিন যানজটের কারণে শতশত কোটি টাকার কর্মঘন্টা হারিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এই কর্মঘন্টাগুলো আসলেই কর্মঘন্টা হতে পারত কি না তার নিশ্চয়তা না থাকায় সেইরকম পর্যায়ের মাথাব্যথা নাই। তাছাড়া নিজের ক্ষতি না হওয়া পর্যন্ত আমরা সাধারণতঃ কোনো বিষয়ে নাক গলাতে চাই না। সংখ্যাগরিষ্ঠ মধ্য/ নিম্নবিত্তের দেরি করে ঝাড়ি খাওয়া ছাড়া অন্য কোনো বড় সমস্যা না হওয়ার কারণে তারাও যানজটের মত এইরকম শহর অচল করে দেওয়া সমস্যা নিয়ে সেইরকম প্রতিবাদমূলক ভূমিকা তুলে ধরতে পারেনি বলেই মনে হয়। আর এই প্রতিবাদ/মতামতহীনতার সুযোগে সরকার ইচ্ছামতন আইন-নিয়ম প্রয়োগ করে পরীক্ষানিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে গিনিপিগ মধ্য/নিম্নবিত্তের উপর।

২-৩দিন আগে পেপারে পড়েছিলাম আর টিভিতেও খবরে দেখেছিলাম যে সরকার ঢাকার যানজট নামের মহাসমস্যা দূর করার জন্য এক বিরাট কার্যক্রম হাতে নিতে যাচ্ছে - ঢাকা শহরে ২০-২৫ বছরের পুরাতন যত গাড়ি আছে সেইগুলা উঠিয়ে নেয়া হবে, সাথে সাথে পুরাতন ট্রাক ভ্যানেরও সদ্‌গতি করা হবে। ভালো কথা, এতে যানজটের অবস্থার একটু উন্নতি হলেও হতে পারে। কিন্তু এইটাই কি সব? আর এই পুরনো লক্করঝক্কর গাড়িগুলাই কি যানজটের মূল কারণ? আরও তো অনেক কারণ আছে। সেইগুলা বাদ দিয়ে শুধু গরীবের বাহন বাসের দিকে সরকারের নজর কেন?

আমরা যেসব বাসে চড়ি তাতে গড়ে ৪০-৬০জনের মত যাত্রী যেতে পারে(সিটিং-লোকাল, ছোট-বড় সব বিবেচনা করে)। পাশাপাশি একটা প্রাইভেট কারের দিকে তাকাই, এইটাতে সর্বোচ্চ ৫জন যেতে পারে(আমরা দোস্তরা চাপাচাপি করে উঠলে আর কি :D)। আয়তনের দিক থেকে ১টা মিনিবাসের জায়গায় ২টা প্রাইভেট কারও আঁটবে কিনা সন্দেহ! অথচ গড়ে যেখানে ২০-৩০ জন(বাস ভর্তি না বিবচনা করে) যেতে পারত সেখানে আমি মাত্র ২-৮ জনের জন্য রাস্তা ছেড়ে দিচ্ছি। হয়ত এইভাবে প্রাইভেট কার বিরোধী মনোভাবের পিছনে আমার ঈর্ষাপরায়ণ মধ্যবিত্ত মন কাজ করছে :P। গরমে আর জ্যামে বাসের ভিতর যখন নিজে সিদ্ধ হতে থাকি, তখন পাশের প্রাইভেট কারের বিন্দু বিন্দু জলকণা ঢাকা জানালার কাঁচ(এ.সি.) আর হাই বিটের মিউজিক শুনলে ঈর্ষা জাগে বইকি! নিজের প্রাইভেট কার থাকলে জীবনেও এই কথাগুলো নিয়ে ভাবতাম বা এই লেখাটা লিখতাম কিনা সন্দেহ?

তো ব্যাপার হল - সরকার মহাশয় এই অধম মধ্যবিত্ত আর নিম্নবিত্তের সম্বল বাসগুলার উপর খড়গ নামালেন রাস্তা ফাঁকা করার জন্য। কিন্তু ঐ ফাঁকা জায়গা যে উচ্চবিত্তের প্রাইভেট কার এসে পুরণ করে ফেলে যে লাউ সেই কদু বানিয়ে ফেলছে সেই ব্যাপারে কি কোনো পদক্ষেপ নিয়েছেন? এই কারগুলো শুধু যে চলমান অবস্থায় রাস্তার জায়গা নষ্ট করে তা কিন্তু নয়, এদেরকে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর ধারে পার্ক করা অবস্থায়(যেমন : পুরা ধানমন্ডির রাস্তা) বা সি.এন.জি স্টেশনের লাইন রাস্তা পর্যন্ত টেনে এনে(যেমন : আসাদ গেট) যানজটে সহায়ক ভূমিকা রাখতে দেখা যায়। পুরাতন বাসগুলা তো রাস্তায় দাঁড়িয়ে হাওয়া খেত না, এদের পেটের ভিতর ভরে শতশত মানুষকে তাদের গন্তব্যে পৌছিয়ে দিত। এইসব পুরাতন বাস যে উঠিয়ে দেওয়া হবে তার জায়গাতে নতুন বাস কি সরকার মহাশয় নিজে সাপ্লাই করবেন? ঢাকা শহরের বড়লোকগুলো যে সকাল সন্ধ্যা নতুন কার কিনে রাস্তাতে নামাচ্ছে তার জন্য কি আপনারা জায়গা ফাঁকা করার দায়িত্ব নিয়েছেন? আমরা নন-উচ্চবিত্তরা ----মারা খাইলে সরকারের কি কুনোই যায় আসেনা!?!? X((

বিঃ দ্রঃ - এইখানে আমি "সরকার" বলতে যারা দেশ চালায় তাদেরকে উল্লেখ করেছি। নির্দিষ্টভাবে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারকে দায়ী করছি না। বিএনপি/বিএনপি-জামাত জোট ও সরকারে ছিল এবং তারাও এখন ক্ষমতায় থাকলে হয়ত একই কাজ করত।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×