
পরিত্যাক্ত জমিটা পড়ে আছে বাড়ির পেছনটায় -
আজ অনেকদিন হলো। একই রকম।
এক টুকরো মাটি ছাড়া কিইবা আর।
তাও দখলদার নিজের অধিকার ফলিয়েছে,
বাঁশের বেড়া দিয়ে, সাইনবোর্ড দিয়ে।
জমিটা কিন্তু কিছুই বলে না। করেও না।
যতজনকে পেরেছে, আশ্রয় দিয়েছে তার বুকে।
ঝোপঝাড় গজিয়ে একাকার।
যেন শহুরে জঙ্গল এক। রাত হলেই শিয়াল ডাকবে।
শিয়াল ডাকে না, তবে ঝিঁঝিঁর ডাক শুনি।
সাঁঝ ঘনালেই একঘেয়ে শব্দটা উঠে আসে
আমার তেতলার বারান্দায়।
জমিটা চুপ করে থাকে।
সদম্ভে তার চারদিক চেপে ঠেলে উঠেছে আকাশচুম্বী বাড়িগুলো।
কত মনোহর তাদের রঙ।
রাত হলেই জানালারূপী চোখগুলো জ্বলে ওঠে এক এক করে।
তাদের তেরছা দৃষ্টি পড়ে শূন্য এ জমিটায়।
তাতে আরও আঁধার ঘনায়।
ঝিঁঝিঁর ডাক একটু বিশ্রাম নেয়।
তারপর আবার...
কে যেন একটা ব্যাডমিন্টন কোর্ট বানিয়েছে।
তাদের ঝোলানো বাতিতে সন্ধ্যায় জমি ঝলসে ওঠে।
নানান মানুষের পদভারে প্রাণ ফিরে পায় ক্ষনিকের তরে।
জমি হেসে ওঠে। সে-ও তো সঙ্গ চায়।
আবার ক্রিকেটও খেলে শিশুরা - বিকেল বেলায়।
এটাই ওর জন্য শ্রেষ্ঠ সময়।
শিশুরা ওর ঝোপঝাড় ওপড়ায়, বেড়া ভাঙ্গে।
জমি যেন আরও খুশি হয় তাতে।
আহা..! করুক না একটু।
তবুও তো ওর মাটি মাখা বাচ্চা বাচ্চা হাতগুলো।
কারা যেন একগাদা আবর্জনা ফেলেছে।
জমিটা কুঁকড়ে যায়।
নোংরা ও সহ্যই করতে পারে না।
তা-ও আশপাশের বাড়িগুলো
ওর ওপর যা ইচ্ছা ছুড়ে ফেলে।
ও যে পরিত্যাক্ত, আর বাকিরা আলিশান।
কিন্তু অসহায়ের মত জমিটা নোংরা মেখে শুয়ে থাকে।
সবুজ ঝোপগুলো আবর্জানায় কালচে হয়।
জমিটার বুক দুরুদুরু করে-
শিশুর দল কি আসবে? এই ময়লামাখা মাটিতে?
ওর জীবনের এই একটাই সুখ।
তাও কেড়ে নেবে ওই আলিশান দালানগুলো?
তারপর...
রাত পোহায়। সকাল দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামে।
হই হই করে বাচ্চাদের দলটা এসে থমকে দাঁড়ায়।
একি...! এত্ত আবর্জনা...!!
খেলবে কোথায় ওরা।
উৎকন্ঠায় জমিটা কাঁপতে থাকে।
সেই কম্পন যেন ছড়িয়ে পড়ে শিশুমনে।
ওরা হাত ধরাধরি করে বেড়ার ফটক পার হয়।
তারপর এক এক করে ময়লাগুলো সরিয়ে রাখে।
ঝুঁড়ি খুঁজে আনে একটা বাচ্চা।
সব আবর্জনা পরিষ্কার হয়ে যায় আস্তে আস্তে।
বাচ্চারা খেলার হুল্লোড়ে আবার মেতে ওঠে।
আমি ওপর থেকে স্পষ্ট দেখতে পাই,
পরিত্যাক্ত জমিটার ধুলোমাখা মেটে শরীরে
বয়ে যাচ্ছে প্রশান্তির হাসি।
#কাব্যতাড়না
৮ জুন, ২০১৭/ রাত ১:১৫ মিনিট
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুন, ২০১৭ রাত ১:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




