ঢাকা বোর্ডের পরিচালনায় কলেজ পর্যায়ের ফুটবল খেলা চলছে। সে খেলায় ময়মনসিংহ অঞ্চলকে কয়েকটি জোনে ভাগ করে খেলায় চুড়ান্ত পর্যায়ে ময়মনসিংহ অঞ্চলে ফাইনালে উন্নীত হয় নেত্রকোনার আবু আব্বাস কলেজ ও কিশোরগঞ্জের হাজী জাফর আলী কলেজ
গত ০৫/১২/২০১৪ শুক্রবার আবু আব্বাস কলেজ মাঠে চলছিল খেলা। খেলা পরিচালনার দায়িত্ব ছিল নেত্রকোনা সরকারী কলেজের।
খেলা শুরুতে কিশোরগঞ্জের হাজী জাফর আলী কলেজের ছাত্রদের রেজিষ্ট্রেশন কার্ড যাচাই করে শুধুমাত্র ছাত্রদেরকে খেলার অনুমতি দেয়। কিন্তু নেত্রকোনার আবু আব্বাস কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক "আরিফ খান জয়" আবু আব্বাস কলেজের পক্ষে খেলতে মাঠে নামেন। প্রথম দিকে হাজী জাফর আলী কলেজ কর্তৃপক্ষ মনে করেছিলেন মন্ত্রী মহোদয় হয়ত ছাত্রদেরকে উৎসাহ দেবার জন্য খেলতে নেমেছেন। কিন্তু না... তিনি খেললেন পুরো নব্বই মিনিট।
খেলার ফলাফল যখন গোলশুন্য অবস্থায় তখন ট্রাই ব্রেকারে খেলার সমাপ্তির জন্য মন্ত্রী মহোদয় নিজেই প্রথম গোলটি করেন। যাই হোক ট্রাই ব্রেকারেও খেলার ফলাফল যখন সমানে সমান। তখন মন্ত্রী মহোদয় ঘোষনা করেন খেলাটি আগামীকাল পুনরায় অনষ্ঠিত হবে।
অবস্থার প্রেক্ষিতে কিশোরগঞ্জের হাজী জাফর আলী কলেজ কর্তৃপক্ষ ছাত্রদের নিয়ে ফেরত আসেন। পরদিন যখন অসমাপ্ত খেলাটি খেলার জন্য আবারো যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমন অবস্থায় খেলা পরিচালনা কর্তৃপক্ষ নেত্রকোনা সরকারী কলেজ কর্তৃপক্ষ (অধ্যক্ষ) মহোদয়কে ফোন করে মন্ত্রী মহোদয়ের নিজে খেলোয়াড় হওয়া ইত্যাদি বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলে অধ্যক্ষ মহোদয় পরোক্ষ ভাবে এ কথাই বুঝান যে, আপনারা আসলেও মন্ত্রী মহোদয় খেলার রেজাল্ট আপনাদের পক্ষে যেতে দিবেন না।
এমতাবস্থায় মন্ত্রী মহোদয় আবারো কিশোরগঞ্জের হাজী জাফর আলী কলেজকে নেত্রকোনায় যেতে অনুরোধ করেন এবং খেলাটি তিনি নিজ দায়িত্বে সচ্ছতা আনবেন বলে নিশ্চয়তা দিলে হাজী জাফর আলী কলেজ কর্তৃপক্ষ যেতে রাজী হয়।
যে মহা মুল্যবান খেলাটি আগামীকাল-০৭/১২/২০১৪ তারিখ রোজ রবিবার অনুষ্ঠিত হবার কথা হচ্ছে।
এমতাবস্থায় পঠকবৃন্দের কাছে কয়েকটি প্রশ্ন:
০১. মন্ত্রী কিভাবে? বা কোন আইনে খেলায় খেলোয়াড় হিসাবে অংশ গ্রহন করে? তিনি কি এখনও ছাত্র?
০২. একটা ফুটবল খেলা অসমাপ্ত থাকে এমন ঘটনা আমি এই প্রথম শুনলাম.. আপনারা কি জানেন?
০৩. মন্ত্রী মহোদয়ের রেজিষ্ট্রেশন কার্ডটি সাহস করে কেউ দেখতে চাইলনা কেন?
০৪. অনেক সাংবাদিক সেদিন ভিডিও করলেও এ বিষয়ে কেউ কিছু লিখলনা কেন? তাহলে কি সাংবাদিকরাও মন্ত্রীকে মহোদয়কে ভয় পান?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


