*** আমাদের চা দোকান্দার আক্কাস ভাই। তার দোকানে আড্ডা আর চা খাওয়া আমাদের নিত্য দিনের অভ্যাস। এখন থেকে প্রায় তিন ঘন্টা আগে তার দোকানে বসে আলোচনা হচ্ছে এলাকার চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে: একজন যিনি গত প্রায় বিশ বছর আগেও এক পিরিয়ডের জন্য চেয়ারম্যান ছিলেন। এবার ও তিনি প্রার্থী। কিন্তু সকলের আলোচনা থামিয়ে তিনি বলতে থাকেন। গতবার (বিশ বছর আগে) তিনি যখন বিজয়ী হন তখনকার সময়ের ঘটনা: ভোট গননা চলছে- চেয়ারম্যান সাহেব ভোট গননার মাঝেই নিশ্চিত হয়ে যান তিনি ফেল করেছেন। ফলে মন খারাপ করে বাড়িতে গিয়ে বসে থাকেন। কিন্তু সারাদিনের দোড়াদৌড়ির কোন এক ফাঁকে তার পায়জামাটা নিচের অংশে যায় ছিড়ে। সেটা তিনি খেয়াল করতে পারেন নাই। হঠাত তার সমর্থকেরা চিৎকার করে বাড়িতে এসেই চেয়ারম্যান সাহেবক ধরাধরি করি কাঁধে তুলে নাচানাচি শুরু করেন। অর্থাৎ তিনি বিজয়ী হয়েছেন। কিন্তু নাচানাচিতে কারো খেয়াল নেই চেয়ারম্যান সাহেবের পায়জামা নিচের অংশে ছেঁড়া। ফলে যা বের হবার তা বেরিয়ে গেছে। হঠাত তার অন্য এক সমর্থক চিৎকার করে বলে উঠে- আরে তাড়াতাড়ি নামা- দেখ নিচের চেয়ারম্যান বাইর হইয়া পড়ছে।
নিচের অংশ পূর্বের পোষ্টের কপি পেষ্ট।
সেই আক্কাস ভাই- যিনি দু বছর আগেও একজন অন্ধ আওয়ামী সমর্থক ছিলেন। কিন্তু বর্তমান সরকারের কার্যক্রমে তিনি মনে হয় তেমন একটা সন্তুষ্ট না। যা.. তার কথা বার্তায় ধরা পড়ে।
০১.
আজ (২৪ মার্চ-২০১১) সকাল ১০/১১ টার দিকে মানব জমিন পত্রিকাটি হাতে নিয়ে পড়ছি। চোখ আটকে গেল একটা জায়গায়- আমি খবরের হেডিংটা জোড়ে উচ্চারণ করে পড়লাম "কোরআন সুন্নাহ্ বিরোধী কোন আইন প্রণয়ন করা হবেনা- প্রধানমন্ত্রী।
অপর একজন পাশ থেকে বলে উঠল- তাহলে কদিন আগেই যে শুনলাম মেয়েরা পিতার সম্পত্তিতে সমান ভাগ পাবে বলে আইন হচ্ছে- ওটা কি?
আক্কাস ভাই কথা কেড়ে নিলো- ওটা তো কোরান বিরোধী আইন না-ওটা মৌলভী বিরোধী আইন। (দু;খিত রাজনৈতিক প্রসঙ্গ নিয়ে আসলাম)
০২.
ডঃ ইউনুস নোবেল প্রাইজ পেয়েছে-রাজনৈতিক দল গঠনের প্রকৃয়া চলছে। টিভিতে খবর দেখে একজন অশিক্ষিত লোক প্রশ্ন করে "নোবেল জিনিসটা কি? আক্কাস ভাই মুখের কথা কেড়ে নিয়ে জবাব দেয়- এটা বুঝলেন না.... ওটা হলো "নো-বেইল" অর্থাত যার কোন বেইল নাই।
০৩.
তার দোকানে সব সময় গরুর পাইকার লোকেরা চা খায় আর আড্ডা দেয়। একদিন তার দোকানে বসে আছি-পেছনের অংশে সেইসব লোকেরা টাকা পয়সার লেনদেন নিয়ে জোড়ে জোড়ে কথা বলছে।
তিনি আমাদের কাছে এসে বললেন "এইসব আবুল খায়ের গ্রোপের লোকের যন্ত্রনায় আমার ব্যবসাটায় আর শান্তি পাইলাম না"।
আমি আমার সাথের একজনকে প্রশ্ন করি "আবুল খায়ের গ্রোপ" জিনিসটা কি? তিনি জবাব দেন আপনি কি শিক্ষিত হইলেন বুঝলাম না- আবুল খায়ের গ্রোপের গরু মাকা ঢেউটিন-...... বাকীটুকু আস্তে আস্তে করে বলেন "গরুর পাইকার"।
আমরা আর হাসি থামিয়ে রাখতে পারলাম না। (অনেকক্ষন চলল সেই হাসির অনুসঙ্গ)
০৪.
জাকির হোসেন নামের একজন উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা। সম্পতি ডেসটিনিতে জয়েন করেছেন। তিনি খুব জোড়ে জোড়ে কথা বলেন। তিনি যেটা বুঝেন আর বুঝাতে চান তার কথা প্রতিষ্ঠা করার জন্য শেষে মহা হট্টগোল বাধিয়ে হলেও নিজের জিত নিবেন। এইসব কারনে আমরা সযন্তে তাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। একদিন দেখলাম লোকটি আসছে। দুর থেকে তাকে দেখেই আক্কাস ভাই বললেন "এই এসে গেছে দেট্টনী (দড়টনী)। আমি বিষয়টা না বুঝে প্রশ্ন করি- দেড়টনি জিনিসটা কি?
তিনি বিরক্তি সহকারে জবাব দেন- ডিসটিনি...জাকির...।
তার কথা শুনে তাৎক্ষনিক হাসিতে আমার চায়ের কাপে চুমুক দেওয়া চা-টা আর গিলতে পারলাম না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


