উড়ালপুল থেকে চোখে পড়ে, ন্যাড়া গাছের ডালগুলো ভরে উঠেছে গাঢ় লাল পলাশে। এখনও সেভাবে ফোটেনি, শুধু ফুটতে শুরু করেছে, গাছের ডালে ডালে আগুন লাগলো বলে। ফাগুন এসেছে এই শহরেও। দ্রুতগতিতে ছুটে চলা টি-২ ত্বরিতে পেরিয়ে যায় একের পর এক পলাশের গাছ, আরও নাম না জানা সব গাছ, যারা জানান দিচ্ছে, ফাগুন এসেছে।
জানালার ওপাশে জামডালে নতুন পাতা আসছে। ছোট্ট ছোট্ট পাতারা উঁকি দিচ্ছে পুরনো পাতার ফাঁক দিয়ে। কোকিলটা আবার ফিরে এসেছে। ঘড়ির কাঁটা ৩টের ঘর ছোঁয়ার আগেই ডেকে ওঠে সে। আমি বুঝতে পারি, আলো ফুটতে আর বেশি দেরি নেই। এবারে এই কোকিল যেন অনেক শান্ত। তার ডাকে কোন হাহাকার নেই। এখন সে গান শোনায়। চীৎকার করে কান ঝালাপালা করে না। এবারে কি সাথে তার নতুন সাথী ? নাকী এখনও তার সময় আসেনি সাথী খোঁজার, তাই সে শান্ত!
চুরি যাওয়া পুকুর পারে এখন আর বাচচাদের ক্রিকেট খেলা হয় না। ওদের সকলেরই এখন বৎসরান্তের পড়ার তাড়া। ব্যাট বল তুলে রেখে পড়ুয়ারা ব্যস্ত পড়ার বইএ।
এবছরের মত সাঙ্গ হল বইমেলা। বইএর উৎসব। কিছু বই হাতে পেয়েছি, যার একটা পাতাও এখনও পড়ে ঊঠিনি। শুধু পাতা উল্টে যাই। যাব ভেবেও যেতে পারিনি শেষ দু'দিন। এই জ্বর। আমাকে ছাড়ে না। ধরে রাখে বিছানায়, লাল কম্বলে। আমার অনিচ্ছায়। জানালা দিয়ে আকাশ দেখি। এই জামগাছ, পুকুরপাড়ে দেওয়ালের ধার ঘেঁষে পড়ে থাকা ঐ গাছ বড় বেশি তোমার কথা মনে পড়িয়ে দেয়। জান, সেদিন দেখলাম, পেছনের ওই খেজুরগাছে হাঁড়ি বেঁধে একজন নামছে ! তার মানে এই গোটা শীত সে রোজ দু'বার করে এই গাছে উঠেছে, কিন্তু আমি একবারও দেখিনি তাকে।
খুব ইচ্ছে করছিল জানো, গিয়ে তাকে বলি, আমায় এক গ্লাস রস দেবে! মন চলে যায় জয়দেবের মন্দিরের পথে। লাল মাটির দেশে। পাহাড়ের বুক চিরে যেখানে বয়ে চলেছে সুবরণরেখা। ( বানানটাকে কি করি? হচ্ছে না কিছুতেই!)
কেটে ফেলে রাখা গাছে সেদিন এসে বসলএক নীলকন্ঠ পাখি। সে কী নীলকন্ঠই ছিল? হ্যাঁ সে নীলকন্ঠই তো। সেবার এই পাখিটাকেই তো তুমি দেখিয়েছিলে, আলাপ করিয়ে দিয়েছিলে, এমুপরী, এই দেখ, নীলকন্ঠ পাখি! ছোট্ট দেখতে আরও একটা পাখি এসে বসে, আমার সাথে এখনও ওর আলাপ হয়ে ওঠেনি।
গতকাল রামা'র সাথে আলাপ হল। অদ্ভুত গল্প শোনাল রামা, ও নাকী টিকটিকি, আরশোলাদের সাথে গল্প করে! আর জানো, আমি সেটা বিশ্বাসও করলাম। রামার সাথে তোমার দেখা হলে তুমিও ওর কথা বিশ্বাস করবে। রামা মিথ্যে কথা বলতেই পারে না। রামা'র মত মানুষেরা মিথ্যে কথা বলে না। রামা'র সাথে কথা বলতে বলতে, ঠিক বলতে বলতে নয়, ওঁর কথা শুনতে শুনতে আমার বারে বারে শুধু তোমার কথাই মনে পড়ছিল।
বাড়ি ফেরার মানসিক প্রস্তুতি চলে অবিরাম। সাথে সাথে হিসেব নিকেশ ও চলে, ক'দিন কোথায় থাকবো, কোথায় কোথায় যাবো। কেন এই হিসেবগুলো মাথায় আসে? বাড়ি যাওয়ার এত যে তাড়া, ওখানে গেলে পরেই আবার ঠিক উল্টোটা শুরু হয়ে যায়, তখন আবার এখানে ফেরার চিন্তা। কী অদ্ভুত না?
বেণীমাধব, বেণীমাধব তোমার বাড়ি যাব।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ দুপুর ১:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


