somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোন এক 31শের সন্ধ্যেয়

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৬ ভোর ৪:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি তখন সবে কলকাতা এসেছি এক বছর হল, মেয়ে খুব ছোট, তাই বাইরে খুব কম বেরুনো হত,ডিসেম্বরের শেষসেটা,বড়দিন পেরিয়ে গেছে, এখানে বড়দিনের হল্লা আমি বাড়িতে বসেই টের পেয়েছি, মেজদির ( মেজ জা ) কাছে গল্প শুনি,পড়শী হিন্দুস্থানী মেয়েটা এসে নানা গল্প শোনায়,আমি তার আদ্ধেক বুঝি,আদ্ধেক বুঝি না,কিন্তু আমার মন চঞ্চল হয় বাইরেবেরুনোর জন্যে,দেখার জন্যে !

মেজদির কাছ থেকে শুনেছি, গোটা পার্ক স্ট্রিট নাকি খুব সুন্দর করে সাজে,আর ঐ সেন্ট পল চার্চ, সেও নাকি খুব সুন্দর করেসাজানো হয়। দেখার ইচ্ছে তীব্র হতে থাকে, কিন্তু কারো সময় নেই, যে আমাকে নিয়ে একটু বেরোয়, মেজদা কে বললাম,(বায়না টায়না গুলো মেজ ভাশুরের কাছেই হত) যে আমি দেখতে যাব,তখন মেজদা বললেন, খুব ভীড় হয় যে, আচ্ছা ঠিকআছে, সময় পেলে নিয়ে যাব, কিন্তু সময় আর হয়নি ।

৩১শের রাত সেদিন, দুপুর বেলাতেই মেজদা বলে গেছেন, ফিরতে রাত হবে, বাইরেই খেয়ে আসবেন, ছোট কর্তাও( আমারতিনি) তাই জানিয়েছেন । আমার ভীষন মন খারাপ, মেজদিকে বললাম, তুমি তো নিয়ে চল... ! মেজদি বললে কিন্তু বাচ্চা দুটো ? মা বললেন, দু দুটো কাজের লোক আছে, অসুবিধে হবেনা, তোমরা যাও ।

পাশের বাড়ির এক ভাবী ও সঙ্গ নিলেন, আমরাও একটু সাহস পেলাম ! 2 এর থেকে তো 3 ভালো ! পাঁচ মিনিটের হাঁটা রাস্তাপার্ক স্ট্রিট, তো ঠিক হল হেঁটেই জাব। সন্ধ্যে সন্ধ্যে বেরুবো, খাব কিছু, আর সাড়ে আটটার মধ্যে বাড়ি ফিরব। সাজগোজকরার জন্যে নীচতলায় মেজদির ঘরে গেলাম, মেজদি বলল, গয়নাগাটি পরে বেরোসনা, ওগুলো খুলে ইমিটেশন গয়না পরে নে,আর দুজনের হাতে পার্স রাখার দরকার নেই, একজনের হাতে পার্স থাকলেই হবে ! তো যা গয়নাপত্র দুজনে পরেছিলাম,সবগুলো খুলে একটা পার্সের মধ্যে রেখে দিলাম, মেজদির পার্সে টাকা পয়সা ঢোকানো হল আর আমার পার্সে গয়না !বেরুনোর সময় একটা পার্স মেজদি নিজের আলমারিতে ঢোকালেন, আর একটা হাতে নিলেন । বলতে ভুলে গেছি, দুজনের হাতে ছিল একই রকমের একই রঙের পার্স ! ভাবী ও ততক্ষনে রেডি হয়ে দাড়িয়েই ছিলেন আমাদের জন্যে । তিন জনে মিলে মহা আনন্দে পার্ক স্ট্রিট অভিযানে চললাম ।

গল্প করতে করতে ঐ ঝলমলে রাস্তায় খানিক হেঁটে নিয়ে এবার খাওয়র পালা, আমি বললাম, চাইনীজ খাব, মেজদি বলল,দাদাবারন করেছে না?? চাইনীজ খেতে হলে বাড়িতে বানিয়ে খাও, রেস্টুরেন্টে শুয়োরের মাংস রান্না হয় ! কিন্তু অমই জেদ ধরলাম,খাবই খাব !

এখানে এসে অবধি একবারো চাইনীজ খওয়া হয়নি । অগত্যা মেজদি বলল, চ ! কিন্তু কোথাও টেবিল খালি নেই ! সব নাকি বুককরা ! মহ ঝামেলা তো ! অবশেষে এক জায়গায় টেবিল পাওয়া গেল, কিন্তু ৮টার মধ্যে খালি করে দিতে হবে। ৮টা থেকে বুককরা আছে। তখন সবে ৬টা বাজে। আমারা বসে পড়লাম। চারপাশে সবাই দেখলাম রঙিন শরবত খাচ্ছে, মেজদি বলল, শরবতনা রে হাঁদা, মদ খাচ্ছে সব!! আর জানান দিল, এখানে সব এরকমই !!

আমার কেমন অস্বস্তি হতে লাগল । মেজদি আরো বলল,এজন্যেই দাদা বারন করে । আমার ততক্ষনে হয়ে গিয়েছে ! কেও বসেমদ খাচ্ছে, সেটা সেই প্রথম দেখা । খাবারের অর্ডার গেলো, খাবার এলো। চুপচাপ খেলাম । সমস্ত এক্সাইটমেন্ট শেষ !এবার বিল দেবার পালা, বিল এলো, মেজদি দেখে নিয়ে পার্স খুলে পয়সা বার করতে গিয়ে দেখে, একটা একটা করেচুড়ী,বালা, গলার হার,কানের দুল বেরুচ্ছে পার্স থেকে !! নো পয়সা !! মেজদিকে দেখলাম চুপ করে পার্স নিয়ে বসে আছে,জানতে চাইলাম, কি হয়েছে ? তখন আমার হাতে দিলো পার্সটা, দেখে তো আমার হাত পা ঠান্ডা ।
ভুল করে টাকার ব্যাগ আলমারিতে রেখে গয়নার ব্যাগ নিয়ে এসেছে মেজদি ! মেজদি তখন আমার ওপোর ক্ষেপে গেছে, বারনকরলে শুনবেনা, পার্ক স্ট্রিট ঘুরতে যাবে, চাইনীজ খাবে, এবারে সামলা ! বিলক্ষন ঘাবড়েছি । হঠাত্ সেই পড়শী ভাবী বলল,এই তো রাস্তার ঐ পারে আমাদের দোকান, আমি গিয়ে টাকা নিয়ে আসছি, তোমরা বসে গল্প কর ! বসে তখন এক নি:শ্বাষে আল্লাহ এর নাম জপে যাচ্ছি । মেজদি গুম ! ঐ শীতের রাতেও ঘেমে সারা দুজনে ! কাঁচের দেয়াল দিয়ে দেখতে পাচ্ছি, ভাবী হেঁটে রাস্তা পার করল, দোকানের সামনে গিয়ে দাঁড়াল, এবার টাকা নিয়ে ফিরে আসছে...

বাড়ি ফিরে কাওকে বলিনি ঐ ঘটনা বহুদিন, মেজদা পরদিন জিজ্ঞেস করেছে, কেমন হল তোমাদের বেড়ানো? বলেছি খুব ভাল!চাইনীজ খেয়েছি তাও বলেছি, ফেরার পথে মেজদি পান খাওয়ায়নি সেই অভিযোগ ও করেছি !! কিন্তু স্পিকটি নটabout the bill ...
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ড. ইরফান আল-হোসাইনীর রহস্যজনক মৃত্যু - জীবনের চেয়ে কোনো সম্পর্ক বড় নয়

লিখেছেন এমএলজি, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪০

= ড. ইরফান আল-হোসাইনীর রহস্যজনক মৃত্যু - জীবনের চেয়ে কোনো সম্পর্ক বড় নয় =

বিশ্বখ্যাত আমেরিকান বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি এনভিডিয়া (NVIDIA)-তে কর্মরত, বুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং অত্যন্ত সম্ভাবনাময় তরুণ বিজ্ঞানী ড.... ...বাকিটুকু পড়ুন

জলসার আসর

লিখেছেন নিচু তলাৱ উকিল, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:১০

রঙ্গিন শহররের বুকে তাম্বু টাঙিয়ে বসিয়েছি জলসার আসর।
ধর্মীয় বয়ানের ফাঁকে;
গলির মাথায় বেজে উঠছে উলুধ্বনি।
এদিকে তুমি আর আমি ডুবে আছি কলকির ধোঁয়ায়।
নোনতা ঘামের ব্যবচ্ছেদে পুটিমাছের বুক চিরে মেখে দিয়েছি পাঁচ প্রহরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

হয় না দেখা আর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩


কতদিন হলো, হয় না দেখা
রঙধনু মেলা, শীত কাটে না
আর ঐশ্বর্য উষ্ণ বেলা
চঞ্চলতায় টিপুটিপু খেলা;
বিস্মৃতির পাতায় ডুবে যাচ্ছে
চাঁদ না দেখার আর্তনাদ,
ভেঙ্গে পরেছে অমোঘ
অপেক্ষায় দীর্ঘশ্বাস ঘুণ ধরেছে
নুনে পরেছে সময়ের ছলনা
মুখ ফিরেছে বাতাসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ শেষ জীবনে

লিখেছেন সামিয়া, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৯



ঘুমিয়ে থাকা একজন মানুষ কখনো কখনো জেগে থাকা একজন মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ভালো থাকতে পারে? কথাটা শুনতে অদ্ভুত। কিন্তু বয়স হলে মানুষ অনেক অদ্ভুত কথাই বিশ্বাস করে চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রপতি পদে আনভীর সোবহানকে দেখতে চাই।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২


সায়েম সোবহান আনভীর। এক বিশাল বিজনেস টাইকুন, বসুন্ধরা গ্রুপের যোগ্য কান্ডারী। আহা, কী তার ব্যক্তিত্ব! দেখতে যেমন সুন্দর, চরিত্রও যেন মাশাআল্লাহ্ ফুলের মতো পবিত্র। আর বসুন্ধরা গ্রুপের কথা তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×