আমার দিনলিপি
সুধী পাঠক, সালাম/নমস্কার/আদাব। অনেকে আমার লেখার টাইটেল দেইখা টাস্কি খাইতে পারেন। কিন্তু কি করুম ্কন্, দেশে যে হারে রাজাকারের বংশবৃদ্্বিহইতাছে, মুক্তিযোদ্্বা টাইটেল ্দিলে হয়ত কেউ পড়বইনা।
যাই হোক, আপনারা সবাই আমারে চেনেন- নাম শেখ হাসিনা। বর্তমানে বহুত ব্যস্ত, তাও লিখতে বসলাম। 1947-71, অনেক দীর্ঘ সময়। আমার মরহুম পিতা বংগ বন্দ্বু অনেক কষ্ট করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। অথচ অনেক বদমাশ তাকে বলে বংগ শত্রু। আমারেও অনেকে বলে- আমি নাকি অশালীন ভাষায় কথা বলি। শুয়র হাইকোর্ট আমারে কয় আমি নাকি 'রং হেডেড', কত বড় সাহস। অবশ্য আমার ভক্তগোষ্ঠির লাঠি মিছিলের কারনে শালারা ভালোই ভয় পাইছিল, কি যে মজা লাগছিল তখন। আসি মুল কথায়- স্বাধীনতার পর বাপে কত কষ্ট করলেন মাইনষের লাইগা, যদিও অনেকে বলে- তিনি এবং তার সাংগপাংগরা অনেক অপকর্ম করছিল। ক্ষমতায় থাকা কালে রক্ষীবাহিনী করলেন, বাকশাল কায়েম করলেন, দলীয় পত্রিক ছাড়া সব নিষিদ্দ করলেন । রক্ষী বাহিনী র সহায়তায় অনেক ভিন্নমতাব ল ম্বীদের জাহান্নামে পাঠানো হল- তাও পারলামনা নর্মূল করতে। উলটা নিমক হারামেরা আমার গুষ্ঠিশুদ্দ নির্মূল কইরা দিছে(2 জন বাদে)। এই দু:খ কেমনে ভুলি, কন ্। কিন্তু তারা কেন এই কাম ্করল, এই প্রশ্ন আমাকে কইরেন না, তা হইলে আমার রাগ আরো বাইড়া যাইব, তখন কিন্তু আমার স্বভাব দোষে গালাগালি করুম।
যাই হোক, 75 এর পর সেই যে অপেক্ষার শুরু, কবে আসুম খেম্তায়, আর এইদেশের সব হারামীদের উপর প্রতিশোধ নিমু, এই প্রতীক্ষায় কাইটা গেল অনেকগুলো বছর।গাদ্দার জিয়া মরল, বড়ই সুখ পাইলাম , আইল আমার পেয়ার এর দোস্ত হোমো এরশাদ, কইলাম ' আই এম নট্ আন হ্যপি'। পল্লী বন্দুর সাথে গোপনে দোস্তি করছিলাম, ভাবছিলাম ভাগে যোগে খামু। বেটা বহুত বাইনচত্, মুলা দেখাইয়া কাটাইয়া দিল প্রায় 8বছরের মত। ভাগ দেয়াত দুরে থাক, হারামি সুযোগ পাইলে দিত কঠিন মাইর। একবার চট্টগ্রাম লাল দিঘীর সমাবেশে গুলি চালাইয়া প্রায় পঁচিশজন নির-অপরাধ নেতা-কর্মী হত্যা করেছিলো- অবশ্য এখন ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ওরে আঁচলের তলে জায়গা দিছি, আপনারা কেউ এতে মাইন্ড করলে কিন্তু খবর আছে। যাই হোক, যখন দেখলাম, দোস্ত গোস্ত কুট্তাছে, তখন হাত মিলাইলাম আমার বাপের খুনীগো লগে- হালা হোমুরে যেমনে হোক নামামু। মনে মনে ভাবছিলাম-এহন এক সাথে আছি, ক্ষমতায় যাইয়া লই, সব হালাগো রস বাহির করমু। আইল 91 এর নির্বাচন। আবার বাধা হইয়া দাড়াইল কুত্তার বাচ্চা জনগণ, আশার বুকে ছাই, শুরু প্রতীক্ষা, কিন্তু কত দিন ধৈর্য ধরি কন্। এত কিছুর পরও আমি আশাহত হয় নাই - ' ক্ষমতায় থাকি আর না থাকি, এই দেশের নিমক হারাম মানুষগুলোরে এক মুহূর্তশান্তিতে থাকতে দিমুনা, এই হইল মোর আজন্ম সংকল্প'। তাই সুক্ষ কারচুপির অভিযোগ তুইলা মোর ওপারের বন্দু এবং বাম চরমপনহিদের সহায়তায় চালাইলাম- হরতাল, অবরোধ এবং জ্বালাও পোড়াও নীতি- হারামির বাচ্চা পাবলিক, মোরে ক্ষমতায় না পাঠানোর মজা বুঝ্।শেষ পর্যন্ত আসল সেই শুভক্ষণ, 96 এর ইলেকশন। পাবলিক্রে ধোকা দেয়ার লাইগা ওম্রাহ করলাম, মাথায় নিলাম হিজাব, হাতে তসবিহ্, টিভিতে মাফ চাইলাম। ইলেকশনে তাও যে রকম সিট পামু ভাবছিলাম, তা পাইলাম না। তবু খুশি, আমার পুরান দোস্ত হোমুরে সাথে নিয়া বসলাম বহুত প্রতিক্ষীত ক্ষমতায়।শুরু হইল আমার প্রতিশোধ মিশন। ভিন্নমতের লোকদের সাইজ করার জন্য সংসদে পাস করলাম 'জন নিরাপত্তা আইন'। কি যে প্যাদানি দিছিলাম, সব গুলা ঘরে ঢুইকা গেছিল, আইনটা ব হুত কামে দিছিলো-যদিও কিছু বদ্মাশ এটার বিরুধীতা করছিলো। সেই সাথে একুশ বছরের ক্ষুধা নিবারনের জন্য অনেক বড় বড় পদক্ষেপ নিয়েছিলাম- ফ্রিগেট, মিগ-29 ইত্যাদি। দেখতে দেখতে কখন যে পাঁচ বছর পার হইয়া গেল, বুঝতেই পারলাম না। কথায় বলে সুখের দিন তাড়াতাড়ি চলে যায়। সে যাই হোক,কি ভাবে ক্ষমতা চিরসহায়ী করা য়ায়, এই জন্য নিজের পছন্দমত প্রধান উপদেষ্টা, নির্বাচন কমিশনার, ডিসি, এসপি, ম্যাজিষ্ট্যাট- সব সেট করলাম। কান কাটা কুত্তা বিরুধীদল অনেক ঘেউ ঘেউ করতাছিল, কে হুনে কার কথা, ডান্ডায় সব ঠান্ডা। ছাড়তে হইল ক্ষমতা - ইস্ কি যে কষ্ট।
তত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা নেয়ার পর প্রথম বাজ্টা পড়ল মাথায় যখন দেখলাম বেঈমান লতিফুর প্রশাসনের সব সাজানো লোকদের ওলট পালট কইরা দিল- এমন তো কথা ছিলনা, হারামির বাচ্চা ।
ব্যটা আবার কইল গণভবন ছাড়তে- হায় কারে গোপালী জামাই ভাইবা বসাইলাম! এত বড় দৃষ্টতা কি সহ্য করা যায়? দাঁতে দাঁত চিপলাম,মনে মনে কই- খাড়া দেহাইতাছি, ভোট হইয়া লক।বেশ সুন্দর ভাবেই নির্বাচন হইল। এই প্রথম ভুলে সত্য কথা কইলাম টিভিতে- 'নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠ এবং নিরপেক্ষ হয়েছে'- ইস্ কিযে ভুল করলাম জীবনে, সারা জীবন এর লাইগা পস্তাইতে হইতাছে। যতই রাত বাড়ে, দেখি চারদলীয় বজ্জাতদের আসন বাড়ে! আমারতো পাগল হওয়ার জোগাড়। দৌড় দিয়া গেলাম বিশ্বাসঘাতক প্রেসিডন্টের সা,উ, এর কাছে- নির্বাচন বাতিল করতে হবে। কইলাম- তোরে আমরা গদিতে বসাইছে, আমগো কতা না হুনলে খবর আছে। ব্যটার নাম শুনলে এখন গা জ্বলে। হেই ব্যটা উল্টা ঝাড়ি দিয়া দুর দুর করে তাড়িয়ে দিল- বড় অপমান আর রাগ হইল। ভাবছিলাম বেটা আমার দলের, যেমনেই হোক, আমারে জিতাইয়া দিব, সব গুঁড়েবালি। চারিদিক অন্ধকার, আমার আর ঘুম আসেনা।
চলবে---
এখন ব্যস্ত, সময় মত কমেন্টের উত্তর দিব।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জানুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৭:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


