হঠাৎ করে পাল্টে গেল নাটকের দৃশ্যপট। মঞ্চে আর্বিভূত হলেন বিদেশী কূটনীতিক্রা। তারা সম্মিলিত ভাবে নির্ধারন করলেন বাংলাদেশের ভাগ্য। ইয়াজউদ্দিন আউট, ফখরুদ্দিন ইন্। হায়রে দেশ, আমরা নিজেরা মিলে কোন সমস্যার সমাধান করতে পারলাম না, এগিয়ে আসতে হল বিদেশীদের । স শস্র বাহিনীর সাথে বৈঠক করে তারা যে সিদ্্বান্ত দিলেন, তাই বাস্তবায়ন করা হল, মাঝখানে ঝরে গেল অনেকগুলো প্রাণ, অপুরনীয় ক্ষতি হয়ে গেল দেশের অর্থনীতির।আমাদের রাজনীতিবিদ্দের প্রতিহিংসাপরায়নতা এবং সীমাহীন ক্ষমতার মোহের কারণে আজ দেশের স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন। তাদের সীমাহীন দূর্নীতির এবং অতিমাত্রায় বিদেশীদের উপর নির্ভরশীলতার কারনে দেশের দন্ডমুন্ডের কর্তা সেজে বসে আছে বিদেশি মিশনের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তারা। হয়তো সেই দিন খুব দুরে নয়, যে দিন আমাদের অবস্থা হবে ইরাকের মত (সেই দিন যেন কোনদিন না আসে)।
সকল রাজনৈতিক দলগুলোর অংশ গ্রহণে নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য পশ্চিমাদের ছুটাছুটিকে ঠিক সন্দেহমুক্ত দৃষ্টিতে দেখা ঠিক হবেনা। পাকিস্তানে পারভেজ মোশাররফ যখন ক্ষমতা দখল করেন তখন তাদের কোন তৎপরতা চোখে পড়েনি, কারণ তিনি তাদের স্বার্থ রক্ষার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্্ব। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, মহাজোট তাদের স্বার্থরক্ষার শতভাগ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাই তারা মহাজোটের সকল দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন। সর্বশেষ সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে নির্বাচন স্থগিত করাতে বাধ্য করেছেন। এই হস্তক্ষেপের জন্য দুটি জোটের অনমনীয় মানসিকতা , মাত্রাতিরিক্ত ক্ষমতালিপ্ষা এবং মহাজোট তাদের দাবীর ব্যাপারে বার বার অবস্থান পরিবর্তন মূলত: দায়ী। দেশের রাজনীতিতে এই বিদেশী হস্তক্ষেপ বর্তমান পরিস্থিতিতে মহাজোটের বিজয় মনে হলেও দীর্ঘ মেয়াদি রাজনীতির ক্ষেত্রে কতটুকু দেশের কল্যাণ বয়ে নিয়ে আসবে, তা যথেষ্ঠ প্রশ্নসাপেক্ষ।
সবার শেষ কথা হলো, দেশে সব দলের অংশগ্রহনের মাধ্যমে একটি অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গনতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকবে, এটাই সকলের প্রত্যাশা।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জানুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৫:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।







