
রাত।
মধ্যরাতের পরের সময়টা খুব বেশি অদ্ভুত। রাতজাগা মানুষগুলোর জন্য। বিষণ্ণতায় ভোগা মানুষগুলোর জন্য। যেচে পড়ে মন খারাপ করা দলের মানুষগুলোর জন্য।
মানুষ স্বাভাবিক ভাবে একাকীত্ব মেনে নিতে পারেনা। চায় না। কিন্তু রাতের বেলা যেন পৃথিবীর সবচাইতে মিশুক মানুষটাও যেন একা হয়ে পড়ে। চমকে দিয়ে হঠাত বেজে ওঠা নাইট গার্ডের বাঁশির তীব্র শব্দই একমাত্র সঙ্গী। অথবা মধ্যরাতে স্যান্ডেলের খস খস শব্দ তুলে মোড়ের দোকান কিনে আনা বেনসনের গুমোট ধোঁয়া। একেকটা টানে নিঃসঙ্গতাকে পুড়িয়ে ছাই করে ফেলার ইচ্ছেটা প্রকট হয়ে উঠে নিজের অজান্তেই। অনিদ্রাকে সঙ্গী করে নেয়া মানুষ গুলো যেন নিষ্ঠুর আনন্দ পায় চোখের নিচে কালি ফেলে। জগতটাকে চোখের নিচে পড়া কালির অদৃশ্য দাগে লিখে দেখাতে চায়- ‘দেখো! দিনশেষে আমি কত একা’
ফেলে আসা স্মৃতির ডায়রির পাতা উল্টানোরও সময় হয় রাত গভীর হওয়ার সাথে সাথে। ঘুম ঘুম ভাব হওয়া ঘুম না আসা চোখে নতুন পাতায় লেখার চাইতে যেন পুরনো গল্প গুলোই পড়তে বেশি ভালো লাগে। নিষ্ঠুর কোন অতীত, ছাই চাপা পড়ে যাওয়া কষ্ট কিংবা ধুলো পড়া কোন মন ভালো হয়ে যাওয়ার গল্প।
নিজের সাথে যুদ্ধ করে টিকে থাকার এক লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে হয় নিজের অজান্তেই। সারাদিন সমাজের সামনে শক্ত ব্যক্তিত্বের অধিকারী মানুষটিও যেন ভেঙে পড়ে একলা, অন্ধকার ঘরে। কিন্তু, কিন্তু তাকে ভোর হওয়ার আগেই নেমে পড়তে হয় নিজেকে নতুন করে তৈরি করে নেয়ার কাজে। আরো একটা দিন নিজেকে শক্ত দেখানোর অভিনয়ে। কিন্তু সেই অভিনয়ের পুরস্কার দেয়ার জন্য কোন কমিটি নেই, নেই কোন সোনালি স্ট্যাচু কিংবা জনসভার হাততালি।
দিনভর হেভিমেটালে মাথা ঝাঁকানো ছেলেটাও যেন রাতের বেলা আশ্রয় খুঁজে নেয় ডেনভারের মৃদু সুরে গাওয়া গানে- ‘কান্ট্রি রোড, টেক মি হোম। টু দ্যা প্লেস আই বিলং…ওহ কান্ট্রি রোড’। ঘরে থেকেও ঘরে ফেরার ইচ্ছে কেবল এই অদ্ভুত সময়ের অদ্ভুত ছেলে-মেয়েগুলোরই হয়।
প্রিয়জন থাকার ভাগ্য খুব কম থাকে নিশাচর মানুষের। রাতের বেলা হয়তো, হয়তো তাকে ফোন দিয়ে মৃদু সুরে বলতে ইচ্ছে করে- ‘আমার মন ভালো নেই’। আর কিছু না।
যা কিছু বলার দায়িত্ব এখন ফোনের ওপাশের মানুষটার।
রাত। বড় অদ্ভুত সময়!
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০১৬ রাত ২:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




